দেশে ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন ছিলেন - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৬, বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশে ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

 

পর্ব নং ৪ —–
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
সন্মানিত পাঠক বৃন্দ – আস্ সালামু আলাইকুম।
আমার ধারাবাহিক গেল ৩ পর্বে ( তিন পর্ব) উল্লেখ করেছিলেন যে আগামী চতুর্থ পর্বে চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিষ্টার JHAO ZIYANG ( ঝাও ঝিয়াং) এবং সৌদি আরবের প্রধান খলিফা বাদশাহ্ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের সাথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে কেমন নিভীর সম্পর্ক ছিল তা নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে তুলে ধরবো।
কিন্তু লেখাটি আকারে দীর্ঘ হযে যাব ভেবে আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে শুধুমাত্র চীন ও চীনের সরকার প্রধান এবং চীনের জনগনের নিকট শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেমন সমাদৃত হয়ে ছিলেন। এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ পরবর্তীতে চীনের প্রধানমন্ত্রী মিষ্টার যাও ঝিয়াং তাঁর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শহীদ জিয়া কে নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন।
লিখনির শুরুতে সবার জ্ঞাতার্থে ( বিশেষ করে ১৮৮১ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা খুব খুব প্রয়োজন। আর তা হলো – ১৯৭৭ সালেে জিয়াউর রহমান চীন সফর করার পর পরেই চীনের সরকার রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২ রা জানুয়ারী রবিবার চীন সফরের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সেই শীতকালের ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত আবহাওয়ায় বাংদেশ বিমানে চড়ে রওনা করেছিলেন। চীন দেশে পৌঁচার পর সেখানকার হাঁড় কাপানো শীতের আবহাওয়া থাকা ( ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা) সত্ত্বেও চীনের সরকার খোলা আকাশের নিচে শত সহস্র চীনাবাসীর ( শিশু , কিশোর , কিশোরী, ছাত্র- ছাত্রী, যুবক-যুবতি ও আবাল বৃদ্ধ বনিতা সহ সর্বস্তরের চীনা নাগরিক সু সংগঠিত হয়ে চীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সকলের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কে এক অনাড়ম্বর সংবর্ধনা প্রদান করেছিলেন।
যা ছিল এশিয়ার দেশ সমুহের মাঝে এক বিড়ল ইতিহাস। শহীদ জিয়ার চীন সফর সমগ্র বিশ্ববাসীর নিকট ছিল এক অনন্য ইতিহাস। কারন স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ কে স্বাধীনতার ছয় (৬) বছর পর চীন রাষ্ট্রিয় ভাবে বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি প্রদান করেছিল।
১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানের সফরের ফলে বাংলাদেশ – চীন মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইল ফরক তৈরী হয়েছিল। শহীদ জিয়ার সেই এতিহাসিক সফরের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে চীনের কুটনৈতিক , অর্থনৈতিক , বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ার সহ বিশ্বের অনেক দেশের মোড়লদের কপালে ভাঁজ পড়েছিল।
শহীদ জিয়া চীন থেকে স্বদেশ রওনা হওয়ার আগে চীনের কেন্টনের কাছে একটি গন কমিউনিটি পরিদর্শন করেছিলেন। শহীদ জিয়া ঐ এলাকার পানি সংরক্ষণ , ও সেচ ব্যাবস্থাও গুরুত্বের সাথে পরিদর্শন করেছিলেন। উল্লেখ্য যে , এক্ষেত্রে চীনের পানি সংরক্ষণ এবং সেচ ব্যাবস্থা অবিজ্ঞতা বাংলাদেশের জাতিয় জন কল্লোণে তথা দেশের কৃষি খাতকে বারোমাসি উৎপাদন মুখি করে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে কি ভাবে বাংলাদেশের পানি সংরক্ষণ ও সেচ প্রচ প্রকল্প স্থায়ী ভাবে করে দেশকে ধান, গম, ভুট্টা, পাট সহ সকল মৌসুমি রবিশস্য উৎপাদন মুখি করা যায তা ছিল শহীদ জিয়ার মূল উদ্দেশ্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই অভিজ্ঞতার পথ ধরে তাঁর আমন্ত্রনে বাংলাদেশে চীনের পানি সংরক্ষণ ও সেচ প্রকল্পের একটি বিশেষজ্ঞ টিম ( দল) সফর করেছিল।
চীনের জনগনের আত্ব নির্ভরশীলতার উৎকৃষ্ট উধাহরন কেন্টনের কমিউনিটি ব্যাবস্থায় চীনেদেশের পর্ল্লীর বিপুল জনশক্তি কে খাদ্য উৎপাদনে নিয়মিত করে তাদের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। চীনের সেই সমৃদ্ধির সুস্পষ্ট ছাফ বিদ্ধমান রয়েছে চীন দেশের প্রতিটি খেতে খামার সহ সর্বত্র।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় বারের মত ১৯৮০ সালের অগাস্ট মাসে চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রনে রাষ্ট্রিয় সফর করেছিলেন। ঐ সফরে চীনের সাথে অর্থনীতি , বানিজ্য , বাংদেশের উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত সহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরীত হয়ে ছিল। ঐ সফরের সুবাধে বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যে এক নিভীর বন্ধুত্বের পাশাপাশি এশিয়ার ভু-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে আরো সুদৃঢ় হয়েছিল। চীন পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষনা দিয়েছিল।
ভূ – রাজনীতিতে বাংলাদেশ – চীন দুই দেশের জন্য খুবেই অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ যে চুক্তির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল তাতে চীন বাংলাদেশ কে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসের দ্বারও উন্মোচিত হয়েছিল।
বিশেষ টিকা ——–
উল্লেখ্য যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ( বীর উত্তম)

তাঁর প্রজ্ঞা আর কুটনৈতিক বিচক্ষণতার আলোকে

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কে যুগের পর যুগ পরাশক্তির কবল ও থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বাংলাদেশ — চীন — পাকিস্তান এই তিন দেশের সমন্বয়ে একটি সামরিক চুক্তির বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন। সেই চুক্তি সাক্ষরের দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৮২ সালের ২ রা জুন। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, তার মাত্র কয়েকদিন পুর্বে ৩০শে মে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতের নিখুঁত পরিকল্পনায় দেশি – বিদেশী চক্রের হাতে শাহাদাৎ বরন করেন। ১৯৮০ সালের ৭ ই জুন নেপাল সফর শেষে বাংলাদেশে সফরে এসে বুকভার করুন আর্তনাদে মিস্টার ঝাও ঝিয়াং ( JHAO ZIYANG)

শোকবইতে যা লিখেছিলেন — ” বাংলাদেশ ও

বাংলাদেশের জনগন হারিয়েছে একজন নিখুঁত দেশ

প্রেমিক নেতাকে, চীন হারিয়েছে একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে। শুধু তাই নয়, বিশ্ব হারিয়েছে একজন

আদর্শবান জাতীয়তাবাদী ও সাহসী নেতাকে।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে ও ১৯৮০ সালে জনগনের প্রত্যক্ষ নির্বাচনে নির্বাচনে সর্ব প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রতি শহীদ জিয়াউর রহমানের চীন সফর কালে তাঁর সাথে সফর সংগি ছিলেন দেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। যে দলের নেতৃত্ব খোদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধির মধ্যে অন্নতম যিঁনারা ছিলেন — রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের কৃষি দপ্তরের সদস্য আজিজুল হক , বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান সফিউল আজম , পররাষ্ট্র সচিব মতিউর রহমান সহ শহীদ জিয়ার ব্যাক্তগত কর্মকর্তা৷, কর্মচারী সহ দেশের বেশ ক’জন বিজ্ঞ সিনিয়র সাংবাদিক বৃন্দ।
সন্মানিত পাঠকবর্গ ( অগ্রজ / অনুজ ) —– আমি কি আপনাদের নিকট প্রশ্ন রাখতে পারি?
মহান স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ জাতির কল্লানে এবং মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য কি একজন আদর্শবান ও কৃতিমান প্রতিক ছিলেন না????
———————————————————– চলবে
ইনশাহআল্লাহ্ আগামী ৫ম পর্বে থাকবে বাংলাদেকে রাষ্ট্রী ভাবে সৌদি আরবের স্বীকৃতি ও সৌদি আরবের প্রধান খলিফা বাদশাহ ফাহাদ বীন্ আবদুল আজিজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত পরবর্তীতে স্বারক বইতে কি লিখেছিলেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরন।
আশা করি সবাই সাথে থেকে আমাকে কৃতার্থ করবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ