ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হবে: ফরহাদ মজহার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৪৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হবে: ফরহাদ মজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০২৪ ৫:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০২৪ ৫:০৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জনগণের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে বললেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের সংবিধান চালু আছে তা বাদ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২১ আগস্ট ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রতিবাদী নাগরিক সমাজ আয়োজিত ‘গণঅভ্যূত্থান ও আমাদের করনীয়’ শীর্ষক সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, বর্তমান সংবিধানের অধীনে যারা এখন উপদেষ্টা হয়েছেন তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের উপদেষ্ট। এই সংবিধান বাতিল করতে হবে। কেননা এটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সংবিধান। তাই এ সংবিধানতো মেনে নেওয়া যায় না। নতুন সংবিধানের আলোকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়ে ড. ইউনূসকে জনগণের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সংবিধানে আমাদের অলিখিত মনোভাবনাগুলো স্থান দিতে হবে।

বিএনপি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য সমাবেশ করে ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। এটি কেন করলো? আগে দেশের সংস্কার করতে হবে তারপর নির্বাচন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দাবি বিএনপির আরেকটি ভুল ধারণা। এই চিন্তা থেকে বের হতে হবে। কেননা গণতন্ত্র চালু থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকার নেই। তারেক রহমান আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সে যদি আমার বক্তব্য বুঝতে না পারে তাহলে আমি লন্ডনে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলবো বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দাম্ভিক হাসিনা তার পতনের কিছুদিন আগে ঘোষণা দেয় ‘হাসিনা পালায় না’। ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস এ ঘোষণার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় নির্লজ্জভাবে সে দেশে থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। বাংলাদেশের তরুণ ছাত্রসমাজ এই বিপ্লবের, এই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব প্রদান করে। ছাত্র-জনতার বহুত ত্যাগ তীতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে সূচনা হয় এক নবযুগের। বীরের এই রক্তস্রোত, মাতার এই অশ্রুধারা যায়নি বৃথা, যাবে না বৃথা।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বতীকালীন সরকারকে এক বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হবে। একটি স্থিতিশীল শৃঙ্খলাপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা সময় সাপেক্ষ হলেও অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। স্বৈরাচার পতনের অব্যহিত পরই এমন কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা দেখেছি যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি এত বড় একটি ঐতিহাসিক অর্জনের গুরুত্বকে ম্লান করে দিতে পারে।

এসময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কয়েকটি আশু দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে বলেও জানান। দায়িত্ব গুলো হলো:

অনতিলিম্বে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে; জুলাই-আগষ্টে সংগঠিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া হত্যা, লুটপাটসহ সকল ধরনের অপরাধের তদন্ত ও বিচার করতে হবে; বিচারহীনতার ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি জাতিকে সর্বদিক থেকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়ে একে সম্পূর্ণরূপে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে। সুতরাং, সরকারকে এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতে হবে; হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে; বিদ্যমান প্রশাসন কাঠামোতে কোন সুর্দিষ্ট কারণ ব্যতীত এ মুহুর্তে হস্তক্ষেপ করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত করা বা পুরস্কৃত করা- উভয় বিষয়েই বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে; যে কোন প্রকার বা যে কোন ক্ষেত্রেই হোক দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে হবে; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে; এবং শিক্ষাব্যবস্থা বলতে বাংলাদেশে আজ কোনকিছুর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিগত ফ্যাসিষ্টরা শিক্ষা নামক বিষয়টাকে হত্যা করেছে। সুতরাং, এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি একটি সর্বজনীন গণমুখী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বে শেখ হাসিনাকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, একটা বিপ্লব হয়ে যাওয়ার পর তা ধরে রাখা কঠিন। উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমালোচনা করে বলেন, তার কাছ থেকে সময় চাওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি আগস্টে কোন সময় দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে। আমরা সব উপদেষ্টার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবো, জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবো। আরেক উপদেষ্টা শেখ হাসিনাকে তাড়াতাড়ি দেশে আসার জন্য কান্নাকাটি করেছে, আবার মাফও চেয়েছে। আগামী ১০-১২ বছর এই নামটি (শেখ হাসিনা) মুখে আনবেন না।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই। এখানে জামায়াত-শিবির মন্দির পাহারা দিয়েছে। এর চেয়ে সম্প্রীতি আর কি হতে পারে?

চাঁদাবাজ ও দখলদার মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোন স্থানেই চাঁদাবাজ ও দখলদারদের স্থান হবে না। আমরা সবাই এদের প্রতিহত করবো।

তিনি আরও বলেন, আমি সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই কারো জীবন বাঁচানো আপনাদের দ্বায়িত্ব না, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আপনার দ্বায়িত্ব।

সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ বলেন, চতুর্থ শিল্পবিল্পবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা উপযোগী নয়। এজন্য শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন করতে হবে। তিনি প্রশাসনের সংস্কার সম্পর্কে বলেন, পুলিশ থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব পর্যায়েই সংস্কার করতে হবে।

দুটি প্রতিবিপ্লব সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টে ধানমন্ডি ৩২ থেকে একটি প্রতিবিপ্লব হওয়ার কথা ছিল। ছাত্ররা তা প্রতিহত করেছে। তা ছাড়া বিচার বিভাগীয় একটি প্রতিবিপ্লব করতে চেয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সেটি ছাত্ররা রুখে দিয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ