বগুড়ায় ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ২৬, ২০২৫ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ২৬, ২০২৫ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের বসাকপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী এক ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা, ঘরে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থায়ী বন্দোবস্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে। পরবর্তীতে শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার বর্ণনা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত নিরঞ্জন মহন্তের ছেলে দিলীপ মোহন্ত লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতামহের সময় থেকে প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জমিতে তারা বসবাস করে আসছেন। জমিটির খতিয়ান নম্বর ১/১, দাগ নং ৬৫৫, শ্রেণি–বাড়ি। এটি শেরপুর পৌর মৌজার অন্তর্গত। দীর্ঘদিন ধরে তারা পৌরকর ও বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন।
দিলীপ মোহন্তের অভিযোগ, এলাকার দেবাশীষ কিশোর মুন্সী, জয় কিশোর মুন্সী, সুবল কিশোর মুন্সী, ধ্রুবজ্যোতি কিশোর মুন্সীসহ আরও কয়েকজন গত বছর প্রথমে জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তাদের আগ্রহ কমে যায়।
তবে চলতি বছরের ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই বিবাদীরা বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী কাজলী মোহন্তকে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ৯৯৯–এ ফোন দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা খুলে তাদের মুক্ত করে।
তিনি আরও জানান, গত ২১ জুলাইও তাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে তারা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
দিলীপ বলেন, “যদি বিবাদীদের যথাযথ কাগজপত্র থাকত, তাহলে এতদিন আমাদের পূর্বপুরুষদের বসবাসকালে কেন তারা জমিটি দখলে নেয়নি? এখন শোনা যাচ্ছে, ভূমি অফিসের মাধ্যমে তারা একটি কাগজ তৈরি করেছে। আমরা চাই, যদি প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো কাগজ থাকে, তাহলে প্রশাসনই আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নিক— কিন্তু প্রভাবশালীদের হাতে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মইনুদ্দিন বলেন, “বৃহস্পতিবার তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনায় পুলিশ গিয়ে পরিবারটিকে মুক্ত করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনতার আওয়াজ/আ আ