গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্র ও নির্বাচন: ফরহাদ মজহারের বিভ্রান্তিকর বয়ান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৭, রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্র ও নির্বাচন: ফরহাদ মজহারের বিভ্রান্তিকর বয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

 

সম্প্রতি বইমেলার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার দাবি করেছেন যে বাংলাদেশের নির্বাচন ‘সাংবিধানিক হয়নি’, তথাকথিত উপদেষ্টা সরকার ছিল অবৈধ, সেই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনও অবৈধ। তাঁর মতে নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; প্রকৃত কাজ হলো “রাষ্ট্র গঠন”—সরকার গঠন নয়। এমনকি তিনি এই পর্যন্ত দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ এখনো নাকি রাষ্ট্র গঠনের পর্যায়েই পৌঁছাতে পারেনি।
এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর নয়; এটি ইতিহাস, রাষ্ট্রতত্ত্ব এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির মৌলিক বাস্তবতাকেও অস্বীকার করে। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্র গঠন এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা—এই দুটি প্রক্রিয়া পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ। নির্বাচনকে অস্বীকার করে ‘রাষ্ট্র গঠনের’ কথা বলা মূলত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রধান সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করা। এতে গণতান্ত্রিক বৈধতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশ এখনো রাষ্ট্র হয়ে ওঠেনি—এমন দাবি ইতিহাসগতভাবেও অযৌক্তিক। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য হয় যখন তার নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনগণ, কার্যকর সরকার এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকে—যা আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রের মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। এই মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশ বহু আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ‘রাষ্ট্র গঠন এখনো বাকি’—এই ধরনের বক্তব্য বাস্তব বিশ্লেষণের চেয়ে বেশি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি তৈরি করে।
বাস্তবে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য কখনোই রাষ্ট্রকে অস্বীকার করা নয়; বরং রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক করে তোলা। তাই নির্বাচনকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র গঠনের বিমূর্ত তত্ত্ব দাঁড় করানো গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে স্পষ্ট করার বদলে তাকে অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর করে তোলে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই কাঠামোর ভেতরেই নির্বাচন, সংসদ ও সরকার পরিচালিত হয়।
অতএব আজকের বাংলাদেশে নির্বাচনকে অস্বীকার করে ‘আগে রাষ্ট্র গঠন’ করার দাবি রাজনৈতিক তত্ত্বের দিক থেকে একটি মৌলিক ভুল ধারণা।
আজকের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বৈধতা নির্ধারণ হয় তিনটি স্তরে—
১. অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক কাঠামো
২. গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
এই তিনটির সমন্বয়েই একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র—সংবিধান, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচনী কাঠামোসহ। ফলে ‘রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন অর্থহীন’—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের রক্ত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সম্মতি ও সমর্থন প্রদান করা হয়েছে। অথচ সেই সরকারকে অবৈধ বলা বিপ্লবী চিন্তার বিকৃতি।
আরও একটি গুরুতর সমস্যা হলো—কোনো গণঅভ্যুত্থানের পর যদি তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত সরকারকেই অবৈধ বলা হয়, তাহলে তার অর্থ দাঁড়ায় গণঅভ্যুত্থানকেই অকার্যকর বা অর্থহীন ঘোষণা করা, জনগণের বীরত্ব ও আত্মদানকে উপহাসে রূপান্তর করা।
রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, প্রায় সব বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের পর একটি অন্তর্বর্তী বা মধ্যবর্তী সরকার গঠিত হয়। সেটিই নতুন রাজনৈতিক বৈধতার সূচনা করে।
যদি বলা হয়—এই সরকার অবৈধ এবং এই সরকারের অধীন নির্বাচন অবৈধ—তাহলে কার্যত বলা হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের ফলাফলই অবৈধ। এটি কোনো বিপ্লবী অবস্থান নয়; বরং গণআন্দোলনের রাজনৈতিক অর্জনকে তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে দেওয়ার প্রবণতা।
অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ বলার রাজনৈতিক বিপদ;
রাজনৈতিক তত্ত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে—রূপান্তরকালীন বৈধতা (transitional legitimacy)।
গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর গঠিত সরকার অনেক সময় সম্পূর্ণ সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে জন্ম নেয় না। সেটি একটি রাজনৈতিক অনিবার্যতা হিসেবেই নৈতিক বৈধতা পায়।
যদি এই মধ্যবর্তী সরকারকেই অবৈধ বলা হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনকেও অবৈধ বলে দাবি করা সহজ হয়ে যায়। এভাবে ধাপে ধাপে পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করা হয়—যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ নয়; বরং রাজনৈতিক অরাজকতার পথ।
চরম রাজনৈতিক রোমান্টিসিজম ও রাষ্ট্রের ঝুঁকি;
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ বলা এবং সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ নির্বাচনকেও অবৈধ ঘোষণা করা আসলে এক ধরনের চরম রাজনৈতিক রোমান্টিসিজমের বহিঃপ্রকাশ।
বাস্তব রাজনীতির জটিলতা উপেক্ষা করে এমন অবস্থান গ্রহণ করা কেবল তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল নয়; বরং রাষ্ট্রের জন্যও বিপজ্জনক। কারণ আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থায় কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতার ওপর।
যদি ধারাবাহিকভাবে বলা হয়—সরকার অবৈধ, নির্বাচন অবৈধ, পুরো প্রক্রিয়া অবৈধ—তাহলে সেই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এর ফল হতে পারে গভীর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক আস্থাহীনতা এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর গুরুতর চাপ।

ফ্যাসিবাদী বয়ানের সঙ্গে বিপজ্জনক সাযুজ্য;
এই ধরনের বয়ানের আরেকটি বিপজ্জনক দিক রয়েছে।
যখন ধারাবাহিকভাবে বলা হয়—
বর্তমান সরকার অবৈধ
নির্বাচন অবৈধ
রাজনৈতিক কাঠামো অবৈধ
তখন বাস্তবে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অকার্যকর প্রমাণ করার এই বয়ান শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী শক্তির উত্থানের পথ খুলে দেয়।
অর্থাৎ বিপ্লবী ভাষায় উচ্চারিত হলেও এই ধরনের বক্তব্য কখনো কখনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির যুক্তিকেই শক্তিশালী করে।
রাষ্ট্র সংকট ও প্রয়োজনের নীতি;
সাংবিধানিক তত্ত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো Doctrine of Necessity।
এই নীতির মূল কথা হলো—রাষ্ট্র যখন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তখন রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য কখনো কখনো প্রথাগত সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। জনগণের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার প্রায়ই এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় এবং রাজনৈতিকভাবে বৈধতা লাভ করে।

আরও একটি মৌলিক সত্য হলো—কোনো বিপ্লবী চেতনা একদিনে বাস্তবায়িত হয় না, রাষ্ট্র একদিনে পুনর্গঠিত হয় না, রাষ্ট্রব্যবস্থাও একদিনে বদলে যায় না।
রাজনৈতিক রূপান্তর সবসময় একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া—যেখানে আন্দোলন, সংগ্রাম, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, নির্বাচন এবং নতুন সরকার—এই সবকিছু মিলেই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
কোনো গণঅভ্যুত্থানের ন্যূনতম আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্যই একটি জাতীয় সনদ প্রণীত হয়, জনগণের ভোটে একটি নতুন সরকার গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রকে ধাপে ধাপে সংস্কারের পথে এগিয়ে নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা থাকবে, ভুলভ্রান্তিও থাকবে। সেগুলোর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পথ।
কিন্তু যদি মূল কাঠামোকেই উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়—যদি সরকার, নির্বাচন এবং পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই অবৈধ বলা হয়—তাহলে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মঞ্চই আর অবশিষ্ট থাকে না।
রাষ্ট্র না থাকলে তত্ত্বেরও স্থান থাকবে না,
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক কাঠামো—যার ভেতরেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, মতাদর্শিক সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য সম্ভব হয়। রাষ্ট্রের স্থিতি নষ্ট হলে সেই বিতর্কের পরিসর বিলীন হয়ে যাবে।
অতএব যে রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে দাঁড়িয়ে কেউ তত্ত্ব ও সমালোচনার ভাষা ব্যবহার করছেন, সেই রাষ্ট্রকেই যদি ধারাবাহিকভাবে অবৈধ বলা হয়, তাহলে তা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
গণঅভ্যুত্থান কোনো রোমান্টিক কল্পনা নয়,এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা। এর লক্ষ্য রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা নয়; বরং রাষ্ট্রকে আরও ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক করা।
অতএব নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের বাস্তব প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে ‘নতুন রাষ্ট্র গঠন’–এর বিমূর্ত স্লোগান দেওয়া আসলে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি।

এই প্রেক্ষাপটে জনগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিপ্লবী ভাষার মোড়কে উপস্থাপিত তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকা। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, উচ্চকিত বিপ্লবী বাগ্মিতা অনেক সময় বাস্তব রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করে সমাজকে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক রোমান্টিকতার দিকে ঠেলে দেয়, যার পরিণতি শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে না; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে অযথা অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সুতরাং ফরহাদ মজহার-এর মতো প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও জনগণের উচিত তীক্ষ্ণ সমালোচনামূলক সচেতনতা বজায় রাখা। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব যদি রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে তা জ্ঞানচর্চা নয়—বরং বিভ্রান্তির উৎপাদন হয়ে উঠতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সরল: গণঅভ্যুত্থান কি বাস্তব গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ তৈরি করবে, নাকি বিপ্লবী বাগ্মিতার মোহে পড়ে আমরা আবারও তাত্ত্বিক বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় আটকে যাব? জনগণের সতর্ক বোধই নির্ধারণ করবে—গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ইতিহাসে অগ্রগতির ধাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি বাগ্মিতার কোলাহলে তার প্রকৃত অর্থ হারিয়ে যাবে।

লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ