দেশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানদের প্রতিটি ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়া হচ্ছে : তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৪৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানদের প্রতিটি ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়া হচ্ছে : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মার্চ ১৩, ২০২৪ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মার্চ ১৩, ২০২৪ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

 

ডাঃ আব্দুল আজিজ
শুরু হয়েছে রাহমাত বারকাত মাগফিরাতের মাস পবিত্র রামাদান। প্রথম রমজানের প্রথম দিনের ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশের আলেম ওলামা এবং এতিম শিশুদের সঙ্গে দূর থেকে হলেও কথা বলতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের এই ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আলেম ওলামা এবং নিষ্পাপ এতিম শিশুদের দোআ ও মুনাজাতের মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমানের একটাই চাওয়া ইহকাল এবং পরকালীন কল্যাণ, শান্তি ও মুক্তি।

দেখতে পাচ্ছি এই ইফতার মাহফিলে অনেক এতিম শিশু উপস্থিত হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে আরো অনেক এতিম শিশুও ইফতার সামনে নিয়ে অপেক্ষা করছে। এতিম শিশুদের দেখে কিছুক্ষনের জন্য হলেও আমার নিজের কৈশোরের কথা মনে পড়ছে। আমিও আমার কিশোর বয়সে আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছিলাম। ইফতারের এই পবিত্র সময়ে আল্লাহর দরবারে আমি আমার শহীদ পিতা এবং পরলোকগত পৃথিবীর সকল পিতার মাগফিরাত কামনা করছি।

বছরের পর বছর ধরে প্রথম রমজানের প্রথম দিনে দেশের সম্মানিত আলেম ওলামা এবং প্রিয় এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে শরিক হতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু জালিমের জুলুমের শিকার হয়ে মজলুম নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বন্দি। এমনকি তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হচ্ছেনা। ইফতারের আগ মুহূর্তের এই পবিত্র সময়ে আমার মায়ের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোআ করার জন্য আমি আপনাদের সকলের কাছে বিনীত আহবান জানাই।

বিশ্বের প্রতি মুসলমানের কাছেই রামাদান মাস/অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ মাস। পবিত্র রামাদান মাসে মানুষ একটু শান্তি এবং স্বস্তিকর পরিবেশে রোজা রাখবে সেহরি করবে ইফতার করবে এবাদত বন্দেগী করবে প্রত্যেকটি মানুষেরই এমন আশা-আকাঙ্খা। যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত তাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের সুন্দর পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। কিন্তু এখন যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রয়েছে তাদের প্রথম এবং প্রধান শত্রু গণতন্ত্রকামী জনগণ। এরা জনগণের জন্য সুন্দর পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দূরে থাক বরং জনগণের সঙ্গে ঠাট্টা মস্করা করছে। এমনকি দেশের আপামর জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা মস্করা করতেও এদের বিবেকে বাধেনা।

যারা এই মুহূর্তে যারা ইফতার করতে বসেছেন আপনাদের সামনে ইফতারের প্লেটে খেজুর দেয়া রয়েছে। আপনারা কি সারা বছর এভাবে খেজুর খান? আমরা কি সারা বছর এভাবে খেজুর খাই? খাইনা। কারণ, রামাদান মাসে ইফতারের সময় খেজুর খাওয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। খেজুর দিয়ে ইফতার করা নবীজির সুন্নত। সাধারণ একটি ফল হিসেবে নয় নবীজির সুন্নত হিসেবেই মুসলমানগণ সাধারণত খেজুর দিয়ে ইফতার করেন। অথচ ডামি সরকারের একজন ডামি মন্ত্রীর জনগণকে খেজুরের পরিবর্তে ‘বরই’ খাবার উপদেশ দিয়েছেন। জনবিচ্ছিন্ন এইসব ডামি মানবদেরকে কে বোঝাবে/সব কিছুর ‘ডামি হয়না। সব কিছু নিয়ে মশকরা করা চলেনা।

পবিত্র রামাদান মাসের জন্য খেজুর আমদানিতে ভর্তুকি দিলে কি সমস্যা হতো? ভর্তুকি দূরে থাক, উল্টো খেজুরকে বিলাসী পণ্য হিসেবে গণ্য করে খেজুর আমদানির উপর শুল্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বিনাভোটের ডামি সরকার’ । খেজুর আমদানির উপর উপর ভর্তুকি না দিলেও ডামি সরকার সোনালী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংককে শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ আওয়ামী লুটেরা চক্র ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া বানিয়ে দিয়েছে। ফলে ডামি সরকার এইসব ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
ঋণ খেলাপি লুটেরা/টাকাপাচারকারীদের বাঁচিয়ে রাখতে ভর্তুকি দিলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইফতার করার জন্য খেজুর আমদানির উপর ভর্তুকি দিচ্ছেনা উল্টো বেশি করে শুল্ক আরোপ করেছে।

শুধু খেজুর নয় চাল-ডাল-লবন-তেল-চিনি-পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। প্রায় প্রতিটি পণ্যই জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। পবিত্র রমজান মাসেও দুর্নীতিবাজ ডামি সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কোথায় কোন দেশে যুদ্ধ হচ্ছে দুর্নীতিবাজ ডামি সরকার সেইসব অজুহাত তুলছে। অথচ, বাস্তবতা ভিন্ন।

এইতো আপনারা দু’তিন দিন আগে আগে গত শুক্রবার জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (ফাও) এর একটা রিপোর্ট দেখেছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে বিশ্ববাজারে টানা ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে খাদ্যপণ্যের দাম কম অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম কমা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত ৭ মাসে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, ভোজ্য তেলের দাম ১১ শতাংশ এবং মাংসের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

সারাবিশ্বে দাম কমলেও বাংলাদেশে কি কমেছে? কমেনি। কারণ বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে বিশ্ব পরিস্থিতির সম্পর্ক নেই। দেশে জিনিসপত্র দাম বাড়া – কমার সঙ্গে আওয়ামী লুটেরাদের সম্পর্ক। সুতরাং, আওয়ামী লুটেরা আর টাকাপাচারকারীদের দমন করা না গেলে কখনোই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবেনা।

দুর্নীতিবাজ ডামি সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। সম্প্রতি বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে ৪৭ জন মানুষে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে এর দায় দায়িত্ব ডামি সরকার এড়াতে পারেনা। একটার পর একটা অগ্নিকান্ড ঘটেই চলছে অথচ নির্বিকার ডামি সরকার। জনগণ বিশ্বাস করে, অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং তার দলীয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দুষ্ট রাজনীতি, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বহীনতা কিংবা উচ্ছেদ অথবা ভূমি -জমি দখলের অসৎ পরিকল্পনা। এ কারণেই গত ১৫ বছরে দেশে সংঘটিত একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনারও রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা বিচার হয়নি।
বেইলি রোডের ভয়ানক অগ্নকাণ্ডের পর ফ্যাসিবাদী
ডামি সরকার বর্তমানে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য নগরী জুড়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিদিন রেস্টুরেন্টের মালিক কিংবা কর্মচারীদের ধরছে, গ্রেফতার করছে, নগদ অর্থ জরিমানা করছে। যেখানে অভিযান সেখানেই অনিয়ম। এই সরকার গত ১৫ বছর কি করেছে? অবৈধভাবে যে সরকারের জন্ম সেই সরকারের পক্ষে নিয়মমাফিক কিছু করা সম্ভব নয়। ফলে বাধ্য হয়ে যেখানেই অভিযান চলে সেখানেই বেরিয়ে আসছে অনিয়ম। রেস্টুরেন্টে অভিযানের নামে হোটেল রেস্টুরেন্টের সাধারণ সাধারণ কর্মচারীদের গ্রেফতার এবং হয়রানি চলছে। এদের কি দোষ ? হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক কর্মচারীদের গ্রেফতার না করে বরং গত ১৫ বছরের বিনাভোটের এমপি মন্ত্রীদের গ্রেফতার এবং বিচার শুরু হলেই কেবল সকল প্রতিষ্ঠানেই,শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। দেশে ৯০ ভাগের বেশি মুসলমান। সুতরাং, আমরা দেখে আসছি, রমজান মাস জুড়ে সাধারণত সারাদেশের সকল স্কুল কলেজ কিংবা মাদ্রাসা সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতো। অথচ, এবার ব্যতিক্রম। ডামি সরকার রমজানের অর্ধেক মাস দেশের সকল স্কুল কলেজ মাদ্রাসা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, ডামি সরকার ধর্মীয় সংস্কৃতি সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় নিয়ে কি কারণে বিতর্ক তৈরী করতে চায়? আপনারা সুক্ষভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন, রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার নিয়ে শর্তারোপ অর্থাৎ বর্তমান ডামি সরকার বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় সংস্কৃতি বিশ্বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

আমি বিশেষ করে দেশের আলেম সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আলেম সমাজ যদি অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ বাড়াতে থাকে, আমরা যদি দেশে ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক -সচেতন না হই, আমরা যদি প্রায়োরিটি ইস্যু নির্ধারণ কিংবা করণীয় নির্ধারণে ব্যর্থ হই, তাহলে সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয় আমাদেরকেও হয়তো নিজ ভূমিতেই নির্যাতিত ফিলিস্তিনীদের ভাগ্যবরণ করতে হবে। সেই আলামত -সে লক্ষণ ক্রমেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ