এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ ও জাতীয়করণের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ ৩:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ ৩:০৬ অপরাহ্ণ

এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ ও জাতীয়করণ এবং দুর্নীতি রোধের দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো)।
রবিবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বৈষম্য দুরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের একমাত্র উপায় জাতীয়করণ’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় এই দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম, আইন এবং একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিগণের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য বিরাজমান। বৈষম্যগুলো হল- বাড়িভাড়া, উৎসবভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি না থাকা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা, হাউজ লোন, বদলি ভাতা, চাকরি শেষে সেই পেনশনের সুবিধা।
তিনি বলেন, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের শিক্ষক-কর্মচারীগনের নিকট থেকে প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ হারে কেটে রাখলেও বৃদ্ধ বয়সে যথাসময়ে এ টাকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই।
অনেক অবসারপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান।
এছাড়াও, অধিকাংশ শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে চাকরি করেন, তাদের জন্য বদলী ব্যবস্থা চালু অতীব জরুরি। অধ্যক্ষ থেকে কর্মচারী পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও পাঁচশত টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসবভাতা পান। বিশ্বের কোনো দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় এত বৈষম্য নেই।
পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অনৈতিক হস্তক্ষেপ। এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ সুপারিশ করলেও নিয়োগ দিয়ে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় এমপিওভুক্তি শিক্ষা জাতীয়করণ জরুরি।
তিনি বলেন, জাতীয়করণ করা হলে গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী লাভবান হবে। মেধাবীরা এই পেশায় আরোও এগিয়ে আসবে। প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি আরোও বলেন, বঙ্গবন্ধু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণ সময়ের দাবি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ বলেন, আগেও আমরা দেখছি, শিক্ষকরা দিনের পর দিন এই দাবীতে পথে আন্দোলন করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হয় নি। এটাই দুঃখজনক।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড. হোসনে আরা, শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান মৃধাসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ