পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৫৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৪ ৯:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৪ ৯:০৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
পুলিশের বাধা উপেক্ষা বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। এরআগে মঞ্চের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে বাধা দেয় পুলিশ। নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ের গিয়ে শেষ করেন।

মিছিল শেষে নেতারা পুলিশের এই বাড়াবাড়ির নিন্দা জানিয়ে বলেন সরকার ভাবছে তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে গেলো। ২০২৮-২৯ সাল আসলে আবার নির্বাচনের কথা বলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এদেরকে পাঁচ বছর টিকতে দিবে না বলে মন্তব্য গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।

এসময় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এসরকার বড়াই যতই করুক না কেন পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, ডলার সংকট, টাকা নাই, এ শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ পর্যন্ত নাই। যখন গরম শুরু হবে তখন আপনি (সরকার) বিদ্যুৎ আনবেন কোথায় থেকে? বিদ্যুৎের টাকা দিবেন কোথা থেকে? আপনাদেরতো (সরকার) অনেক কোম্পানিতে বিদ্যুৎের টাকা বাকি আছে। ২৫ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টাকা বকেয়া রয়েছে। আদানি কোম্পানি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা পাবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে সরকার আগামী তিনমাসে ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। তখন আমাদের রাজকোষে কোনও টাকা থাকবে না, রিজার্ভে কোনও টাকা থাকবে না। এখন দেশের রাজকোষে মাত্র ১৬ বিলিয়ন ডলার আছে, এদেশ চলবে! ওরা (সরকার) মনে করে ওদেরকে সবাই সালাম দিবে। তিন মাস পরে আপনাদের পায়ে সবাই বেল্ট পরাবে। আপনারা (সরকার) যতই মনে করেন, ক্ষমতা এবং দাপটের সঙ্গে চালাবেন কিন্ত আপনারা ক্ষমতা চালাতেও পারবেন না।

গণসংহ‌তি আ‌ন্দোল‌নের প্রধান সমন্য়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ৭ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি। সেদিন যা হয়েছে সেটা হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া। মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। তার জন্য বাছাই করার সুযোগ রাখতে হয়। বাছাই করার সুযোগ থাকলেই কেবল মানুষের ভোট কার্যকর হয়। এক দল নিজেরা নিজেরা নির্বাচন করে সেটাকে ভোট দেয়া বলেনা।

এই দল ২০১৪ তে বিনা প্রতিদ্বন্তিতায় নির্বাচন দিয়েছে। ২০১৮ সালে এই দল নিশি রাতের নির্বাচন দিয়েছে, ভোট ডাকাতির নির্বাচন দিয়েছে। আর তারা ২০২৪ সালে এসে ডামি নির্বাচন দিয়েছে। এই দল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। এই কলঙ্কের পরে এদের কোন হুশ নাই। ক্ষমতা থেকে নামলে দল হিসেবে রাদের অস্তিত্ব থাকবে কিনা সেটাই এখন মানুষের প্রশ্ন। যতক্ষন এই ডামি নির্বাচন আর সংসদ নিয়ে তারা ক্ষমতায় আছে ততক্ষণ তারা আমাদের জীবন নাশ করে দিবে।

সাকি বলেন, উনারা মুখে যা বলে আসলে অন্তরে অন্যটা ধারন করেন। তারা মুখে বলছে বিরোধীদল শোক করছে আসলে নিজেরা অন্তরে ভয়ে কম্পমান। বিনা ভোটের, ডামি ভোটের এই সংসদ কখন ভেঙে যায়। কখন তাদের ক্ষমতার মসলত উলটে যায়। এই নিয়ে তারা এখন শংকিত। এজন্যই শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করছে। তারা ভাবছে পাঁচ বছরতো টিকে গেলো, ২০২৮-২৯ সাল আসলে আবার নির্বাচনের কথা বলবেন। বাংলাদেশের মানুষ এদেরকে পাঁচ বছর টিকতে দিবে না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার দ্রুত বিচার আইনকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করছে। তার অর্থ হচ্ছে দ্রুত বিচার আইনের মধ্য দিয়ে বিএনপিসহ গণতন্ত্র মঞ্চ, সরকারের রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোকে বিচারের নাম করে দ্রুত জেলখানায় পাঠানোর জন্য এই আইনকে স্থায়ী করা হচ্ছে। এই সরকার এখন বিচার ব্যবস্থাকে অবলম্বন করে দ্রুত বিচার আইনের মতন সমস্ত কালা-কানুনকে নির্ভর করে তারা কোনমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। এইভানে তারা বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে নাকি বিরোধী দলের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সেই জাতীয় পার্টির যারা, তারাও নৌকা মার্কার ছেড়ে দেয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। ২৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ১১ টি আসনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সহজ কথায় তারা আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী। শেখ হাসিনার সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তারা জয় লাভ কফেছিলেন। তার মানেটা কী? তার মানে হচ্ছে ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’।

তিনি আরও বলেন, দেশের সকল বিরোধী দল দেশের কোটি কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজপথে আবার এসে দাঁড়িয়েছে। এই রাজপথে মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ গণআন্দোলন আকারে দেখা দিতে পারে। আমরা এই লড়াইয়ে বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো।

ভাষানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজুর সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন সহ মঞ্চের অন্যান্য নেতারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ