জাপানে নারী নেতৃত্বে বাধা : রাজনীতি করলে বিয়ে হবে না - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:২৬, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাপানে নারী নেতৃত্বে বাধা : রাজনীতি করলে বিয়ে হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
উন্নত দেশের তালিকায় নাম থাকলেও এখনো সেকেলে চিন্তাধারা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি জাপান। দেশটিতে নারী-পুরুষ বৈষম্যের হার ব্যাপক। এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারীদের প্রচারণা বেশ সীমিত। ইচ্ছা থাকলেও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই আসতে পারে না নারী নেতৃত্বে। এমনকি ‘রাজনীতি করলে বিয়ে হবে না’ হুঁশিয়ারির অভিজ্ঞতাও আছে সম্ভাবনাময়ী অনেক নারীর। এএফপি।

স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের আশায় বিদেশ থেকে নিজের শহর মিয়াকোতে ফিরে এসেছিলেন মাকোতো সাসাকি। কিন্তু রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগেই সবাই তাকে সংসারী হতে বেশি মনোযোগী হতে বলেন। এ প্রসঙ্গে সাসাকি এএফপিকে বলেন, ‘তারা বলেছিল, তুমি এত কঠোর পরিশ্রম করলে বিয়ে করতে পারবে না। সন্তান জন্ম না দিলে আমি সঠিক প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারব না। এটা ছিল খুবই বেদনাদায়ক।’ এরপর ২৭ বছর বয়সে সাসাকি নির্বাচনে লড়ে ২২ জন স্থানীয় কাউন্সিলরের মধ্যে একজন হন। মিয়াকোর কাউন্সিলে এখন মাত্র তিনজন নারী নেতৃত্বে আছেন। রাজনীতিতে জাপানের সিঙ্গেল মায়েদেরও রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। তেমনই একজন এরিকা সুমোরি। টোকিওর কাছাকাছি আতসুগি শহরের ৩৪ বছর বয়সি কাউন্সিলর। তিনি চান, নারীরা সামাজিক প্রত্যাশা ও সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যেন কাজ করার সুযোগ পান। এমনকি নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও তাকে তার পারিবারিক পরিস্থিতি লুকানোর কথা বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার শহর রক্ষণশীল, তাই (নির্বাচনের সময়) আমাকে প্রকাশ্যে সিঙ্গেল মাদার হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ না করতে বলা হয়েছিল।’ মঙ্গলবার জাপানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন সানায়ে তাকাইচি। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন তিনি। দেশটিতে নতুন এই নারী নেতৃত্ব ঘিরেই রাজনীতিতে নারীর পদচারণা নিয়ে আবার জমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তাকাইচি নারী হলেও তার রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে নারী নেতৃত্বের পথ আগের মতোই থেকে যাবে দেশটিতে।

জাপানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের কারণে সাধারণত নারীদের কাছ থেকে ঘরের কাজ প্রত্যাশা করা হয়। ফলে রাজনীতি, ব্যবসা এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের পদচারণা কম। নির্বাচনের আগে তাকাইচি নারীদের সমতা নিশ্চিতে তাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি মাত্র দুজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করেছেন, যা তার রক্ষণশীল ভাবধারার ফল। ২০২১ সালের সরকারি তথ্যানুযায়ী, জাপানে নারীরা দৈনিক ঘরের কাজ, সেবা, শিশু যত্ন এবং কেনাকাটায় গড়ে সাত ঘণ্টা ২৮ মিনিট ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষরা ব্যয় করেন মাত্র এক ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।

উলে­খ্য, ২০২৪ সালে জাপানে নিæকক্ষের নির্বাচনে যারা লড়েছেন, তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশেরও বেশি ছিলেন নারী। সরকারি তথ্যানুসারে, ধীরে ধীরে এই সংখ্যাটি বাড়ছে। যেখানে ২০০৫ সালে ১৩ শতাংশ নারী ছিলেন সেখানে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ