কিশোরগঞ্জের সম্মেলনের আগে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নিতে ফজলুর আবেদন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের সম্মেলনের আগে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নিতে ফজলুর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ স্থগিত হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের অনুরোধ করব আমার স্থগিত আদেশ উঠিয়ে নিন। সামনে কিশোরগঞ্জ জেলা সম্মেলন। আমি দীর্ঘ আট বছর ধরে এই সম্মেলন করেছি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, আমাকে বলে আমি বাতিল হয়ে গেছি, কিশোরগঞ্জ সম্মেলনে যেতে পারব না। কে সহ্য করতে পারে এগুলা। আমিও তো মানুষ, এই দলের জন্য কি-না করেছি। জেল খেটেছি নির্বাসনে রয়েছি, দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার নামে ৩০০ বক্তব্য দিয়েছি। যেটি বিশ্ব রেকর্ড।

তিনি বলেন, আমার নেত্রী এখন সুস্থ, উনি জানেন না এটা। তারেক রহমান সাহেবের নামে আমি যে বক্তৃতা করি, বিএনপির নেতাদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজির বিরুদ্ধে আমি যে বক্তৃতা করি, এই বক্তৃতা কেউ করে না। একটা কথার জন্য আমাকে তিন মাসের জন্য দলের সব প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে স্থগিত করা হয়েছে। আদেশ দিয়েছেন আমি খুশি হয়েছি। এখন আপনাদের অনুরোধ করি সম্মেলনের আগে এটি তুলে দেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের দল গঠনের বিষয়ে ফজলু বলেন, মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে দেশে দল হবে। আপনি থাকবেন, আমি থাকব কিনা সেটা দেখা যাবে পরে।

তিনি বলেন, আমি তো বিএনপি করি, সামনে আমার সম্মেলন ২০ সেপ্টেম্বর। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে খালেদা জিয়া আমাকে বিএনপির আহ্বায়ক করে কিশোরগঞ্জে দল গঠন করে। আমি আহ্বায়ক ও কিশোরগঞ্জের সভাপতি ছিলাম। আমি হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। গায়ের রক্ত নিয়ে সম্মেলনে হাজির হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জে আট বছর আমি নেতৃত্ব দিয়েছি। কয়েকদিন পর সম্মেলন যেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসবে, আর আমি ঢাকায় বসে থাকব। যে বিএনপির জন্য আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। বিএনপি থেকে কেউ বলতে পারে না ফজলু সম্মেলনে আসুক। কেউ বলার লোক না। আমি তো জানি আছে।

ফজলু বলেন, একটা মানুষের যখন ৬০ বছর হয়ে যায়, তার আর সময় নাই। তার প্রতিটা সময় মহা মূল্যবান, এক মিনিট স্বর্ণের দামে বিক্রি হয়। আমার বয়স কিন্তু ৭৮ বছর, আমাকে তিন মাস ঘরে বসিয়ে রাখবেন, আমাকে কাজ করতে দেবেন না। আমার যদি নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, শাস্তি তো আমার হয়েছে। একদিনের জন্য হলেও হয়েছে। আজকে তো প্রায় একমাস হয়ে যাচ্ছে, চাইলে সম্মেলনের আগে আমার বরখাস্ত আদেশ তুলে নিতে পারে, কিন্তু এটা করবে না।

তিনি বলেন, যদি না করে সামনে আমার দুটি পথ- একটা হলো রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। আর একটা হলো রাজনীতি করতে হলে ভিন্ন পথ খুঁতে হবে। যদি বিএনপি আমার সাসপেনশন তুলে না নিয়ে বরখাস্ত করে।

এটা বললে আবার বলবে- কেন বললেন। তিন মাসেও যদি সাসপেনশন তুলে না নেয়। তার পরে আর রইল কি? তার পর তো জাতীয় নির্বাচন, ইলেকশনও করতে পারব না, কেন করতে পারব না? একটা ইলেকশানের জন্য আমার জীবন গেছে, আমার তো ৭৮ বছর বয়স। আমি তো আর জীবনে ইলেকশন করতে পারব না।তিনি আরও বলেন, আমি বিএনপির মতো দল করব না- এটি ফালতু কথা। তবে আমার জীবন থাকে আর বিএনপি যদি আমাকে দলে না নেয়, আমি না হয় বসেই রইলাম। এই দেশটার জন্য তো আমি যুদ্ধ করেছি, আমি না হয় তাদের কথা চিন্তা করে সব বাদই দিয়ে দিলাম। বাকি বিদেশে আছেন ২ কোটি মানুষ, আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এর ৯৯ শতাংশ মানুষ আমাকে সাপোর্ট করবে।

ফজলু বলেন, আমি আবারও বলে দিলাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটা দল হবে। এই দলটা যদি নির্বাচন করে, এই দলটা কিন্তু দাঁড়াবে। ইমরান খানের মতো দল হিসাবে দাঁড়াবে। প্রতিটি জায়গা থেকে একজন করে দাঁড়াবে। ৩০০ ক্যান্ডিডেট হবে আমি বলে দিলাম।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ