আগাম বৃষ্টিতে ডেঙ্গুরোগী বাড়ার শঙ্কা, উদ্বেগ ডিএনসিসি প্রশাসকের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আগাম বৃষ্টিতে ডেঙ্গুরোগী বাড়ার শঙ্কা, উদ্বেগ ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২২, ২০২৫ ১১:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২২, ২০২৫ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
এ বছর গরমের আগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ডিএনসিসির সব নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং মাতৃসদন কেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশান-২ নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ডিএনসিসির আওতাধীন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকের প্রতিনিধি এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ বছর আমাদের গরমের আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টির ফলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃষ্টির পরের পরিস্থিতি এই শহরে আমরা সবাই মিলে মোকাবিলা করার চেষ্টা করবো। আসলে এডিস মশার লার্ভা বাসা-বাড়িতে জন্মায়। আমাদের কর্মীরা নিরাপত্তার জন্য বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আগামী সপ্তাহে সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু করবো। এক সপ্তাহ ক্যাম্পেইনের পরে লার্ভা পেলে জরিমানা করা হবে।

মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব দক্ষ টিম তৈরি করার বিষয়ে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের পরিবর্তন হয় কিন্তু মাঠ পর্যায়ের তেমন কোন কর্মী পরিবর্তন হয় না। আমরা প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে থাকি, তবে থার্ড পার্টিরা মূলত ব্যবসা করার জন্য আসে। অতীতে সিটি করপোরেশনে কাজ করতে এসেছে তারা বড় ধরনের সিন্ডিকেট করেই কাজ করতে এসেছিল। এসব বন্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে আমরা মশক নিধন কার্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েছি।

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এসময় উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন খাল পরিষ্কার ও মশক নিধনের জন্য মাঠ পর্যায়ের যেসব কর্মী আছেন তাদের জনপ্রতি বিল দেওয়া হয় ১৭-১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এই কর্মীরা আসলে পান ৬-৮ হাজার টাকা। প্রায় ১০ হাজার টাকা নাই। এক হাজার লোকের ১০ হাজার টাকা নাই মানে কোটি টাকার বাণিজ্য। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সরাসরি বিল দেব। এর ফলে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ন্যায্য বিল পাবেন। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা ভবিষ্যতে কাজ করব। আমরা থার্ড পার্টি বা আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোকে তাদের কমিশন দিয়ে দেব কিন্তু তারা (কোম্পানিগুলো) মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের লিস্ট, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে দেবেন। সিটি করপোরেশন মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা দিয়ে দেবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কমিউনিটিকে বলছি, আপনাদের এলাকায় বা রোডে যে ব্যক্তি মশার ওষুধ ছেটাচ্ছেন তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা যদি সেখানে না যায়, ওষুধ না ছেটায় আমাদের জানাবেন। আপনাদের কাছ থেকে তাদের (কোম্পানিগুলোর) কাজের রিভিউ আমরা পাব। যদি কোন কারণে মাঠ পর্যায়ে কোন অনিয়ম পাই তাহলে কোম্পানিগুলোর অ্যাগ্রিমেন্ট বাতিল করে দেব।

সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ