আগামীর যে প্রত্যাশা যে স্বপ্ন, তা বহুলাংশে বিএনপির রূপরেখায় প্রতিফলিত হয়েছে – জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৫০, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আগামীর যে প্রত্যাশা যে স্বপ্ন, তা বহুলাংশে বিএনপির রূপরেখায় প্রতিফলিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
কাউন্সিল নয়, আন্দোলনই বিএনপির টপ প্রায়োরিটি, বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, আপাতত কাউন্সিল নিয়ে ভাবছে না বিএনপি। এই সরকারের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের আন্দোলনই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

১৯ ডিসেম্বর (সোমবার) রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান। এসময় তিনি বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন, ঘোষিত ২৭ দফা রূপরেখা, রূপরেখার কার্যকারিতা, আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

৩০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আপনারা, সেই গণমিছিল কি যুগপৎভাবে শুরু হচ্ছে?

আমির খসরু: হ্যাঁ, যুগপৎ। এটা সবার পক্ষ থেকে ঘোষণা হয়েছে।

সবাই কি একই ব্যানারে নামবে নাকি নিজ-নিজ ব্যানারে?

আমির খসরু: নাহ্। যুগপতের অর্থই হচ্ছে— যার যার অবস্থান থেকে এবং যারা এই লক্ষ্যে, এই সরকারের বিরুদ্ধে, এদেশের মুক্তির আন্দোলনে নেমেছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হবে।

এরপরের কর্মসূচিগুলো কীভাবে আসবে?

আমির খসরু: এগুলো আগামীতে জানানো হবে। এগুলো এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি আসবে। আন্দোলনের নিজস্ব গতি-প্রকৃতি সবকিছু বুঝে আমরা কর্মসূচি দেবো। ৩০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি আমাদের সামনে আছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের যুগপৎ আন্দোলনে এই রূপরেখা কতটা প্রভাব বিস্তার করবে?

আমির খসরু: অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে। যুগপৎ আন্দোলন এবং জনমনে একটা পরিষ্কার চিত্র— আগামী দিনের বাংলাদেশ কী রকম হবে। আমরা মনে করি, আগামীর যে প্রত্যাশা যে স্বপ্ন, তা বহুলাংশে বিএনপির রূপরেখায় প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান, সহিংসতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। এই রূপরেখায় কি রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কোনও অবস্থান আছে?

আমির খসরু: পরিষ্কারভাবে আছে। ‘রেইবো নেশন্স’ একদিকে, অপরদিকে এর বাস্তবায়নে হচ্ছে ন্যাশনাল ‘রিকনসিলিয়েশন কমিশন’। দেশের শান্তি ও প্রগতির জন্য, রেইবো নেশন্স সবাইকে নিয়েই।আমাদের লক্ষ্য, এই বার্তাটা পরিষ্কারভাবে দেওয়া যে, দেশ এভাবে চলতে পারে না। বিরোধিতামুখর রাজনীতি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না।’

আমরা তো দেখি, এই বিভাজন নিয়মিত। যেমন- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের একটা বড় মতাদ্বৈধতা আছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো এক জায়গায় আসতে পারেনি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে মতানৈক্য, সেগুলো কিভাবে মিটমাট করবেন?

আমির খসরু: এগুলো তো মিটমাটের কোনও বিষয়ই না। বাংলাদেশের যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা কিভাবে হয়েছে, কারা অংশগ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে, মুক্তিযুদ্ধের যে প্রত্যাশা, তা কতটুকু পূরণ হয়েছে? এগুলো হচ্ছে, রাজনৈতিক সহিংসতা তখনই কমবে, যখন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক অর্ডার থাকবে দেশে। এখন আমরা আমাদের কথা বলবো, উনারা উনাদের কথা বলতে পারে। কিন্তু এর জন্য তো সহিংসতার প্রয়োজন নেই। এটা জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। এই কালচারটা আনতে হবে৷ দুই পক্ষ এক জিনিস চিন্তা করবে, এটা তো ভাবার কোনও কারণ নেই। অনেকেই বলে থাকে জাতীয় ঐক্যের কথা, জাতির কয়েকটি মৌলিক বিষয় আছে, এগুলো ঠিক আছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিভেদ তো থাকবেই। বিভিন্ন মতামত থাকবে রাজনৈতিকভাবে। সুতরাং, সব কিছুরই ভিন্নমত থাকবে, ভিন্ন চিন্তা থাকবে, এখানে তো কোনও অসুবিধা নেই। এটার জন্য তো সহিংসতার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে একটা সহিংসতা তো ঘটে গেছে?

আমির খসরু: এটাই বলছি, যারা সহিংসতা করছে, তাদের সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওদের সঙ্গে আমাদের ভিন্ন মত ভিন্ন পথ থাকবেই রাজনৈতিকভাবে। এর জন্যই তো আলাদা পার্টি হয়েছে। কিন্তু এর জন্য তো সহিংসতা প্রতিহিংসার প্রয়োজন নেই। তারা যেটাতে জড়িয়ে যাচ্ছে, সহিংসতা-প্রতিহিংসার দিকে যাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কথা বলছি, তাদের কোনও কথা থাকলে তারা বলতে পারে। এবং দিনের শেষে একটা নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যখন তার প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, সেখানে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর বিশ্বাস থাকতে হবে। তারা তো সেই অবস্থা থেকে সরে যাচ্ছে।

তাহলে আপনি মনে করছেন, রাজনীতিতে অনাস্থা দূর করতে সাহায্য করবে ২৭ দফা?

আমির খসরু: হ্যাঁ, অবশ্যই। এর জন্যই তো রূপান্তরমূলক যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, এগুলোর মাধ্যমেই তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকার কথা নয়। আমরা এখানে যে কথাগুলো বলেছি, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে কী আছে— আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ যদি সঠিক বিচার প্রয়োগ করে, সঠিক বিচারক থাকে, তাহলে সব জনগণ সমান বিচার পাবে। অর্থনীতিতে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, তাহলে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষ তার ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি যার যার পেশা সে করতে পারবে। এবং রাজনীতিতেও ভোটাধিকারের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তাদের যে প্রত্যাশা, তাদের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটা যদি তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে, সেখানেও কোনও সমস্যা থাকবে না। এ বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করেই তো আমরা গণতন্ত্রমূলক সংস্কারের কথা বলেছি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ না করে যেন স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হয়।

আপনারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনবেন। সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করবেন—এই বিষয়গুলো কতখানি বাস্তবসম্মত?

আমির খসরু: এগুলো কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু এগুলো করতে হবে। এগুলো ছাড়া তো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, নতুন প্রজন্মের যে বাংলাদেশ, সেটা প্রতিষ্ঠা পাবে না। এগুলো যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে দেশের জন্য দুঃসংবাদ আছে। এগুলো করতেই হবে। বাংলাদেশে যার টাকা-পয়সা নাই, যাদের পেশিশক্তি নাই, যাদের প্রভাব প্রতিপত্তি নাই, তারা কি রাজনীতিতে, রাষ্ট্র পরিচালনায়, আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করতে পারবে না? তাদের জন্য উচ্চকক্ষের বিষয়টি আনা হয়েছে। তারা সেখানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। রাজনীতিতে একটা পজিটিভ ইফেক্ট আসবে।

এটাই আপনাদের আসল উদ্দেশ্য?

আমির খসরু: আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে—রাজনীতিতে একটা পরিচ্ছন্ন, নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন, সংবিধানকে রক্ষা করার প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ করার জন্য, এগুলো আমাদের নিশ্চিত করা না গেলে, তাহলে নতুন প্রজন্মের যে আকাঙ্ক্ষা— এগুলো বাস্তবায়ন কে করবে? এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আপনাদের মূল নেতা চেয়ারপারসন শর্তসাপেক্ষে গৃহবন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে নির্বাসিত, আপনাদের মহাসচিব কারাগারে। সামনের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে আপনাদের দাবি এবং আন্দোলন বাস্তবায়নে কতটা ভরসা রাখেন?

আমির খসরু: এখানে দুটি বিষয়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আন্দোলন সফলভাবে চলছে। দেশের মানুষ এটা প্রমাণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ ১০টা সমাবেশে সব বাধা উপেক্ষা করে এসেছে, তা সবই হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। উনিই তো নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং, আন্দোলনের ব্যাপারে কোনও সমস্যা নেই। আন্দোলন চলছে। আন্দোলন পরবর্তী নির্বাচন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে আমরা যাবো না। নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে একটি সরকার নির্বাচিত করবে। একটা সংসদ নির্বাচিত করবে। সেখানে বিএনপি যদি জয়ী হয়, তাহলে তো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের উপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। এটাকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো এত সহজ না।’

আমির খসরু: এটা তো তিনিই (প্রধানমন্ত্রী) ভালো বলতে পারবেন। ‘সহজ নয়’ বিষয়টি তো আমি বলতে পারবো না। আমি আমারটা বলতে পারি।

বিষয়টি কি আপনাদের নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)?

আমির খসরু: আমরা তো উনার নেতৃত্ব নিয়ে কোনও আলাপ করছি না। উনি দেশের জন্য যে খারাপ কাজ করছেন, আমরা এগুলো বলছি। তার নেতৃত্ব থাকবে নাকি তার ছেলের নেতৃত্ব থাকবে, আমরা তো এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করছি না। বিএনপির নেতৃত্ব বিএনপির সিদ্ধান্ত। খালেদা জিয়া বিএনপির নেতা। তার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সুতরাং, আওয়ামী লীগের কী চিন্তা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে, সেটা নিয়ে তো আমাদের মাথাব্যথা নেই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার সালমান তারেক সাকিল
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার সালমান তারেক সাকিল

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি যায়নি। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা দাবি আদায় না হলে যাবেন না বলেছেন। সেক্ষেত্রে সামনের নির্বাচন কি হতে পারে?

আমির খসরু: আমাদের পরিষ্কার কথা বিএনপি থেকে, জনগণকে বাইরে রেখে কোনও নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। এ ধরনের খেলাধুলা অনেক দিন চলেছে। জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল করার প্রক্রিয়া তারা করেছে, এটার দিন শেষ হয়ে গেছে।

আপনি দলের ফরেন উইংয়ের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। রূপরেখা নিয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বন্ধুদেশগুলো মতামত জানিয়েছে কি?

আমির খসরু: অবশ্যই, তারা তো চায় আগামীর বাংলাদেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচিত হোক। যেহেতু তারা আমাদের পার্টনার, বাংলাদেশের উন্নয়নে যারা পার্টনার, সবকিছু মিলেই তো পার্টনার। তারা তো চাচ্ছেই আগামীর বাংলাদেশ এখান থেকে বেরিয়ে আসুক। তারা নির্বাচিত সরকারের কথা বলছে, মানবাধিকারের কথা বলছে, গুড গভর্ন্যান্সের কথা বলছে। তারা চাইবে এখান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ একটা সঠিক পথে ফিরে আসুক।

ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিল শনিবার (২৪ ডিসেম্বর)। আপনাদের কাউন্সিলের সময়সীমা পার হয়ে গেছে অনেক আগে। কাউন্সিল নিয়ে বিএনপির কী চিন্তা?

আমির খসরু: কাউন্সিল নিয়ে মাথাব্যথা নাই এই মুহূর্তে। এখন আমরা সবাই আন্দোলনে আছি। এটাই হচ্ছে টপ প্রায়োরিটি।
বাংলা ট্রিবিউন

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com