কবি আসাদ বিন হাফিজ এর মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোক - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৪২, শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কবি আসাদ বিন হাফিজ এর মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১, ২০২৪ ২:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১, ২০২৪ ২:৩৯ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
অনিবার্য ইশতেহারের কবি হিসেবে পরিচিত দেশের ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছড়াকার, সাহিত্যিক ও প্রকাশক কবি আসাদ বিন হাফিজ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

রোববার (৩০ জুন) রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কবির ছোট ছেলে আহমদ শামিল।

মরহুমের সালাতুল জানাযা আজ সোমবার জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে বাদ যোহর (জামায়াত ১.১৫) অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় সালাতুল জানাযা বাদ আসর ৫.৩০ গাজীপুর জেলা কালিগঞ্জের নিজ বাড়ি=সংলগ্ন বড়গাঁও বাইতুল উলুম আলিম মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শনিবার রাতে স্ট্রোক করে রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

আসাদ বিন হাফিজ ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত বড়গাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ হাফিজউদ্দীন মুন্সী এবং মা জুলেখা বেগম।

তিনি আদর্শিক দিক দিয়ে কবি ফররুখ আহমদের অনুসারী। তার সাহিত্যে বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ এবং বিপ্লবের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সৃজনশীলতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি ছিলেন ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছড়াকার ও সাহিত্যিক, প্রকাশক এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক (৩য়) পরিচালক। তার বহু ইসলামী গান ও কবিতা নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে।

তার সাহিত্যে বিপ্লবী চিন্তা-চেতনারও প্রকাশ ঘটেছে। তিনি ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কবি আসাদ বিন হাফিজ ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৩ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, গবেষণা, সম্পাদনা ইত্যাদি সাহিত্যের সব শাখাতেই কবি আসাদ বিন হাফিজ রেখেছেন তার অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। তিনি প্রায় ৮১টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। কবি আসাদ বিন হাফিজ তার বর্ণাঢ্য কর্ম ও সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কবি আসাদ বিন হাফিজের ইন্তেকালে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি যাকিউল হক জাকী, সেক্রেটারি মাহবুব মুকুল এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এড সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল-আমিন।

নেতৃবৃন্দ বলেন কবি আসাদ বিন হাফিজ সাহিত্যের সব শাখাতেই অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। দেশের সুস্থ ধারার সাহিত্য সংগ্রামে কবি আসাদ বিন হাফিজ এক কিংবদন্তী।তাঁর মৃত্যুতে একজন অসাধারণ মানবিক মানুষ ও দেশপ্রেমিক সাহিত্যরত্নকে হারালাম।
আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করুন।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ