মিডিয়া ওয়াচ : জিতেছে নৌকা, হেরেছে সংবাদমাধ্যমগুলো - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৩৩, শনিবার, ২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মিডিয়া ওয়াচ : জিতেছে নৌকা, হেরেছে সংবাদমাধ্যমগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৪ ১:৩২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৪ ১:৩২ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
অনেক আপত্তি, বিতর্ক, অনিয়ম, বর্জনের পরও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে জিতেছে আওয়ামী লীগের নৌকা। তাদের সঙ্গী হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী, জাতীয় পার্টি। নির্বাচন জমাতে কিছু কিছু তারকা অংশ নিলেও তারা হেরে গেছেন। বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরাও হেরেছেন। হেরে গেছেন হাসানুল হক ইনু, কাদের সিদ্দিকীর মতো বড় প্রার্থীরা। আর ভোটের দিনের সংবাদ-তথ্য বিবেচনায় হেরেছে সংবাদমাধ্যমও।

নির্বাচনের প্রচার শুরুর দিন থেকেই সংঘাত-সংঘর্ষ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে বেশির ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন। বাংলা দৈনিক প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল, যুগান্তর এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, টিবিএস সংঘর্ষের খবর নিয়মিত প্রকাশ করলেও বিস্তারিত ছাপাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। আবার তাদের প্রচারে কিছু কিছু প্রার্থীকে ডাউন দেওয়া এবং কাউকে তুলে ধরার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন চলাকালে কোনো সংবাদমাধ্যমেই বিরোধী মতের জোরালো উপস্থিতি ছিল না। কিছু কিছু সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হলেও, এডিটোরিয়াল, পোস্ট এডিটোরিয়াল এবং মতামত বিভাগে বিরোধীদের মত প্রকাশ হয়নি বললেই চলে। পরিষ্কারভাবেই একটি সাজানো, পাতানো, অবৈধ নির্বাচনের সমর্থক হয়ে উঠেছিল বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম।

এ সময়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিদেশি সংবাদমাধ্যম এ নির্বাচনকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কর্তৃত্ববাদী এবং স্বৈরাচারী হিসেবে দেখিয়েছে। অন্যদিকে যে নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত ছিল, সেই নির্বাচনকে জমিয়ে তুলতে সংবাদমাধ্যমগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল। কেউ কেউ নির্বাচন উপলক্ষে আলাদা পাতা প্রকাশ করেছে। সেসব পাতায় প্রকাশিত সংবাদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে তথ্যবহুল খবর প্রকাশিত হয়।

হলফনামায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তার অনুসন্ধানও করতে দেখা যায়নি সাংবাদিকদের। তারা শুধু প্রাপ্ত তথ্য থেকে সাংবাদ তৈরি করেছেন। এমপি-মন্ত্রীরা যেসব তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই বলেও সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে। তবে সাংবাদিকদেরও যে কিছু করার নেই তা তারা বলতে চাননি। কারণ পুরো সময়ে সংবাদমাধ্যম ছিল সরকারি বাহিনীর নজরদারিতে। যা দেখা গেছে নির্বাচনের আগের দিনেও। মানবজমিন এবং সমকাল অনলাইন পড়তে দেশের বিভিন্ন স্থানেই সমস্যা হচ্ছিল। মানবজমিন জানিয়েছিল, এটি তাদের দিক থেকে কোনো সমস্যার কারণে হয়নি। সমকাল যদিও কিছু বলেনি। সমকালের মালিক নিজেই প্রার্থী ছিলেন এবারের নির্বাচনে। তিনি সেখান থেকে জিতে আসেন। তার বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি সংবাদমাধ্যমে। বরং প্রথম আলোসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম তার সংবাদ প্রার্থিতা পাওয়ার সময় থেকে ভোট পর্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।

ভোটের দিনও কেন্দ্র ফাঁকা থাকা, কারচুপি, জালভোট, অনিয়মের খবর প্রকাশে সংবাদমাধ্যমগুলো বাধার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের পাঠানোর ক্ষেত্রে পত্রিকা হাউসগুলোতে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যায়নি। এটা অনেকটা ঠিক করাই ছিল যে, সাংবাদিকরা কোন ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে পারবে এবং কোনটা পারবে না। যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত দুটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পেলেও তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেনি প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো।

আবার সমকাল, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, গাজী টিভি, যমুনা টেলিভিশন যার যার মালিকের পক্ষে সংবাদ প্রচার করেছে। যমুনা টেলিভিশন ব্যাপক হারে কারচুপির ভিডিও ও তথ্য প্রচার করে। যদিও সেসব আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন।

ভোটের হার নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক ঘণ্টার ব্যবধানে দু ধরনের তথ্য দিলে এ নিয়ে টুইস্ট করে সংবাদমাধ্যমগুলো। যদিও প্রকৃত ভোটের হার তাৎক্ষণিক জানা যায় না। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো কতটা আগ্রহী থাকবে তা নিয়েও সংশয় আছে।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ