গুলশানে বিলাসবহুল ভবনের বাসিন্দাদের তালিকায় টিউলিপের নাম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৩৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গুলশানে বিলাসবহুল ভবনের বাসিন্দাদের তালিকায় টিউলিপের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের নগরমন্ত্রী ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের ঢাকায় তার পরিবারের নামে নামকরণ করা একটি বিলাসবহুল ১০ তলা ভবনের বাসিন্দা হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফ ওই প্রতিবেদনে জানায়, গুলশানের বিলাসবহুল ১০ তলা ভবনের বাসিন্দার তালিকায় টিউলিপ সিদ্দিকের নাম ছিল। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে টিউলিপের পরিবারের নামে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, ঢাকার কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, ২০১৪ সালে সাবেক এই দুর্নীতিদমন মন্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা ছিল ‘সিদ্দিকস’ নামক ওই অভিজাত বিলাসবহুল ভবনে।

আদালতের কাগজপত্র বা সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ভবনটি বাংলাদেশে পঞ্চম সম্পত্তি, যার সাথে টিউলিপের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির সূত্রগুলো জানিয়েছে যে বাংলাদেশে টিউলিপের কোনো সম্পত্তি নেই এবং তার নিজের নয় এমন ঠিকানা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই।

টিউলিপ প্রায় এক মাস আগে নগরমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি এখনো তার সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় এবং বাংলাদেশে তার খালা শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার সাথে যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মানদণ্ডবিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস যখন জানতে পারেন যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দলের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির উপহার দেয়া একটি ফ্ল্যাট সম্পর্কে টিউলিপ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছেন, তখন তিনি টিউলিপকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কানাইয়ায় একটি পারিবারিক ছুটি কাটানোর আবাসস্থল, যার মধ্যে ‘টিউলিপস টেরিটরি’ নামে একটি প্লটও রয়েছে, তদন্ত করছে বলে প্রকাশ পাওয়ার একদিন পর, দ্য টেলিগ্রাফ ঢাকায় এই পঞ্চম সম্পত্তির সাথে টিউলিপের যোগসূত্রের খবর প্রকাশ করে।

একটি সরকারী নথিতে দেখা গেছে, বর্তমান ও স্থায়ী উভয় ঠিকানা হিসেবে এ সম্পত্তিটির উল্লেখ রয়েছে। নথিটি ২০১৪ সালের মে মাসে ক্যামডেনের কাউন্সিলর পদ থেকে টিউলিপের পদত্যাগের তিন সপ্তাহ পরে লেখা।

রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকার এ ভবনটি ২০১০ সালে নির্মিত হয়েছিল। তবে ভবনটির নামকরণ টিউলিপের বাবা শফিক আহমেদ সিদ্দিক অথবা তার দাদার নামে নাকি সাধারণভাবে পরিবারের নামে করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা সম্পত্তি ছাড়াও, আদালতের কাগজপত্রে গুলশানের অন্য একটি সম্পত্তি এবং ধানমন্ডিতে তার খালার বাড়ির সাথে টিউলিপের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঢাকায় পরিবারের অন্য এক সদস্যের সাথে তার আরো একটি ফ্ল্যাট ছিল, যার মূল্য এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি। ফ্ল্যাটটি সংসদের নিবন্ধন অনুসারে ২০১৫ সালে বিক্রি হয়।

টিউলিপ তার বাবার পারিবারিক বাড়ি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। বাড়ির বাইরের দেয়ালে এবং বাগানের সাইনবোর্ডে ‘টিউলিপস টেরিটরি’ লেখা রয়েছে। তবে তিনি এ সম্পত্তির মালিক নন এবং পুরো সম্পত্তি তার নামে- এ অভিযোগের বিরোধিতা করেন।

এদিকে রাশিয়ার সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি থেকে চার বিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল আত্মসাতের সাথে টিউলিপের জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ঢাকায় তার পরিবারের জন্য অবৈধভাবে জমি বরাদ্দে সহায়তা করতে প্রভাব ব্যবহার করার অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ