ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই সিলেট বিএনপি’র - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৭, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই সিলেট বিএনপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

২৮শে অক্টোবরের পর দৃশ্যপটে পরিবর্তন। কেউ কেউ রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় হন। গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকেই। গ্রেপ্তার এড়াতে টানা ৩ মাস ঘরের বাইরে কাটিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র বেশির ভাগ নেতা। এখন ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই চালাচ্ছেন। নিজেদের মুক্ত করতে দৌড়াচ্ছেন আদালতে। পলাতক থাকা বেশির ভাগ নেতা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নিচ্ছেন আগাম জামিনও। গত এক সপ্তাহে উচ্চ আদালত থেকে একডজন মামলায় শতাধিক নেতাকর্মী জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, কারান্তরীণ থাকা নেতাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন সিনিয়র নেতারা।

নিজেরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বন্দি থাকা নেতাদের দেখতে কারাগারেও যাচ্ছেন। ২৮শে অক্টোবরে ঢাকার ঘটনার পর সিলেট বিএনপি’র নেতারাও আন্দোলনে রাজপথে নামেন। প্রথমেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পঙ্কি। এরপর আন্দোলন করতে গিয়ে নানা সময় নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে এখনো কারাগারে রয়েছেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, নগর আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মুনিম মুমিন, নগর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান, নগর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আহসান রাব্বী।
তাদের সঙ্গে অন্তত সাড়ে ৩শ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা। গ্রেপ্তারের পর অনেককেই রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় মারধর করা হয় বলে বিএনপি’র নেতারা অভিযোগ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আইনি সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে; পরবর্তী সময়ে লন্ডনের নেতাদের আর্থিক সহযোগিতায় সিলেটে আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হয়। আর এই সেলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সিলেট বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ থেকে ৭ই জানুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত সিলেট জেলা ও নগর মিলে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধারায় এসব মামলা দায়ের হয়। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, নগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও আসামি হন। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা সবচেয়ে বেশি মামলায় আসামি হয়েছেন। কারান্তরীণ ছাত্রদল নেতা রাব্বির উপর একডজনের বেশি মামলা দায়ের করা হয়। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটে মামলা সত্তরের উপরে। আসামি কয়েক হাজার নেতাকর্মী। পুলিশের পক্ষ থেকে বেশির ভাগ মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় অন্তত সাড়ে ৩শ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখনো কারান্তরীণ দেড়শ’ নেতাকর্মী। কারাগারে থাকা সিনিয়র নেতারা একাধিক মামলার আসামি। এ কারণে তাদের জামিনে বিলম্ব হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলায় আসামি হওয়া নেতাদের সহযোগিতায় আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে। যারা সহযোগিতা চাচ্ছেন তাদের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এদিকে, সিলেট নগর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েস ও সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী নগরে আন্দোলন করতে ৫টি করে মামলার আসামি হয়েছেন। মিফতাহ ঢাকার মামলারও আসামি। তারা এখন উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেছেন। ঢাকায় অবস্থান করা রেজাউল হাসান লোদী কয়েস জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে যে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল সে মামলাগুলোর জামিন উচ্চ আদালত দিয়েছেন।

৬ সপ্তাহের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে হবে। এ ছাড়া নগর বিএনপি’র সিনিয়র নেতা মঈনুদ্দিন সোহেল, নজিবুর রহমান নজিবসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতারাও হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলা বেশি হওয়ার কারণে জামিন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানান, সামনে বিএনপি’র তরফ থেকে নানা কর্মসূচি আসছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে নেতাকর্মীদের জামিনে থাকতে হবে। বিএনপি আন্দোলনে আছে, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকবেন বলে জানান তিনি। এদিকে কারাবন্দি নেতাদের পাশে রয়েছেন সিলেট বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। গত শনিবার বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা নেতাদের দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। বিএনপি নেতা পাপলু জানান, কারাগারে বন্দি থাকা নেতাকর্মীদের দেখতে আমরা প্রায়ই যাচ্ছি। যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হচ্ছে। শনিবার দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা দেখে এসেছেন। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা নেতাকর্মীরা কষ্টে আছেন। অনেকেই মাসের পর মাস কারাগারে রয়েছেন। পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তাদের কষ্ট লাঘবে আমরা সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ