বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে কর্মচারীদের ধর্মঘটে অচল মাঠ প্রশাসন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪১, সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে কর্মচারীদের ধর্মঘটে অচল মাঠ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৪, ২০২২ ৬:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৪, ২০২২ ৬:২৪ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

পদবি বদল ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। মঙ্গলবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ফলে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নাম জারি, জলমহাল, চলমান টেন্ডার কার্যক্রম, ইজারা মূল্য আদায়, অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি আদায়, মিসকেস ও গণশুনানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেবাগ্রহীতারা। গুরুত্বপূর্ণ চিঠি গ্রহণ ও প্রেরণসহ দৈনন্দিনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজই করেননি কর্মচারীরা। এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে মাঠ প্রশাসনে।

সূত্রমতে, পদবি বদল ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে মাঠ প্রশাসন কর্মচারীরা দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আন্দোলন করে আসছে।

সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৪শে জানুয়ারি পদোন্নতি দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় তা ফেরত পাঠালে আটকে যায় মাঠ প্রশাসনের সংস্কার। এরপর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ঝুলছে পদোন্নতি প্রক্রিয়া।

মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতি স্থগিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারি আদেশ ছাড়া কোনো প্রকার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করবে না। কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতারা দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারী সমিতি (বাবিককাকস) ও বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) নেতাদের বুধবার সচিবালয়ে ডাকা হয়। তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আন্দোলনকারীদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। পরবর্তী করণীয় নিয়ে আজ শনিবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি মো. আকবর হোসেন বলেন, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী শনিবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। এদিকে কর্মচারীদের টানা তিন দিনের কর্মবিরতিতে মাঠ প্রশাসনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মঞ্চ বানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা মঞ্চ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন। মানবজমিনের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত তিন দিনে মাঠ প্রশাসনের দপ্তরগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে উপজেলা মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মবিরতি চলছে। এতে চরম দুর্ভোগে সেবাগ্রহীতারা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে এ কর্মবিরতি পালন করে আসছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবু সায়েম। এ কর্মসূচিতে যোগদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী সুমন কান্তি, আবু সায়েম, সায়েমা সাদিয়া, আহম্মদ ছগির, নিউটন বড়ুয়া, বিজয় নন্দ বড়ুয়া, একরামুল হক সিকদারসহ কর্মকর্তাগণ।

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা ও ভূমি অফিসের মাঠ প্রশাসন কর্মচারীদের বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ ও বর্তমান পদবি বদলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে মাঠে রয়েছে মাঠ প্রশাসন কর্মচারীগণ। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে রয়েছে মাঠ প্রশাসন কর্মচারীরা। আন্দোলন প্রসঙ্গে কুলিয়ারচর মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীদের সমন্বয়কারী, উপজেলা নির্বাহী অফিসের সি এ কাম উচ্চমান সহকারী মো. ফজলুর রহমান পঠল বলেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজের টেবিলে ফিরবো না। এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন আন্দোলনের কারণে সেবাগ্রহীতারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, মধুপুর উপজেলা ভূমি অফিসে চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় মধুপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মো. সরোয়ার হোসেন, সার্টিফিকেট সহকারী মো. আশরাফুল ইসলাম ও সুজিৎ চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, পদ নাম পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) মুরাদনগর শাখা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মুরাদনগর উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এই কর্মবিরতি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

এই সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সিএ কাম দেলোয়ার হোসেন, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হারুন অর রশিদ, সার্টিফিকেট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর আল আমিন, সার্টিফিকেট সহকারী আব্দুল জলিল, সহকারী কমিশনার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আশিকুর রহমান, সায়রাত সহকারী রাহেলা সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টেন্ট ক্লার্ক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সহকারী কমিশনারের ভূমি অফিসের কর্মরত কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। পার্বতীপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারীরা পদ-পদবি পরিবর্তন ও বেতনের গ্রেড উন্নীতকরণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয়ের সামনে সকাল ৯টা হতে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কর্মবিরতি করেন। তৃতীয় দিন উপজেলার ভূমি অফিসের সকল কক্ষ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মচারীরা। কর্মবিরতির কারণে নাম জারিসহ ভূমি অফিসের সকল কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন বলে জানান এলাকার সেবা নিতে আসা লোকেরা। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের কর্মরত আলমগীর হোমেন, ইলিয়াছ আহমেদ, নিরঞ্জন চন্দ্র সরকার, সুব্রত রায়, মোস্তাকিম হোসেন, মোকলেছুর রহমান ও পারুল উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। তাদের এ দাবি দ্রুত মেনে নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান কর্মচারীরা।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কালেক্টরেট সহকারীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। ভূমি প্রশাসনের কালেক্টরেট সহকারীদের কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। স্থবিরতা দেখা দিয়েছে ভূমি প্রশাসনের যাবতীয় কার্যক্রমে। উপজেলা ভূমি অফিসের সম্মুখে অনুষ্ঠিত কর্মবিরতির অবস্থান সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভূমি প্রশাসনের কালেক্টরেট সহকারী এনামুল হক, অনিন্দ দাস, সরূপা চন্দ্র চক্রবর্তী, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মুকিত প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ