একজন দানবীর হাজী মুহসীন - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৪৯, মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

একজন দানবীর হাজী মুহসীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০২৪ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০২৪ ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

 

বাঙ্গালি মুসলমানই শুধু নয়, এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক, দাতব্য কর্মকাণ্ডে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি- সেই তালিকায় শীর্ষে থাকা একটি নাম হাজী মুহাম্মদ মুহসীন।

নিজের সকল সম্পত্তি দান করা, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারে ব্যয় করার জন্য এই অঞ্চলে ‘দানবীর’ হিসাবে খ্যাতি পেয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মুহসীন।

অকৃতদার, অবৈষয়িক মুহসীন তার জীবনে বহু দেশ ঘুরেছেন। জীবন সম্পর্কে তার গড়ে উঠেছিল আলাদা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি।

ফলে তিনি যখন বোনের কাছ থেকে বিপুল সম্পত্তির মালিক হলেন, কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলোর দানপত্র লিখে দিয়ে কোরান শরীফ কপি করে বাকি জীবন কাটিয়েছেন।

হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের জন্ম হয়েছিল ১৭৩২ সালের পহেলা অগাস্ট, কারো কারো মতে ৩ জানুয়ারি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে। তবে হুগলির ইমামবাড়ার তথ্য অনুযায়ী, তার জন্মসাল ১৭৩০।

তিনি অবশ্য তখনো হাজী হয়ে ওঠেননি, হজ করার কারণে সেই পদবি পেয়েছেন আরও প্রায় ২৮ বছর পরে।

তার পরিবারের পূর্বপুরুষরা পারস্য বা ইরান থেকে ভারতবর্ষে এসেছিলেন।

হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের দানের ইতিহাস জানতে হলে জানতে হলে ফিরে যেতে হবে সতেরোশ শতকের গোড়ার দিকে।

‘দি মহসিন এনডাউমেন্ট অ্যান্ড দ্যা প্রোসেস অফ এডুকেশন ইন কলোনিয়াল বেঙ্গল’ গ্রন্থে কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন লিখেছেন, সতেরোশো শতকের মাঝামাঝি মুহসীনের পিতামহ আগা ফজলুল্লাহ তার তার তরুণ পুত্র ফয়জুল্লাহকে নিয়ে ইরান থেকে বাণিজ্য করতে এসে মুর্শিদাবাদে বসবাস করতে শুরু করেন।

কিছুদিন পরে তিনি হুগলির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বুঝতে পেরে ছেলেকে মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব দিয়ে হুগলিতে চলে আসেন। ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় তিনি পরবর্তীতে ছেলেকেও হুগলিতে নিয়ে আসেন।

প্রায় একই সময় দিল্লির মুঘল দরবার থেকে হুগলিতে আসেন আগা মুহাম্মদ মোতাহার। তিনিও পারস্য থেকে এসেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইতিহাসের বইগুলোতে। হাজী ফয়জুল্লাহ তার বোনের ছেলে ছিল বলে একাধিক বইতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাজী মুহাম্মদ মুহসিন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার একজন প্রখ্যাত মুসলিম জনহিতৈষী, ধার্মিক, উদার ও জ্ঞানী ব্যক্তি, যিনি তাঁর নিজের দানশীলতার মহৎ গুণাবলীর জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন।যদিও তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, যার ফলস্বরূপ তিনি সেসময়ে বিপুল সম্পত্তি আয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই বিপুল সম্পত্তির মালিকানা হয়েও তিনি কেবল একটি খুব সহজ ও অযৌক্তিক জীবনযাপন করেননি, বরং তিনি যথাযথ শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা এবং দরিদ্র মানুষের দুর্দশা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য তার সম্পত্তির বিশাল আত্মত্যাগ করেছিলেন।
দানশীলতার কারণে তিনি কিংবদন্তীতে পরিণত হন এবং বর্তমানেও দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার হয়ে থাকে। হুগলি মহসীন কলেজ এবং হুগলি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয় এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে খুলনা দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএনএস হাজী মহসিন-এর নাম তার স্মরণে রাখা হয়েছে। মহসিন ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় ১৮৭৪ সালে ঢাকায় ঢাকা মোহসীনিয়া মাদ্রাসা (বর্তমানে ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ), চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সরকারি মাদ্রাসা (বর্তমানে হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ) এবং রাজশাহীতে রাজশাহী মাদ্রাসা (বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী) প্রতিষ্ঠিত হয়।খুলনা খালিশপুরে ১৯৬৯ সালে মুহাসিন নাইট কলেজ শুরু হয় এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়।

মহসিন ফান্ড হল উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে হাজী মুহাম্মদ মহসিন দ্বারা প্রবর্তিত একটি তহবিল।এটি ১৮০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে প্রবর্তিত হয়।মুহম্মদ মুহসিন ১৮০৬ সালের ২০ এপ্রিলে হুগলিতে অছিয়তনামা রেজিস্ট্রি করেন, এই অছিয়তে তিনি এইসমস্ত অর্থ মুসলিম শিক্ষা ও সমাজসেবার কথা বলে যান। সেই সময়ে দ্য মহসিন এনডাউমেন্ট নামক ফান্ডে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা জমা ছিলো। ১৮১০ সালে দ্য বোর্ড অব রেভিনিউ ট্রাস্টের একজন সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৮১২ সালের ২৯ নভেম্বর মুহম্মদ মুহসিনের মৃত্যুর পরে ১৮১৭ সালে তৎকালীন গভর্নমেন্ট অব বেঙ্গল মুহসিন ফান্ডের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করে।আজ এই মহান ব্যাক্তিত্ব আমাদের মাঝে নেই তবে ভারত ও বাংলাদেশের খুলনা জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় বটবৃক্ষের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ।এখানেই তিঁনি অমর হয়ে অনন্ত কাল কালজয়ী হয়ে বেঁচে থাকবেন।
মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মহাসিয়ান
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি
Md Monzur
Md Monzur Hossain Esha
Write to Md Monzur Hossain Esha

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com