জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস জুগিয়েছিল: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস জুগিয়েছিল: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬ ৪:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬ ৪:১৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহস জুগিয়েছিল।’

বুধবার (২৬ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বসে জাতীয় সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে আমাদের গোটা জাতিকে একটা নতুন ভূখণ্ড, নতুন পতাকা এবং নতুন একটা পরিচিতির সুযোগ করে দিয়েছিল। একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারও পূর্বে বহু দিন ধরেই এ দেশের মানুষ স্বাধিকারের জন্য সংগ্রাম করছিল।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অসংখ্য মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছিল। পরে ২৬ মার্চ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতি মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। বিশাল একটি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা, এটা নিঃসন্দেহে এই জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। এ কারণে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে এত বেশি প্রাসঙ্গিক, অনুকরণীয় এবং স্মরণীয়।’

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নিজের কানে শোনার অনুভূতি প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই অনুভূতি এতটাই গভীর যে প্রকাশ করা কঠিন। সে সময়টা ছিল আমাদের একদম পূর্ণ যৌবন। আমরা তখন টগবগ করছি যুদ্ধের জন্যে, লড়াইয়ের জন্যে। দেশের মানুষও তখন দেশ স্বাধীনতার নেশায় লড়াই-সংগ্রামে নামতে মুখিয়ে আছে। অথচ কোনো দিশা নেই, দিকনির্দেশনা নেই। ঠিক সেই সময় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ভেতরে টগবগিয়ে উঠল, মনে হলো এই বুঝি মুক্তির দিশা মিলল।’

রক্তঝরা সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটি দেশের জনগণের স্বাধিকারের লড়াই-সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হয় না। আমরা সব সময় অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম, হয়তো লম্বা সময় লাগতে পারে, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন আমি সবে মাস্টার্স পাস করেছি। বয়স ২৫ বা ২৬ হতে পারে। আমি তখন ঠাকুরগাঁওয়ে ছিলাম। আমরা তখন তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমায় মুক্তিযুদ্ধপূর্ব আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাই এবং একটা বাসায় আশ্রয় নিই। তখনই জানতে পারি দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিরোধ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২৬ তারিখে রাত্রিবেলা আমরা প্রথম জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই। ২৭ তারিখে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা শুনতে পাই। এটা শুনেই আমরা সবাই রাস্তায় বেরিয়ে আসি। আমরা আমাদের পাশে থুকরাবাড়ী বর্ডার দিয়ে নাগর নদী পার হয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যাই। আমার পুরো ফ্যামিলিও ইন্ডিয়ায় চলে যায়। অর্থাৎ আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আমরা সবাই ওই পারে চলে যাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওখানে গিয়ে আমরা পরিচিতদের কাছে আশ্রয় নিই। পশ্চিম দিনাজপুরে ইসলামপুর শহর নামে একটি সাবডিভিশন শহরে আশ্রয় নিই। সেখানে দিলীপের সাইকেল স্টোর নামে একটি সাইকেল স্টোরে থাকি। এই দিলীপের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আমাদের পরিচয় হয়। সে আমাদের থাকার জায়গা দেয়। তার সাইকেল স্টোর আলমিরার পেছন দিকে একটু ছোট জায়গায় রাতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। জায়গাটা এত ছোট জায়গা যে কোনো রকমে মাথাটা রাখা যেত। আমার চাচা বাবলু মির্জাসহ সাতজন সেখানে থাকতাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তখন চেষ্টা করেছি ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের জন্য একটা ইউথ ক্যাম্প করতে পারি কি না। পরে পশ্চিমবাংলা সরকার আমাদের ইসলামপুর হাইস্কুলে শিফট করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানেই থাকতাম। আমরা বর্ডারে অর্গানাইজিং ইউথ ক্যাম্প তৈরি করি। একসময় বিহারের চিফ মিনিস্টার কর্পুরি ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের আরও কিছু ইউথ ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। আমাদের পরিধানের জন্য প্রয়োজনমতো পোশাকও দেন। এরপরে কয়েকটা ইউথ ক্যাম্প তৈরি হয়। বর্ডার এলাকায় একটা ক্যাম্পের নাম ছিল থুকরাবাড়ী ইউথ ক্যাম্প। থুকরাবাড়ী ইউথ ক্যাম্পে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অব ইন্ডিয়া বিএসএফের ক্যাম্প কমান্ডার সুভাসের নেতৃত্বে ট্রেনিং শুরু হয়। এরপরে আস্তে আস্তে যখন আরও অর্গানাইজড হয়, তখন ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট যুক্ত হয়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২৬ মার্চটা ছিল মূলত বিগিনিং এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে স্বাধীনতার ঘোষণা, সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। শুধু আমরা নই, দেশের সব মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ গত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫ বছর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে অস্বীকার করা হয়েছে। বাট দ্যাট ইজ দ্য রিয়েলিটি। শুধু আমার কথা নয়। ওই সময় যারাই ছিলেন তারা সবাই এটা জানেন। সত্যিকারের ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, “শেখ মুজিব ধরা পড়ে পাকিস্তানিদের হাতে চলে যান ‘সেন্স অব ডিরেকশনে’ (একক সিদ্ধান্তে)। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথমেই ইন্ডিয়াতে চলে যান। তারা প্রথম দিকে কোনো নেতৃত্ব দিতে পারেননি। ইন্ডিয়ায় গিয়েও তারা অনেক পরে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তখন আমরা যারা বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম, তারা আরেকটা বড় বিপদে পড়ি। আওয়ামী লীগ আমাদের ‘ওউন’ করতে চায় না। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে আমাদের বহু লোককে গ্রেপ্তার করায়। এমনকি আমাকেও বহুবার থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে। যে কারণে আমরা বাম সংগঠনগুলো মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে একটা ফ্রন্ট তৈরি করি। সেখানে হায়দার আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমেদ–সবাই ওই ফ্রন্টের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে হয়তো হতাশা এসেছে, কিন্তু তারপরে আস্তে আস্তে সেগুলো কেটে গেছে।” সূত্র: বাসস

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ