পঞ্চগড়ে উদ্বোধনের সপ্তাহেই বন্ধ তেল খনি, ৩৭ বছরেও অজানা রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ছবি :সংগৃহীত
পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ার শালবাহান যুগিগছ গ্রাম। ৩ দশক আগে যেখানে তেল খনির খবরে বেশ সরগরম ছিল পুরো দেশ। দেশি বিদেশি কোম্পানি, হেলিকপ্টারে বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত, কোটি টাকার প্রকল্প, সবকিছুতেই ছিল স্বপ্নের হাতছানি। জমি অধিগ্রহণ, বস্তি সরিয়ে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ, মহাসমারোহে ভারী খনন উপকরণ নিয়ে কাজ শুরু সেই দৃশ্যপট অবহেলিত এই জনপদকে বর্ণিল করে তোলে।
সবুজ-শ্যামল ঘেরা নির্জন গ্রামটিতে একসময় ছিল দেশের আলোচিত তেল খনির কেন্দ্র। ১৯৮৭ সালে ভূকম্পন জরিপে এখানে তেলের সন্ধান পাওয়া গেলে পরের বছর ১৯৮৮ সালে ১০ মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরেজমিনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন খনন কার্যক্রম। সেসমসয় সেই তেল খনির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় শতকোটি টাকা। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার পায় এই খনির খবর।
জানা যায়, এই তেল খনির থেকে পরিকল্পনা ছিল প্রায় ৮ হাজার ফুট গভীর থেকে তেল উত্তোলনের। ফ্রান্সের একটি কোম্পানিকে দেওয়া হয় দায়িত্ব। বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা ঢাকার অভিজাত হোটেল থেকে হেলিকপ্টারে করে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু খনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়ে থেমে যায় সবকিছু। হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় তেল খনির কার্যক্রম । সংশ্লিষ্ট কোম্পানিও রাতারাতি গুটিয়ে নেয় তাদের কার্যক্রম। কেন বন্ধ হলো এর সঠিক কারণ আজও অজানা।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা ও সন্দেহ। কেউ কেউ বলছেন, একই কোম্পানি ভারতের জলপাইগুড়ি এলাকায় গিয়ে খনন চালায়। এমনও ধারণা আছে, সেখান থেকেই তেল উত্তোলন চলছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা খনির জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনও রয়ে গেছে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া সেই তেল কূপের মুখ। প্রায় প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দেখতে আসেন মানুষ৷ এদিকে খনিটি পুনরায় চালুর দাবিতে কয়েক মাস ধরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু রহস্য উন্মোচন নয়, পুনরায় চালু হোক এই খনি। চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তেলের ঘাটতি পূরণসহ বদলে যাবে এই জেলার কৃষি অর্থনীতি।
দীর্ঘ ৩ যুগ পার হয়ে গেলেও অজানা রহস্য, তেল আছে, নাকি হারিয়ে গেছে ইতিহাসের কোন ষড়যন্ত্রে ? খনি ঘিরে এই প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠেছে মানুষের মাঝে। রহস্য উদঘাটনসহ সম্ভবনার এই ক্ষেত্রটি অনুসন্ধানে বর্তমান সরকারের কাছে দাবি উঠেছে।
এবিষয়ে তেঁতুলিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি এ্যাড. মনোয়ার হোসেন হানিফ বলেন, শালবাহান তেল খনিটি উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মধ্যে কেন বন্ধ হলো, কি কারনে বন্ধ হলো এই রহস্য আজও আমরা জানতে পারিনি।
এদিকে জেলার সোশ্যাল এক্টিভিস্ট ও আইনজীবী আহসান হাবীব সরকার বলেন, শালবাহান তেল খনিটি সেই সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজে এসে উদ্বোধন করে যান। এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়৷ আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাবো যেহেতু এটি দেশের অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত তাই দেশের স্বার্থে আবারও খনি এলাকায় অনুসন্ধান চালানো৷ হোক।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তেল খনিটির সম্ভাব্য যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রেরণ করা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ