বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাযজ্ঞ ছিল অত্যান্ত সুপরিকল্পিত : তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৩, বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাযজ্ঞ ছিল অত্যান্ত সুপরিকল্পিত : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪ ৫:২৫ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪, দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ২৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরোচিত সেনা হত্যাযজ্ঞের দিনের কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারী খোদ রাজধানীতে বিডিআর পিলখানায় ঘটে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঠাণ্ডামাথায় সুপরিকল্পতভাবে বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। মাত্র একদিনে এতো সংখ্যক সেনা কর্মকর্তা হত্যার নজির বিশ্বের আর কোথাও কোন দেশে নেই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসেও এতসংখ্যক সেনা কর্মকর্তাকে প্রাণ দিতে হয়নি। ইতোমধ্যে ১৫ বছর পার হয়ে গেলেও এমন বর্বরোচিত ঘটনার আজ পর্যন্ত বিচার সম্পন্ন হয়নি। বরং বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের দায়ে যাদের কারাগারে থাকার কথা ছিল তারাই এখন অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। অথচ বছরের পর বছর ধরে কারাগারে বিনাবিচারে মানবেতর জীবন যাপন করছে শত শত বিডিআর জওয়ান।
তারেক রহমান বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন মানুষের বীভৎস হত্যাকাণ্ডের এই দিনটি অবশ্যই প্রতিবছর জাতীয় শোকদিবস হিসেবে পালিত হওয়া উচিত ছিল। প্রতি বছর যেভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারী পালিত হয়, উচিত ছিল দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার শপথ নিয়ে একইভাবে যথাযথ রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব সহকারে ২৫ ফেব্রুয়ারী দিনটিও পালন করা। অথচ সচেতনভাবেই গুরুত্বহীন আর অবহেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম দিনটি প্রতিবছর প্রায় নীরবেই পার করে দেয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহ এই দিনটিকে কেন যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা ? সংশয়—সন্দেহ—রহস্য এখানেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে বিডিআর পিলখানায় দরবার হলে সকাল ১০ টা ৪২ মিনিটের দিকে প্রথমেই বিডিআরের তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দরবার হলের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অঁাচ করতে পেরে মেজর জেনারেল শাকিল প্রায় ৯টা ৩২ মিনিটের সময় দরবার হল থেকেই সরাসরি তৎকালীন সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদকে ফোন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য চান। সেনা প্রধানকে ফোন করার ৫/৬ মিনিট পর মেজর জেনারেল শাকিল ৯টা ৩৮ মিনিটের দিকে শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য কামনা করেন। প্রশ্ন হলো, বিডিআরের ডিজি গুলিতে নিহত হওয়ার এক ঘন্টা আগে দেশের সেনা প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিডিআর পিলখানার ভয়ানক পরিস্থিতি জানানোর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি ? বিডিআর পিলখানা থেকে সেনানিবাসের দূরত্ব খুব বেশি নয়। তারপরও কিভাবে একের পর এক ৫৭ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন ? এটি প্রমাণ করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপশক্তির ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা হত্যাযজ্ঞ ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।
তিনি বলেন, সেনা হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটি সরাসরি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। অথচ সেনা হত্যাযজ্ঞের মতো স্পর্শকাতর এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তদন্ত নিয়েও আওয়ামী লীগ সরকার ইচ্ছেকৃতভাবেই চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। সেনা হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্ত আব্দুল কাহহার আকন্দ নামে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দেয়া হয়েছিল, যিনি পুলিশের চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর এমপি হওয়ার জন্য তার নিজের এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি মনোনয়নও চেয়েছিলেন। পুলিশের চাকুরীতে পুনর্বহাল করে চিহ্নিত এই আওয়ামী লীগ নেতাকেই কেন সেনা হত্যাযজ্ঞের মতো এমন স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত ভার দেয়া হলো? এরপর, গত ১৫ বছরেও সেনা হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার না হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে,বিশেষ খুনীবাহিনীকে আড়াল করার জন্যই বিশেষ উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা কাহহার আকন্দকে সেনা হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
সেনা হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্তের নামে আওয়ামী লীগ নেতা কাহহার আকন্দ শত শত বিডিআর জওয়ানকে নির্বিচারে গ্রেফতার করেছে। এরপর তদন্তের নামে চালিয়েছে অকথ্য নির্যাতন। কাহহার আকন্দের নির্মম নির্যাতনের শিকার অনেক পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নির্যাতনের কারণে অর্ধশতাধিক বিডিআর সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি, যারা বেঁচে থাকলে বিডিআর বিদ্রোহের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল এমন অনেককেই আব্দুল কাহহার আকন্দ পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। আর সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৫ বছর পরও বর্তমানে বিনা বিচারে শত শত বিডিআর জওয়ান কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ন্যায় বিচারের আশায় তাদের পরিবারগুলোর শত শত সদস্যের দিন কাটছে এক চরম হতাশা আর অনিশ্চয়তায়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সু’পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। অস্তিত্ব সংকটে বাংলাদেশ। অরক্ষিত দেশের সীমান্ত। দেশটাকে নিয়ে ভাগবাটোয়ারার হাট বসেছে। ২০১৭ সালে থেকে আজ ২০২৪। এতো বছরেও বাংলাদেশে আশ্রিত ১৩ লক্ষ রোহিঙ্গার একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি। অথচ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত মিয়ানমার সামরিক জান্তার তিন শতাধিক সেনা কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার দু’ তিনদিন পরই তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মিয়ানমারের তিন শতাধিক সেনা ফেরত পাঠানো গেলেও গত ছয় বছরেও একজন রোহিঙ্গাকেও কেন মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি। শেখ হাসিনার ক্ষমতালিপ্সার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশ মনে হয় এখন ‘ব্যানানা রিপাবলিকে’ পরিণত হয়েছে। সীমান্তে একের পর বাংলাদেশী নাগরিক খুন হচ্ছে। এমনকি বিজিবি সদস্য হত্যা হলেও বাংলাদেশ প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ