রওশন গ্রুপের কাউন্সিল ঠেকাতে মরিয়া জিএম কাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:১৪, বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রওশন গ্রুপের কাউন্সিল ঠেকাতে মরিয়া জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৭, ২০২৪ ২:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৭, ২০২৪ ২:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
কাউন্সিল ঘিরে মুখোমুখি জাতীয় পার্টির দুইগ্রুপ। আগেই রওশন এরশাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন আগামী ৯ মার্চ জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

রওশন এরশাদ গ্রুপের কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের ঠেকাতে গতকাল প্রেসিডিয়াম সভা করে জিএম কাদের গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে আগামী ১২ অক্টোবর জাতীয় পার্টি কাউন্সিল করবে। সভা থেকে রওশন গ্রুপের কাউন্সিলে যাতে নেতাকর্মীরা না যায় সে আহবান জানানো হয়। এর আগে চলে বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কারের খেলা। ফলে আগামী ৯ মার্চ জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত।

দ্বাদশ নির্বাচনে জিএম কাদেরের কৌশলের কাছে ছিটকে পড়েন রওশান এরশাদ। কিন্ত নির্বাচনে জাপার ভরাডুবির পর এরশাদ পত্নী বেগম রওশন এরশাদ নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে পদচ্যুত করেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে। ৯ই মার্চ জাতীয় কাউন্সিল করার ঘোষণা দেন। কাউন্সিল সফল করতে নিয়মিত তৎপরতা চালাচ্ছেন। রওশনের সঙ্গে ইতিমধ্যে হাত মিলিয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ আরও অনেকে। যদিও জিএম কাদের তাদরকে জাপা থেকে বহিষ্কার করেন। নির্বাচন কমিশনও রওশন গ্রুপের আবেদন গ্রহণ করেনি। এমনকি সংসদে বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন জিএম কাদের। তবুও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা সাথে না থাকায় কিছুটা কোণঠাসা জিএম কাদের। রওশন এরশাদের কাউন্সিলের তোড়জোড়ের মধ্যেই জিএম কাদেরও দিয়েছেন কাউন্সিলের ঘোষণা। উদ্দেশ্য নেতাকর্মীদের ধরে রাখা। সেজন্য নেওয়া হয়েছে নানা কৌশল। কাউন্সিলের আগে কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা ও জেলা সম্মেলন করবে এ গ্রুপটি।

বেগম রওশন এরশাদ জাতীয় কাউন্সিল বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একের পর এক বৈঠক করছেন। গতকাল রওশন এরশাদের বাসভবনে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ জাপার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক কাজী ফিরোজ রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মতবিনিময় সভায় রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি হারিয়ে গেলে এদেশ থেকে সহনশীল রাজনীতি হারিয়ে যাবে।

জাতীয় পার্টি থেকে এরশাদের নাম-নিশানা মুছে দেয়া হচ্ছিল। ৯ই মার্চের সম্মেলন হবে ঐতিহাসিক সম্মেলন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিতে নতুন প্রাণের জোয়ার এসেছে। জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিপর্যয় ঘটেছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবার প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মহাসচিব কাজী মামুনূর রশিদ প্রমুখ।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি গতকাল বলেছেন, কোন বিশেষ দল কে বাঁচাতে জাতীয় পার্টি রাজনীতি করবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাবো। জনগণের ডিমান্ড বিবেচনা করে রাজনীতি করবো। আমরা গণমানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মসূচী ঘোষণা করবো। এসময় তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই সকল জেলা ও উপজেলার কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভা, পার্টির ইফতার মাহফিল এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করা হবে।

গতকাল দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের জাতীয় পার্টি মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকল জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবে ওই সভায়। সেখানে জাতীয় পার্টির সার্বিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে ৩ থেকে ৫ সদস্যের ছোট ছোট কমিটি করে জেলায় জেলায় পাঠানো হবে। তারা দলের সাংগঠনিক শক্তি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রে একটি রিপোর্ট দেবে। আগামী আগস্টের মধ্যেই সকল জেলার সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৪ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করার জন্য সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অমার্জনীয় অপরাধের জন্য যারা বহিস্কার হয়েছেন তারা ব্যতিত অন্য বহিস্কৃতরা ক্ষমা চাইলে পার্টি চেয়ারম্যান যেন সহানুভূতির দৃষ্টিতে বিবেচনা করেন সে ব্যাপারে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত অনেকেই আবারও দলে ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন। পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বহিস্কার করার জন্য কাজী ফিরোজ রশীদ এর বাসায় মিটিং হয়েছিল। তাই কাজী ফিরোজ রশীদ কে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তথাকথিত সম্মেলন কমিটির সভায় বক্তৃতা করায় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কারণ, বাবলা সাহেব নিজেই পার্টি থেকে চলে গেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ এর সাথে আমাদের স্পর্শকাতর সম্পর্ক। তাই, তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। রওশন এরশাদ এর নাম ব্যবহার করে যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, এই দলের রেজিস্ট্রিশন নম্বর ১২। এই দলের মার্কা লাঙ্গল। তথাকথিত সম্মেলন যারা করছে তারা ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল যে, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও মহাসচিব কে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের ওই চিঠিকে নাকোচ করে দিয়েছে। আমাদের দলের বাইরে কেউ যদি মহাসম্মেলনও করে সে বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। জাতীয় পার্টির নামে ব্রাকেটে যদি কেউ মই মার্কা, আম মার্কা, জাম মার্কা, বেগুন মার্কা করে, তাহলে করতেই পারে। সে ব্যাপারে আমাদের কোন বক্তব্য নেই।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ