মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন সমগ্র দেশবাসী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১১, বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন সমগ্র দেশবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ ৯:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩ ৯:১০ অপরাহ্ণ

 

ড. মোর্শেদ হাসান খান
বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের আজকের যে অবস্থান সেটার অনেকাংশ জুড়েই রয়েছেন সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। একজন গৃহবধু থেকে সময়ের প্রয়োজনে অবিসংবাদিত রাজনীতিক হয়ে ওঠার যে দৃষ্টান্ত তিনি গড়েছেন তা অহরহই আলোচিত হয় বিশ্ব জুড়ে। তিনি সংগ্রামী, আপসহীন এবং দেশপ্রেমিক। সকল লোভ-লালসা আর প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল এদেশের মাটি ও মানুষের ভালোবাসা পেতে চেয়েছিলেন। জনগণের জন্য সত্যিকারের ভালোবাসা, মমত্ববোধ বুকে ধারণ করেন বলেই এদেশের জনগণ তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।
মমতাময়ী মায়ের মতোই তাকে শ্রদ্ধা-সম্মান আর ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করেন তাঁকে। তিনিই বেগম খালেদা জিয়া। যার জন্য জেগে থাকে বাংলাদেশ। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে যে নামে উত্তাল তরঙ্গের মতো মানুষ ছুটে আসে রাজপথে। তাঁর সুস্থতার খবরে খুশিতে উদ্বেলিত হয় আবার অসুস্থতা কিংবা অসুখে মানুষ হয় অশ্রু সজল। শঙ্কা আর উদ্বেগে কোটি মানুষের মন পোড়ে।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ইতোপূর্বে অনেক লেখায়ই বিস্তারিত লিখেছি। তাই আজ সেদিকে যাচ্ছি না। আজকের লেখায় একজন মহিয়সীর শেষ জীবনের দু:খ-যন্ত্রণা কিংবা বঞ্চনা নিয়ে সামান্য আলোকপাত করতে চাই। স্বৈরাচারের আমলে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির পত্নী, একজন সেনা প্রধান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর উত্তম ও একজন স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী বন্দি হিসেবে কী অসহ্য যন্ত্রণার জীবন পার করছেন তার সামান্য আপনাদের জানাতে চাই।
রোগ-শোক আর একাকীত্বের এই জীবনে দেশের ভোট ডাকাতদের সংঘবদ্ধ চক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কষ্ট দিচ্ছে। তিনি নিজের জীবন নিয়ে যতোটা না পীড়িত তার চেয়ে বেশি ভীত দেশের ভবিষ্যত নিয়ে। সাধারণ মানুষের দু:খ-দুর্দশার চিত্র তিনি যতোটুকু জানতে পারছেন সেটুকুতেই তিনি বিচলিত। কি করে এই জালিম অবৈধ সরকারের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া যায় সেটি ভেবে ভেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অভিষেক এদেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছিলো। সেই থেকে তিনি এদেশের আপামর জনসাধারণের মুক্তির কাণ্ডারি। শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবার লড়াইয়ে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা বিশ্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। তাইতো আজকের দিনে যখন তিনি মানুষের মৌলিক-মানবিক অধিকার হরণের খবর পান, যখন তিনি দেখেন দেশে আইনের শাসন ভুলুণ্ঠিত, বাক-স্বাধীনতা নির্বাসিত হওয়ার কথা জানেন তখনই তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
কলঙ্কিত ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই বেগম জিয়া নিগ্রহের শিকার। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই বছরের অক্টোবরে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। এর পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বেগম খালেদা জিয়ার। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে বেগম খালেদা জিয়া গুলশানে তার বাড়িতে রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে শারীরিক ভাবে নানা সঙ্কটে পড়েন তিনি। বহুবার তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলেও বরাবরই সরকার তা প্রত্যাখ্যান করছে।
সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট রাতে শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে ওই হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ডের ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। তারা আইনের দোহাই দিয়ে দেশের একজন সিনিয়র সিটিজেন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক যে অবস্থা তাতে দেশে সম্ভব এমন সকল চিকিৎসাই প্রয়োগ করা হয়েছে। তার এখন অ্যাডভান্সড লেভেলের চিকিৎসা প্রয়োজন। যেটি দেশে সম্ভব নয়। খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে বিদেশে পাঠানো না হলে যে কোনো সময় বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এমন আশঙ্কার জায়গা থেকে বিএনপি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার তার জিঘাংসা পূরণের জন্য সেই অনুমতি দিচ্ছে না। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা একজন দেশপ্রেমিকের এই অবস্থায় দেশের লাখ লাখ মানুষও তাই উৎকন্ঠিত সময় পার করছেন।
বেগম খালেদা জিয়া তাঁর প্রয়াত স্বামী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম’র মতোই গণতন্ত্র-দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কয়েক দশক ধরে তিনি এদেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ দেশের মানুষের সুখে-দু:খে পাশে থেকে কাজ করে যেতে চান। তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাই জনদুশমন সরকার এমন পৈশাচিক পন্থা বেছে নিয়েছে। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি অবস্থায় রেখে তিলে তিলে শেষ করে দিতে চাইছে। যাতে এদেশ থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যাতে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব শেষ হয়ে যায়, তার সবগুলো ঘৃণ্য পন্থাই বেছে নিয়েছে বর্তমান গণধিকৃত সরকার। তারা ছলে-বলে কৌশলে জিয়া পরিবারকে এদেশের মানুষের মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে চাইছে।
বেগম খালেদা জিয়া এদেশে এখনো সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত একটি নাম। যেই নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে মানুষ স্মরণ করে। যার মুক্তির দাবিতে এখনো রাজপথ মিছিল-স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে। তিনি কেবল মাত্র বিএনপির নেত্রী নন, এদেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসার প্রিয় নেত্রী তিনি। তার নামে রাজপথে মুক্তিকামী মানুষের ঢল নামে। জনসমুদ্রে প্রবল ঢেউ তোলে উন্মাতাল তরঙ্গমালা।
পাঠক একবার চিন্তা করে দেখুন, একজন সিনিয়র ব্যক্তি বছরের পর বছর বন্দি দশায় দিন কাটাচ্ছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আরেকজন সরকারের রোষাণলে পড়ে প্রবাসে দিন যাপন করছেন। চারপাশে আপন বলতে তেমন কেউ নেই। প্রায় পরিবার-পরিজনহীন এই একাকীত্ব তার জীবনকে আরো কঠিন করে তুলছে। তিনি শারীরিক-মানসিকভাবে যাতে আরো বিপর্যস্ত থাকেন সরকার সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকার দলীয় কোনো নেতার সামান্য অসুস্থতায় যখন হরহামেশাই বিদেশে পাড়ি জমান সেখানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন কাটছে বিনা চিকিৎসায়। অথচ মৌলিক এই চাহিদা পূরণ করা তার জন্য আজ ভীষণ জরুরি। যে আইনের দোহাই দিয়ে সরকার বছরের পর বছর তাঁকে এভাবে আটকে রেখেছে সেই আইনের ফাঁক গলেই এদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে সরকারের লোকজন। যে আদালতের রায়ে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে এতো বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সেই আদালতই আজকের প্রধানমন্ত্রীর এমন অনেক মামলা খারিজ করে দিয়েছে। সেই আইন-আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই এদেশে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি ঘটে চলেছে। আর যাবতীয় আইন ও আদালতের রায় দেখানে হচ্ছে কেবল একজন মৃত্যু পথযাত্রী দেশপ্রেমিক বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে। কী নিষ্ঠুর, নির্মম প্রহসন। যেখানে মৌলিক-মানবিকতা বিবেচনা বোধও বিলুপ্ত। যেখানে হিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে একজন মমতাময়ী ‘মা’ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। অথচ এই দেশ ও মানুষের জন্য এই মহিয়সীর রয়েছে অসীম আত্মত্যাগ আর হাজারো সংগ্রামের সোনালী অধ্যায়। রাজপথের সংগ্রামমুখর কঠিন দিন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর রয়েছে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা। কিন্তু কী অবলীলায় সেই ভূমিকাকে পায়ে দলে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার।
লেখক, মহাসচিব, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইউট্যাব।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ