যুক্তরাজ্যে অভিবাসন সমস্যা সমাধানে লেবার পার্টির নীতি কতটা কার্যকর? - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:১৩, শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন সমস্যা সমাধানে লেবার পার্টির নীতি কতটা কার্যকর?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ৮, ২০২৪ ১:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ৮, ২০২৪ ১:৩২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দুই যুগের বেশি সময় পর যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে দেশটির বৃহৎ রাজনৈতিক দল লেবার পার্টি। এবার দলটি সর্বাধিক আসনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সাধারণত অভিবাসন ইস্যুতে নির্বাচনী প্রচারণায় সরব থাকে কনজারভেটিভ পার্টি তবে এবার লেবার পার্টিও এ বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশটির অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। কনজারভেটিভ পার্টির বিতর্কিত রুয়ান্ডা নীতি সহ পুরো অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে লেবার পার্টি। কেননা তারা তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে ওই বিতর্কিত আইন বিলোপের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক পার্লামেন্টে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের রুয়ান্ডা পাঠানোর একটি বিল পাস করে। তখন লেবার পার্টিসহ বিরোধী দলের অনেকেই ওই বিলের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছিল। এছাড়া দেশটির সুপ্রিম কোর্টেও বিলটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন থেকেই এ বিষয়টি বৃটেনের একটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

লেবার পার্টি এ বিষয়টিকে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এখন দলটির জন্য অভিবাসন সমস্যা সমাধান করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা বৃটেনের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অভিবাসী আশ্রয়ের আবেদন করেছেন যা ২০১৯ সালের পর তিনগুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর।
এতে বলা হয়, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক অবৈধ অভিবাসীদের রুখতে কঠোর নীতি গ্রহণ করলেও দেশটিতে ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করেছে। যাতে দেশটির জন্য এই অবৈধ অভিবাসী ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় যেসকল অভিবাসীরা অবৈধভাবে ইংলিশ চ্যানেল পারি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করছে তাদের ঠেকাতে স্টারমার কী ভূমিকা পালন করেন। কেননা দেশটির প্রধান সমস্যার মধ্যে অবৈধ অভিবাসন একটি বড় সমস্যা দাঁড়িয়েছে। এতে বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিষয়টি সমাধান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য এ বিষয়ে তিনিও কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেটা কনজারভেটিভদের তুলনায় কিছুটা নমনীয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে যেসকল গ্যাং বা চক্র কাজ করছে তাদের সমুলে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৪ অভিবাসনপ্রত্যাশী। এছাড়া গত এক দশকে ওই পথে ২০০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করেছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংস্থা।

এখন লেবার পার্টির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মানবপাচারকারী চক্রকে অকার্যকর করে দেয়া। এছাড়া ২০১৮ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে যেসকল অভিবাসী প্রবেশ করেছে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেছে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করাও স্টারমার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৮ সালে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় লক্ষাধিক অভিবাসী স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছে।
এ বিষয়টি কিভাবে মোকাবিলা করবে স্টারমার তা নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির মাইগ্রেশন অবজারভেটরির ডেপুুটি ডিরেক্টর রব ম্যাকনিল। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, যদিও কনজারভেটিভ সমর্থকরা বলছেন অভিবাসন ইস্যু তাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুপূর্ণ বিষয়, অন্যদিকে লেবার পার্টি এ বিষয়টিকে গুরুত্বের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে রেখেছে। এ বিষয়টি কি ভবিষ্যতে আরও নমনীয় এবং মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়?
জবাবে ম্যকনিল বলেন, ভোটে যে দলই জয়ী হোক অভিবাসন সমস্যা পুরো দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তবে যেহেতু কনজারভেটিভদের তুলনায় লেবার পার্টি কিছুটা নরম হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে যে কারণে হয়ত তারা বেশি ভোট পেয়েছে। এদেশের মানুষ অভিবাসী সমস্যা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। এখন আমাদের দেখতে হবে লেবার পার্টির অভিবাসন নীতি আসলে কিরকম প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয়ে আমরা অনুমান করতে পারি। গ্রীষ্মে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি কোনো দেশ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নমনীয় হয় তাহলে দেশটিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ আরও বাড়তে পারে যেহেতু তাদের স্থানীয় অভিবাসী নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই।

এখন যদি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন বৃদ্ধি পায় তাহলে যুক্তরাজ্যের সাধারণ জনগণের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর সত্যিই যদি তাই হয় তাহলে বলা যায় অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের ওপর জনগণের চাপ আরও বাড়বে। স্টারমার মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু এখানে সমস্যা হচ্ছে এই চক্রগুলোকে ধ্বংস করলে সেখানে পুনরায় আবার নতুন চক্র সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেবার পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির অভিবাসন নীতিতে পার্থক্য হচ্ছে রুয়ান্ডা বিলের ক্ষেত্রে। তবে এক্ষেত্রে লেবার পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দলটি কত দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। যদিও ওই বিশ্লেষক মনে করেন এটি লেবার পার্টির জন্য বেশ কঠিন হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ