বিএনপিতে ফের শুরু সাংগঠনিক অ্যাকশন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:১৯, শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপিতে ফের শুরু সাংগঠনিক অ্যাকশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

 

প্রাধান্য পাবেন তরুণরা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

সরকারবিরোধী বিগত আন্দোলন ব্যর্থতায় ঢাকাসহ চার মহানগর বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ফের সাংগঠনিক অ্যাকশন শুরু করেছে দলটি। আগামীর আন্দোলন সামনে রেখে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্বে দলের গুরুত্বপূর্ণ এসব সংগঠন সাজাবে বিএনপি। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে কমিটি ভেঙে দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, আজকালের মধ্যেই সেখানে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। ফলে নেতৃত্বে কারা আসছেন, এখন তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। পদপ্রত্যাশীরাও ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের লবিং-তদবিরে। বিএনপি নেতারা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সেখানে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। নতুন সেই কমিটির নেতৃত্বে সংগঠন আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। পাশাপাশি যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

কমিটি বিলুপ্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটি গঠন, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় যুবদল এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। যথাসময়ে সেখানে নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটির মাধ্যমে সংগঠন আরও ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত ও গতিশীল হবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংগঠন পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুনর্গঠন নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সংগঠনের সব নেতৃত্বই পাল্টে ফেলা হবে। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বছরের অধিককালব্যাপী রাজপথে আন্দোলন করে বিএনপি। তবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনগুলো রাজপথে কার্যকর ও প্রত্যাশিত ভূমিকা না রাখায় সরকারবিরোধী সেই আন্দোলনে চূড়ান্ত সাফল্য আসেনি বলে মনে করে দলটি। এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামীর আন্দোলন সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও গত ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনা হয়। তখনই যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। তবে ১২ মার্চ থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হওয়ায় সে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়ে যায়। পুরো রমজানজুড়ে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে সংগঠনকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয় বিএনপি। এ ছাড়া তৃণমূলে সংগঠনকে উজ্জীবিত করতে সম্প্রতি জেলা পর্যায়ে গিয়ে কারামুক্ত নেতাদের সংবর্ধনা দিয়েছে যুবদল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার পাশাপাশি গত ৫ জুন জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর পরই প্রায় বছরখানেক মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হলো।

২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি এবং আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আট সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ৯ মাস পর গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়। যুবদলের কমিটির মেয়াদ তিন বছর।

জানা গেছে, আজকালের মধ্যে যুবদলের নতুন আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সেখানে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার সভাপতি হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সভাপতি হিসেবে বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসানের নামও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এর বাইরে যুবদলের বিদায়ী কমিটির ইসহাক সরকার, গোলাম মওলা শাহীন, সাঈদ ইকবাল মাহমুদ টিটো, জিয়াউর রহমান জিয়া, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নামও আলোচনায় রয়েছে।

২০২১ সালের ২ আগস্ট আবদুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক ও আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে গঠন করা হয় মহানগর উত্তর বিএনপির ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিও। ঢাকা রাজধানী হওয়ায় বিগত আন্দোলন সফলে মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির ওপর ব্যাপক ভরসা ও আস্থা ছিল দলের হাইকমান্ডের। কিন্তু বিগত কয়েকটি আন্দোলনের মতো এবারও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় মহানগর বিএনপি।

একদফার আন্দোলন চলাকালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আমানের অনুপস্থিতিতে পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়। অবশ্য আন্দোলনের মধ্যে গত ২ নভেম্বর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আগে থেকে মহানগরের রাজনীতির সঙ্গে ডোনারের সেভাবে সম্পৃক্ততা না থাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে মহানগর উত্তরে জোরালো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। অবশ্য এজন্য মহানগর উত্তরে ‘সংগঠন না থাকার’ অভিযোগও করেন এই পেশাজীবী নেতা, যা তিনি পরবর্তী সময়ে বিএনপির হাইকমান্ডকেও জানিয়েছেন।

উত্তরের মতো মহানগর দক্ষিণেও তেমন আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। আন্দোলনের শুরুতে গত বছরের ২২ মে দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিনকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব করা হলে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব করা হয়। দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বাইরে থাকলেও আন্দোলনের পুরোটা সময় ছিলেন আত্মগোপনে। এর ফলে দক্ষিণেও গড়ে ওঠেনি জোরালো আন্দোলন। অবশ্য আত্মগোপনে থাকলেও আন্দোলন সংগঠিত করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে সালামের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে দাবি তার ঘনিষ্ঠজনদের। সবমিলিয়ে আন্দোলন ব্যর্থতায় মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় দলের হাইকমান্ড। ফলে ভেঙে দেওয়া হয়েছে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ইউনিটের কমিটি।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে, যেটা হবে তারুণ্যনির্ভর। দীর্ঘদিন ধরে বয়স্করা মহানগরের নেতৃত্ব দিলেও এবার তরুণদের ওপর আস্থা রাখতে চায় হাইকমান্ড। ফলে দুই মহানগরেই সভাপতি পদে নতুন মুখ আসতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি পদে বিদায়ী কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ পদে যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে নিরব কারাগারে থাকায় তার সম্ভাবনা কম বলে অনেকে মনে করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের বাইরে বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য তাবিথ আউয়ালের নামও শোনা যাচ্ছে। উত্তরের শীর্ষ পদে যুবদলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম শোনা গেলেও তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হতে পারে। তাকে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হতে পারে। অবশ্য টুকু যুগ্ম মহাসচিব হতে চান বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে রফিকুল আলম মজনুকে সভাপতি এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা বেশি। এর বাইরে শীর্ষ পদে দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং সদ্য বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ইশরাক হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। মহানগর রাজনীতিতে হামিদের দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার রয়েছে। তবে তিনি ক্ষুদ্র একটা গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করায় মহানগরে তার প্রভাব তেমন জোরালো নয়।

২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডা. শাহাদাৎ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং আবুল হাশেম বকরকে সদস্য সচিব করে ৩৯ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে আংশিক, পূর্ণাঙ্গ নাকি আবারও আহ্বায়ক কমিটি হবে, তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, নতুন কমিটিতে সদ্য বিদায়ী কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান এবং তরুণদের মধ্যে নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর নাম শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর মনিরুজ্জামান খান ফারুককে আহ্বায়ক এবং আলী হায়দার বাবুলকে সদস্য সচিব করে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটির শীর্ষ পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন সিকদার ও সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, নগর বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ