রাজধানীতে শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগ-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:২৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজধানীতে শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগ-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪ ৪:০১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
রাজধানীতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচী পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ জুলাই) রাত থেকেই যাত্রাবাড়ী শনিরআখড়া এলাকায় আন্দোলনরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংর্ঘষ আরও তীব্র হয়। রামপুরা থেকে লিংক রোড পর্যন্ত গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।

মিরপুরে ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। মহাখালী ও নাখালপাড়া এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং, জসিম উদ্দীন এলাকায় সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তবে এবারের আন্দোলনের শুরুটা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছিল সেই ক্যাম্পাস বৃহস্পতিবার পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। তবে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।

রামপুরা

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ, মেরুল বাড্ডা ও লিংক রোড এলাকায় আন্দোলনকারী কয়েকশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে রামপুরা থেকে লিংক রোড পর্যন্ত রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

সারা দেশে ছাত্রদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সড়ক অবরোধ মুক্ত করতে গেলে তাদের সঙ্গে ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশে তাদের ছত্রভঙ্গ করেতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

পরে আন্দোলনে যোগ দেয় ইস্ট ওয়েস্ট, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর শিক্ষার্থীরা আবার একত্রিত হয়ে রামপুরা ব্রিজের পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উত্তরা

রাজধানীর উত্তরায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও র‍্যাবের সংঘর্ষ হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের উত্তরা অংশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় (দেড়টার দিকে) হাউজবিল্ডিং থেকে রাজলক্ষ্মী মোড় পর্যন্ত সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছেন। তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ ও র‍্যাব। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা উত্তরার জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে মূল সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশ ও র‍্যাব তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।

যাত্রাবাড়ী

রাজধানীর শনিরআখড়া, কাজলা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলছে। এ ঘটনায় হানিফ ফ্লাইওভারে আটকা পড়েছে যানবাহন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার পরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিরআখড়া এলাকার দিক থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বর্তমানে শনিরআখড়ার কাজলা এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে অনেক যানবাহন আটকে আছে।

মতিঝিল

মতিঝিলে নটর ডেম কলেজের সামনে পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের গলির ভেতরে ঢুকিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। বিপরীত দিক থেকে শিক্ষার্থীদেরও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা গেছে।

নটর ডেম কলেজের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধাওয়া দিলে শিক্ষার্থীরা কলেজের অপর পাশের এক গলিতে ঢুকে যায়। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা ছুড়ে মেরেছেন। এতে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় ও পথচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা গলির মুখে ও পুলিশ সদস্যদের সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়।

মিরপুর

বৃহস্পতিবার মিরপুর ১০ নম্বরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। তবে সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ছাড়তে থাকেন।

এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে সমাবেশের চেয়ার রেখে পালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় দূর থেকে আ.লীগের নেতারা ইটপাটকেল ছুড়লে শিক্ষার্থীরা ফের ধাওয়া দেয়। এ পর্যায়ে সমাবেশে ফেলে রাখা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। শুরুতে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

এদিকে রাজধানীর মতিঝিলে ইত্তেফাক মোড়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে শাহবাগ মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে সবাইকে চেক করে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে আনসার বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। সেখানেও বিপুল সংখ্যক আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চানখারপুল এলাকায় এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোন সহিংসতা ও সংঘাত ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে গতকাল ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্লাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ