চবিতে বিতর্কিত দুই ঘটনায় ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার-শোকজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২৪, সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চবিতে বিতর্কিত দুই ঘটনায় ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার-শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

এক ঘটনায় একজন নেতাকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক হওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে, অন্য ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগে আরেক নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় নিজ ভাড়া বাসায় এক বান্ধবীসহ ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের কাছে আটক হন আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সংসদ তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে লিখেছেন, ঘটনার দিন তিনি ও তার এক বান্ধবী বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিকিট কেটে ডিনার করেন। পরে ব্যাগ আনতে বাসায় গেলে কিছু স্থানীয় যুবক তাকে অনুসরণ করে। তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই জোবরা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত কিছু লোক তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার সামনে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি তার বন্ধুকে নিজের বাসায় বসতে দেন। এরপর তিনি ওয়াশরুমে থাকাকালে কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় ঢুকে পড়ে এবং পরে তাকে মারধর করে। তিনি অভিযোগ করেন, তার শার্ট-প্যান্ট খুলে অপমানজনকভাবে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তার ও তার বান্ধবীর জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তার সহপাঠী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কিন্তু পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, একই দিনে চবি শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছেন, রাস্তাঘাটে হয়রানি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ওই শিক্ষার্থীর নামে আপত্তিকর ছবি প্রচার ও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শামীম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করছেন এবং তার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছেন। তিনি আরও জানান, ২ মে একটি ফেক আইডি থেকে তাকে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় এবং ১৮ মে তার নাম ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়ানো হয়, যা তিনি প্রক্টর ও থানাকে অবহিত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার তিন বছর আগে সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। তার দাবি, বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, ফেক আইডির মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়কে ভিত্তি করে তাকে দায়ী করা ঠিক নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দুই পৃথক ঘটনায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ