গণতন্ত্রের পক্ষে বিদেশিদের কথা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ নয় : মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২২, বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্রের পক্ষে বিদেশিদের কথা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ নয় : মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
গণতন্ত্রের পক্ষে বিদেশিদের কথা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান। মঈন খান বলেন, ‘গণতন্ত্র সর্বজনীন বিষয়, এটার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। কেউ যদি বলে, অন্য দেশের কেউ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ- তা ঠিক নয়। পৃথিবীর সব দেশের নাগরিকদের অধিকার রয়েছে-পৃথিবীর প্রতিটির ভূখণ্ডের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার, প্রশ্ন তোলার। কোনো ভূখণ্ডে গণতন্ত্র নষ্ট হলে এটা পুরো পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জার্মানির বন শহরে আমরা বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতাকর্মী-শুভাকাঙ্ক্ষিদের আয়োজিত এক ওয়েবিনারে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, আজকে আমরা একটি জিনিস চাই, সেটা হলো এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার। যার জন্য জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এ দেশ ছিনিয়ে এনেছেন। বিএনপিও শান্তিপূর্ণ-গণতান্ত্রিক-নিয়মতান্ত্রিকভাবে জিয়াউর রহমানের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে। কারণ দলটি জিয়াউর রহমানের চেতনায় উজ্জীবিত।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, এখন দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকায় চরম স্বার্থকতা নয়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেও অজনপ্রিয়। তারা আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাদের সামনে পিছনে কোনো পথ নেই।

গণতন্ত্রের পক্ষে বিদেশিদের কথা অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ নয় : মঈন খান
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজকে অব্যাহতি
তিনি আরও বলেন, আজকে যখন বিরোধী দল গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন ১ লাখ ১০ হাজার মামলা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মামলা-হামলা-জুলুম-নিপীড়ন করে ক্ষমতায় থেকে জনগণের মন জয় করতে পারেনি। তারা জনগণের মনে জায়গা করে নিতে পারেনি, যেমনটি জিয়াউর রহমান ও তার দল বিএনপি করতে পেরেছে।

আজকে এই সময়ে এসে বাংলাদেশের তৃণমূলের মানুষ একাত্ম হয়ে গেছে বিএনপির একদফা আন্দোলনে। এটাই বিএনপির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বড় অর্জন বলে মন্তব্য করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আজকের আমাদের (বিএনপি) সমাবেশে লাখ লাখ লোক অংশগ্রহণ করেছে। তারা সবাই বিএনপির কর্মী নয়-তারা গণতন্ত্র-মানবাধিকার-ভোটাধিকারের জন্য বিএনপির সমাবেশে আসেন।

তিনি বলেন, যখন জিয়াউর রহমানকে আততায়ীরা শহীদ করেছেন- তখন কিছু বিশ্লেষক-পর্যবেক্ষক বিএনপিকে নিয়ে উক্তি করেছিলেন যে- জিয়াউর রহমান মারা গেছেন। এখন বিএনপিও মারা যাবে- বড়জোর দেড় মাসের (৪৫ দিন) মধ্যে বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু আজ ৪৫ দিন নয়, ৪৫ বছরেও বিএনপি বিলীন হয়নি, বরং আজও বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল জিয়াউর রহমানের বিএনপি। বিএনপি শুধু বিএনপি নয়, বিএনপি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ইনশাল্লাহ বিএনপিও ততদিন থাকবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে জিয়াউর রহমানের দূরদৃষ্টি ছিল, তার ক্ষমতায় সময় তিনি এসব বিষয়ে জোড় দিয়েছিলেন বলেও জানান মঈন খান।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখনই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। তখন বিদেশে খাদ্য রপ্তানিও করে। ওই সময় জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন আমার মরহুম পিতা আবদুল মোমেন।

বিএনপি ক্যান্টনমেন্টে জন্ম- আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের জবাবে মঈন খান বলেন, বিএনপির জন্ম যদি ক্যান্টনমেন্টে হয়ে থাকে তাহলে সেই ১৯৭৮ সালে জন্ম নেয়া বিএনপি কীভাবে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে? কীভাবে ভিন্নমতের জায়গা করে দিয়েছে? আর আওয়ামী লীগের প্রতিও একটি প্রশ্ন– তা হলো আপনাদের জন্ম তো রূপমহলে, তাহলে এ রকম একটি দল কীভাবে ১৯৭৪ সালে মাত্র ১১ মিনিটে সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে? সব দলকে নিষিদ্ধ করেছে? কেন একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছেন?

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদের পরিপূর্ণতা লাভ করেছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। যেখানে উগ্র জাতীয়তাবাদের কোনো স্থান নেই, যেমনটি আমরা জার্মানি-ইতালিতে দেখেছি।

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে এক দলীয় শাসনের কোনো সুযোগ নেই, এখানে বহুত্ববাদকে উৎসাহিত করেছে- যেখানে সর্বজনীনতা ফুটে উঠেছে। এ ভূখণ্ডের সব জনগোষ্ঠীকে একত্র করেছে, অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীকে সম্মানিত করেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদে চাকমা-মারমা ইত্যাদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ