লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ! অসুভ সংকেত নয় কি ?? - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:২৭, শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ! অসুভ সংকেত নয় কি ??

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মার্চ ১৬, ২০২২ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মার্চ ১৬, ২০২২ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

দেশের সর্বত্র জন জিবনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বাজারে ঠিক যেন এক আগুনের লেলিহান চলছে। কিন্তু কেন এমন অবস্থা ? এমন লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কি সরকার ও প্রশাসনের অবাস্থাপনা ? নাকি সরকার ব্যাবসায়ী মহলের নিকট অসহায় বা দ্বায় গ্রস্থ।এই প্রশ্নটি শুধুই আমার নয় দেশের সাধারন খেটে খাওয়া নিম্ন মধ্য ভিত্ব শ্রেনির নয় মধ্য ভিত্ব শ্রেনিরও।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি সুচনা হয়েছে সয়াবিন তৈল দিয়ে। প্রায় পাঁচ কি ছয় মাস আগে হঠাত করে ৭০ টাকার সয়াবিন এক লম্পে ১০০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা হয়ে গিয়েছে। তখন সাধারন আমজনতার মুখে মুখে একটি কথা বলাবলি ছিল , তা হলো নিশ্চিত আমদানী কারকদের থেকে কোন কোন মহল মোটা অংকের বাখড়া লোপাট করে সরকারকে বেকাদায় ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত।
না , সাধারন জনমনের এমন কথাটিকে মোটেই খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই । কেননা দেশ থেকে যেভাবে হাজার কোঠি অর্থ পাচারের পথ সুচনা হয়েছে তা অকল্পনিয়। অর্থ পাচার উন্নতশীল দেশে খুব একটা নজরে পড়েনা। হ্যাঁ উন্নয়নশীল দেশের অর্থ পাচারের উধাহরন বুড়ি বুড়ি । বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। যার পদযাত্রা হয়েছে দেরীতর হলেও ৭৭ কি ৭৮ সালের পরবর্তী সময়ে থেকে। অর্থ পাচারের বিষয় নূতন কিছু নয়। দেশে স্বাধীনতার পরে যে টুকি টাকি হয়নি তা বলা যাবেনা। তবে বিগত অর্ধ যুগেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থ পাচার বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে। কানাডায় , যুক্তরাষ্ট্র সহ নানান দেশে বাংলাদেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তি বর্গের কোঠি কোঠি ডলার বিনিয়োগ করে আলিসান রেডিম্যাট বাড়ী খরিদ করে পরিবার পরিজনের সবাইকে পাঠিয়ে দিয়ে সংকটকালে নিজেরা পাড়ি দেযার রাস্তা একেবারে পাকাপোক্ত করে রখেছে। শুধু যে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বর্গ তা করেছে তা কিন্তু নয়। এমন অনৈতিক কর্মকান্ডে দশের বিভিন্ন প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা গং ও প্রতিযোগিতায় পিচিয়ে নেই। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও আমরা উন্নয়নশীল দেশের গন্ডি অতিক্রম করতে পারিনি। অথচ সেই ৮০ দশকে বিয়েতনাম আজ উন্নতশীল দেশের প্রশংসায় প্রশংসিত । মালশিয়া সহ আরো অনেক দেশ বহু আগে উন্নয়নশীল দেশের কাতার অতিক্রম করে উন্নতশীল দেশ হিসাবে বিশ্বে স্থান করে নিয়েছে। কথার পিঠে কথা বলার মতই আমার আজকের লিখনি অর্থ পাচারের বিষয়টি এসে পড়ার জন্য স্যরি। আসা যাক মূল লক্ষ্যে –
হাঁ , বর্তমানে লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতই চুটে চলেছে দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী মূল্য। এই লাগাম কি টেনে ধরার কোন মনুষ নেই। হাঁ মানুষ বলতে বোঝানো হয়েছে সরকার ও তার প্রশাসনের যন্ত্রকে। এইযে দেশের সর্বত্র সব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী যাহা দশ টাকা ছিল তা পনর , যাহা পনর টাকা তা বিশ টাকা । এমনি গানিতিক হারে চাল ডাল লবন পেয়াজ রশুন মাছ মাংস তরিতরকারি সহ এমন জিনিস খুজে পাওয়া যাবেনা যার দাম বাড়েনি । হোটেল ও চায়ের দোকানে টাংগানো হয়েছে বড়তি দর। ভাবতে অবাক লাগে এই সকল অসাধু ব্যাবসায়ীদের এমন বেপোরয়া ভুমিকা প্রশাসনের গোচরে কেন আসেনি ? দেশের গোয়ন্দা বিভাগের লোকবল কি এমনতর পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করার কোন বিধান নেই। গত ৫ই মার্চ বাংলাদেশ হোটেল মালিক সমিতি ফেনী জেলা শাখার নেতাদের মনগড়া কানুন ঘোষনা দিয়ে হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোতে সকল প্রকারের নাস্তা ও খাওয়া দাওয়ার দাম বাড়িয়ে প্রতাটি হোটেল রেস্তরাঁয় নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে ? দেশের আইন কানুন ও প্রশাসনকে থোরাই কেয়ার না করে এমনতর নোটিশ প্রকাশ কতখানি গ্রহন যোগ্য ? চাই দৃষ্টান্ত মুলক আইনী ব্যাবস্থা।
না , এমন যালিয়াতি শুধু যে হোটেল আর রেস্টুরেন্টের মালিকদের মাঝে প্রতিয়মান হচ্ছে তা কিন্তু নয়। এমন ন্যাক্কারজনক প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে পড়েছে সাধার হাট বাজারের ব্যাসায়ী মালিকদের মাঝে। এই গেল ১১ই মার্চ বিবিসর জরিপে দেখা গিয়েছে বাজারে তৈল নয় শুধু চাল ডাল লবন পেয়াজ রশুন সহ শাক সবজী সহ প্রতিটি পন্যের দাম উর্ধ মুখি। গত কয়দিন পুর্বে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল অনেকটা ক্রেতা শুন্য অবস্থা। স্কুল শিক্ষক আবদুল মোমেন বাজারে এসে একরাশ হতাশা নিয়ে বিবিসিকে বলছিলেন , ” এক সয়াবিন তৈল কে কন্দ্র করে সকল প্রকারের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম লাগামহীন ঘোড়ার মতই দৌড়াচ্ছে , যেমন মাছের দাম ৫০০ টাকার ক্ষত্রে ৮০০ , চল্লিশ টাকার সবজি ৭০/৮০ , ( তাও শতভাগ মানহীন ) এক কথায় দাম বাড়েনি এমন জিনিসপত্র খুজে পাওয়া দুস্কর । গরু , ছাগলের গোস্ত আর দেশি বা ফার্মের মোরগ মোরগী ? তাতো আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষের খরিদ করার মত অবস্থা মোটেই নেই। আমরা মধ্যবিত্তরা যেমন হীমসিম খাচ্ছি নিম্ন শ্রেনীর মানুষদের কথা ভাবলে কি বলবেন ?????
এইতো গতকাল একজন রিস্কা চালকের পেসিঞ্জার হহওয়ার সুবাদে তাকে প্রশ্ন করেছিলাম , চাচা দিনকাল কেমন যাচ্ছে ? তিন বললেন বাবাজি দেশে কি আবার সেই ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ আইতাছে ? তাই যদি হয় আমরাতো বৌ বাচ্ছা নিয়ে মইরা যাওন লাগব। আমি প্রশ্ন করলাম কেন সরকার তো বলছে মানুষের আয় দ্বিগুন বেড়ছে , তাই মনুষের ক্রয় ক্ষমতা ও বেড়ছে । শুতরাং আপনি কেন এমনটি বলছেন ? চাচ মিঞা রিস্কা চালাতে চালাতে একটু খানি ঘাড় ফিরিয়ে বললেন – ” বাবাজি সরকারের মন্ত্রীর কথাটি তার মতে ঠিক বলেছে , কারন আমরা তো তাগো কাতারের না। জানিনা আপনার অবস্থা । দেশের বড় লোকরা দিন দিন বড়ই হচ্ছে , গরীব আর থাকনের কাম নাই। বড় লোকদের বাদদিলে ৮০% লোকের কথা ভাবার মানুষ এখন খুইজ্বা পাওন যাইবনা। বাবাজি আমরা হলাম পাটা ও উতার ঘষাঘষির পিষা মরিচ। যেই আসে আমাদের পিষাইয়্যা যাচ্ছে। আমরদের কে নিয়ে ভাববার মানুষ এখন নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরো কয়েকজন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেনীর মানুষদের সাথে কথা বলে আমার আমার চোখ কপালে ওটার মতই হয়েছিল। কারন কথার পিঠে কথায় ওরা বলছিল , উন্নয়ন ? সেতো রাস্তাঘাট আর বড় বড় দালান কোঠার উন্নয়ন। তা দিয়ে কি সাধারন মানুষ ও অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের পেট ভরবে ? পেট ভরছে ওদের যারা এমন উন্নয়নের বুলি ছড়িয়ে নিজেদের ভুঁড়ি দিন দিন বড় করছে আর আমাদের টাকা লুটপাট করছে আর আমাদের ঘাড়ে ঋনের বোঝা দিন দিন ভারী করছে। তা হলে বোঝেন এমন উন্নয়ন দিয়ে জাতির কতখিনি ভাগ্য ফিরেবে ? আমার গ্রমাের বয়োস্ক এক বড় ভাইয়ের সাথে আপালচিরিতায় তিন বলছিলেন ,” চৌধুরী সাহেব , তদকালিন আইয়ুব খাঁনও কিন্তু উন্নয়নের বুলি ছড়িয়েছি ছিলেন” । ফলে কিহয়েছে ? মানুষের স্বাধীকার জব্ধ করেছিল। আর তারেই প্রেক্ষিতে আমার আমাদের গনতন্ত্র ও ন্যায্য অধীকার আদয়ের জন্য বুকের তাজা রক্ত দিতে হয়েছে। পেয়েছি স্বাধীনতা। অধীকার ও স্বাধিকার কি এখনো জন জিবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ? আসলে আমরা বড়ই অভাগা জাতি।
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ , দেশের এমন নৈরাজ্য যদি পাড় পেয়ে যায় তা হলে দেশের রাজনৈকি , প্রশাসনিক অবস্থা কোন দিকে গড়াবে। সরকার ও সরকারী প্রশাসন কেনই বর্তমান অসাধু ব্যাবসায়ীদের এমন ন্যাক্কারজনক নৈরাজ্যের লাগামকে টেনে না ধরা হয় তাহলে দেশের ৮০% ভাগের বেশী মনুষের অবস্থা কি হবে একটু ভেবে দেখবেন কি ?
সর্বশেষে একজন রাজমিস্ত্রির মতের সাথে মত মিলিয়েই বলছি , না টিসিবির গাড়ী নয় , চাই প্রতিটি জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে রেশন কার্ডের মাধ্যমে ডাল , চাল , তেন , লবন পেয়াজ রশুন সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের নাগালে পৌঁচানোর তড়িৎ ব্যাবস্থা গ্রহন অপরিহার্য ।
একজন প্রাক্তন শিক্ষক বলছিলেন — ” দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল গুলো এবং সরকার যদি শতভাগ ব্যবসা বান্ধব হয়ে পড়ে তা হলে দেশে ফ্যাসিস্টবাদ ও মাফিয়া চক্র স্থায়ি চক্রান্ত কে প্রতিহত বা কাটিয়ে আসা অসাধ্য হয়ে পড়ে।
বর্তমান এমন নাভিশ্বাস পরিস্থিতি কি দেশ জাতী ও দেশের সরকারকে আবার সেই ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের পথে ধাবিত করার কোন চক্রান্ত চলছে ?
তা খতিয়ে দেখা অপরিহার্য বলে আমি মনে করি। আর তাই প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। দেশের সর্বত্র সকল অসাধু ব্যাবসায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি করা অতিব জরুরী ।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
সাংবাদিক , রাজনৈকি গবেষক ও কলামিস্ট

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com