শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০৩, সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

 

৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী,‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

দেশের মানুষ প্রতি বছর ৩০ মে শোকাহত হৃদয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। তার স্মৃতি ও অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করে। ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে তৎকালীন বিশ্ব নেতারা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের কাছে শোকবাণী পাঠিয়েছিলেন। শোকবাণীতে শহীদ জিয়াকে তারা কিভাবে দেখতেন, তা প্রতিফলিত হয়।

রেডিওতে মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা

ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯শে মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দিনের সফরে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন।

তার সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমদিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান মি. রহমান।

বিশ্ব নেতাদের শোকবাণী

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব ডক্টর কুর্ট ওয়াল্ড হেইম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিগ্যান, সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্টাডি কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ে জিয়াং ইইং ও প্রধানমন্ত্রী ঝাও জিয়ং ইয়াং, ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস মার্গারেট থ্যাচার, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, জাপানের সম্রাট হিরোহিতো, সৌদি আরবের বাদশাহ খালেদ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুহার্তোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ও আন্তর্জাতিক দুনিয়ার নেতারা শোকবাণীতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বের একজন বিশিষ্ট নেতা হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। শোকবাণীর ভাষা স্বতন্ত্র ও ভিন্নধর্মী হলেও তাদের বক্তব্যে মূলত প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভূমিকা ও অবদানের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিকগুলোই প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, জাতীয় উন্নয়নে, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এবং সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি বিশ্ব নেতারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা এবং অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ।


জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী:

* জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম ছিল জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়।

* তাঁর শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়। ভারতবর্ষ বিভাগের পর (১৯৪৭) তাঁর জন্মস্থান পূর্ব পাকিস্তানের অংশে চলে আসে ,

* করাচীতে এক মাসের মতো ভাড়া বাসায় থাকার পর জেকব লাইনে তারা বসবাস শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই কমল ‘করাচী একাডেমী স্কুলে’ সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে এই স্কুল থেকেই তিনি ২য় বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন ডি.জে কলেজে। একই বছর তিনি মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

* ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি সেখানে দুই বছর চাকুরি করেন, তারপর ১৯৫৭ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

* ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের বালিকা, খালেদা খানমের সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

* ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে।

* ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান।

* ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

* ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
এবং মেজর জিয়া এবং তাঁর বাহিনী সামনের সারি থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং বেশ কয়েকদিন তাঁরা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে কৌশলগতভাবে তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করেন। ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রথমে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম, নোয়াখালী,রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেণী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। তিনি সেনা-ছাত্র-যুব সদস্যদের সংগঠিত করে পরবর্তীতে ১ম,৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই তিনটি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমান, যুদ্ধ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিল হতে জুন পর্যন্ত ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং তারপর জুন হতে অক্টোবর পর্যন্ত যুগপৎ ১১ নম্বর সেক্টরের ও জেড-ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।



স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার নিয়োগ করা হয় এবং ১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ-অফ-স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে এবং বছরের শেষের দিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।


১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দলের চেয়ারপারসন।

সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান।
জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
• বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া।
• দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব।
• সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন।
• গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান।
• গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন।
• গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করা।
• হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ।
• ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ।
• নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ।
• কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।
• কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তানীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ।
• যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ।
• ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ।
• বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।
• তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ
গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
• জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ।
• তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
• দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ।
• বেসরকারিখাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ।
• জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানীর দ্বার উন্মোচন।
• শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ।

* দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির আভাস দিয়ে তিনি বলেন, “I will make politics difficult for the politicians” (আমি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদের জন্য কঠিন করে দেব)।

৩০ মে শোকাহত হৃদয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আল্লাহ পাক তিনিকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন আমিন ।

লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সম্পাদক জনতার আওয়াজ ডটকম ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ