ধর্ষণলীগের কালো থাবা সর্বত্র এমসি কলেজ থেকে জাহাঙ্গীরনগর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩২, মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ধর্ষণলীগের কালো থাবা সর্বত্র এমসি কলেজ থেকে জাহাঙ্গীরনগর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪ ৮:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

 

সিলেট এমসি কলেজের শ্রীকান্ত ছাত্রাবাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী৷ ওই সময় কলেজ বন্ধ থাকলেও হলে থাকতেন জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা৷ ঘটনার দিন আক্রান্ত নারী স্বামীকে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়েছিলেন৷ রাত ৮টার দিতে তার স্বামী হোস্টেলের গেটে সিগারেট কিনতে নামলে ধর্ষকেরা ওই নারীকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে৷ তার স্বামীকেও তারা আটকে রেখে মারধর করে৷
ওই ঘটনায় আট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তিন বছর আগে আদালতে চার্জশিট দেয়া হলেও এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি৷
এরকম আরও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নঈম কাজীর নেতৃত্বে চারজন এক তরুণীতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে৷ মামলার দেড় মাস পর পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে৷ ওই মামলায় এখনো চার্জশিট হয়নি বলে জানা গেছে৷
একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে৷ তার বিরুদ্ধে মামলা হলে চারদিন পর র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে৷
গত ১৪ জানুয়ারি বাগেরহাটের ফফিরহাটে উপজেলা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহমেদ ও তার সহযোগীরা দুই তরুণীকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে৷ পরে শাকিলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তার সহযোগীরা পলাতক আছে৷
২০২৩ সালের ২৫ জুন রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে৷ ওই গৃহবধুকে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ৷ খোঁজ নিয়ে জানাগেছে ওই ছাত্রলীগ নেতা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি৷
২০১৯ সালে রংপুরের হারগাছা এলাকায় এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় হারগাছার সারাই ইউনিয়নের ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া৷ পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট এমসি কলেজে নববধুকে ধর্ষণের ঘটনার পরও বিচার এখানো হয়নি৷ ছাত্রলীগের আট নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট ও অভিযোগ গঠন হলেও সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে না৷
সিলেটের নারী নেত্রী তামান্না আহমেদ বলেন, ‘‘আসলে এমসি কলেজের ঘটনার যদি বিচার হতো তাহলে জাঙ্গীরনগরের ঘটনা হয়তো ঘটত না৷ আমাদের এখানে এমসি কলেজের ঘটনায় দেখেছি বিচারহীনতা৷ আর এর পিছনে আছে ক্ষমতা৷ সাধারণ মানুষ বিচার পায় না৷ আবার বিচার এড়াতেও পারেন না৷ ক্ষমতাবানরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যান৷”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা মনে করেন,”বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার সঙ্গে একটা পূর্বাপর সম্পর্ক আছে। এখানে এই ধরনের ঘটনা যখনই ঘটে তার সঙ্গে ক্ষমতার একটা সম্পর্ক থাকে৷ এর সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট যুক্ত৷”সূত্রঃ ডয়েচ ভেলে

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ