সংকট নিরসনে ৯ দাবি কোরিয়া ভিসা প্রত্যাশীদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৩১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংকট নিরসনে ৯ দাবি কোরিয়া ভিসা প্রত্যাশীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৫ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৫ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় পাশকৃত রোস্টারভূক্ত ডিলেট হওয়া এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) কর্মীদের পুণঃরোস্টার ও সকল রোস্টারভূক্তদের ভিসা ইস্যু করার লক্ষ্যে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন ইপিএস কর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় রোস্টারভূক্ত সকল ভিসা প্রত্যাশীগণের’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ইপিএসের যাত্রা এক যুগেরও অধিক সময় ধরে চলমান রয়েছে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইপিএস সিস্টেম বাংলাদেশে চালু হয়েছিল, এক যুগ পরে এসেও সেই কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইপিএস কর্মীদের কোরিয়ায় যাওয়ার সকল দায়-দায়িত্ব বোয়েসেলের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, তাদের অপেশাদারিত্ব ও অনিয়মতান্ত্রিক রোস্টার ব্যবস্থা ও গবেষণাহীন কার্যক্রমের ফলে প্রায় ২১ হাজার ছেলে-মেয়েদের স্বপ্ন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা রোস্টার অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও বোয়েসেল সেই সকল কর্মীদের বিদেশযাত্রা নিশ্চিত না করে নতুন সার্কুলার দিয়ে কর্মীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে চলছে।

তারা আরও বলেন, বোয়েসেল আমাদের উপর অন্যায় অবিচার করছে। ইপিএস এর অনিয়মতান্ত্রিক সিস্টেমের কারনে আজ আমরা ভাষা শিখেও বেকার। ভাষা শিখে রোস্টারভূক্ত হয়েছি, তবুও আমাদের ফাইল কোরিয়ায় পাঠানো হয়নি। আমরা এসব সমস্যার অবসান চাই।

এ সময় তারা তাদের চলমান সংকট নিরসনে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো:

১। ২০২২ সাল থেকে শুরু করে যে সকল কর্মী ডিলেট হয়েছে বা হবে সে সকল কর্মীদের রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পুণঃরোস্টার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ২০২৩ সাল সহ যে সকল ইপিএস কর্মী রোস্টারে আছে তাদের ডিলিট না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

২। দুই বছরের ১০টি ইস্যূতে ৭-৮ বার কোম্পানির মালিকের কাছে আমাদের ফাইল বাধ্যতামূলক পৌছাতে হবে এবং সেটা সিরিয়াল/সাল/বছর অনুযায়ী হতে হবে।

৩। বর্তমান রোস্টারকৃত কর্মীদের মধ্যে ৭৫-৮৫ ভাগ কোরিয়াতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সকল প্রকার সার্কুলার বাণিজ্য বন্ধ রাখতে হবে।

৪। কোরিয়ার প্রত্যেক বানিজ্যিক জোনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক এজেন্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে, কমপক্ষে (৪-৫ জন)। যারা প্রত্যেক ইস্যুর পূর্বে তাদের নির্ধারিত জোনের আওতাভুক্ত কোম্পানিতে গিয়ে ইস্যুর জন্য কোম্পানির মালিকদের উৎসাহিত করবে।

৫। ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন মুক্ত বাংলাদেশ ইপিএস ঘোষণা করতে হবে। আর্থিক লেনদেনের কোন প্রমান পেলে বোয়েসেল/এইচ.আর.ডি সেই সকল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয় কোন পক্ষ থাকলে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৬। নতুন নতুন খাত/সেক্টর খুঁজে বের করে রোস্টারভুক্তদের মধ্য হতে সরকারি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী গড়ে তুলে তাদের কোরিয়া যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় ও কূটনৈতিক বিচক্ষন্তার মাধ্যমে সকল রোস্টারভুক্তদের কোরিয়ায় প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে যাতে কোন কর্মী কোরিয়াতে প্রবেশ করতে না পারে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৭। মৎস, কনস্ট্রাকশন, শিপ বিল্ডিং খাতের ভিসা ইস্যু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। রোস্টারকৃত কর্মীদের ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন অঞ্চল থেকে রোস্টারবিহীন কাউকে ভিসা ইস্যু করা যাবেনা, এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অন্য খাত/সেক্টরে রোস্টার পরিবর্তন করে হলেও ভিসা ইস্যু নিশ্চিত করতে হবে।

৮। কোরিয়া প্রবাসী কোন কর্মী কোম্পানি পরিবর্তন বা রিলিজ নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির এজেন্ট স্ব-শরীরে কোম্পানিতে গিয়ে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

৯। বর্তমান সংকট নিরসনে দ্রুততার সহিত বোয়েসেলের কর্মকর্তাগন সফল না হলে ব্যার্থতার দ্বায় নিয়ে অতিশীঘ্রই তাদের পদত্যাগ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে বোয়েসেলকে বিচক্ষণ লোকদের সমন্বয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ