বরিশাল-৪ আসন: নবীন ও প্রবীণ উভয়ের পদচারণায় এলাকা এখন মুখরিত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪৭, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশাল-৪ আসন: নবীন ও প্রবীণ উভয়ের পদচারণায় এলাকা এখন মুখরিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ৩:৪০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ ও মাষকাটা নদীবেষ্টিত দুই উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ। সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত এ দুই উপজেলা নিয়েই গঠিত বরিশাল-৪ আসন। এক সময়ের গোছানো বিএনপি এখন অনেকটা এই আসনের ভৌগোলিক অবস্থার মতোই এখানে অগোছালো ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের মতো জনপ্রিয় সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবর্তে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রাজিব আহসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামি দলের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডগুলো হলো, নির্বাচনি প্রচারে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী রাজিব আহসানের দিকে তরুণরা ঝুঁকছেন, আর জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বারের প্রতি ঝুঁকছেন প্রবীণরা। নদীবেষ্টিত এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রচার–প্রচারণায় নবীন ও প্রবীণ উভয়ের পদচারণায় এলাকা এখন মুখরিত।

স্থানীয়দের মতে, বিএনপি যদি অন্তর্দ্বন্দ্ব দূর করতে না পারে, তবে রাজিব আহসান কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পেতে পারেন। ফলে বরিশাল-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজিব আহসান রাজিব ছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর রহমান জাহাঙ্গীর, সাবেক এমপি ও বিএনপির সংস্কারপন্থি নেতা শাহ মো. আবুল হোসাইন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের ছোট ভাই বিএনপি নেতা হেমায়েত হোসাইন সোহরাব।

এ ছাড়া জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক আ. জব্বার। ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী দলটির সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের চলমান ধারার উল্টো পথে ভোটের ফল যাওয়ার একটি প্রবণতা এই আসনে রয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করলেও এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই আসনে জয় পান বিএনপির প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে যে দুটি আসনে বিএনপি জয়ী হয়, তার একটি ছিল বরিশাল-৪।

স্থানীয়রা জানান, মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনেরও নিজস্ব ভোটব্যাংক ও উল্লেখযোগ্য সমর্থক গোষ্ঠী আছে। বিএনপির রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় পরিষ্কার- দলটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। বৃহত্তর অংশটি সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের অনুসারী, আর একটি অংশ রাজিব আহসানের অনুসারী। এই বিভক্তির মূল কারণ মনোনয়নকেন্দ্রিক বিরোধ।

দুই উপজেলার বিএনপির একাধিক নেতার মতে, রাজিবের তুলনায় মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ দুই উপজেলাতেই অধিক জনপ্রিয়। নম্র ভদ্র ও মার্জিত ফরহাদের বিরুদ্ধে এমপি থাকার সময় কিংবা ৫ আগস্টপরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, হামলা, ভাঙচুর বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু রাজিবের অনুসারী বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত যদি জোট গঠন করে এবং ইসলামী আন্দোলন এ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়, তা হলে বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার সেলের প্রধান অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের মধ্যে এ আসনে আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত। জেলা জামায়াতের আমির হওয়ায় আ. জব্বারকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন ভোটাররা।’ তিনি বলেন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী রাজিব আহসানের তুলনায় সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ আমাদের প্রার্থীর সামনে অনেক শক্তিশালী ছিলেন। তার পরও বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের প্রার্থীকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।’

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন বলেন, ‘বিএনপি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য ছিল, এটি সত্যি। তবে আমাদের নেতা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সমস্যা যতটুকুই থাকুক, কর্মীরা তা ভুলে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ