সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বিএনপি বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বিএনপি বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ১৩, ২০২৩ ৩:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ১৩, ২০২৩ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। ভোট বর্জনের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মেয়র পদে নেতারা নির্বাচন করছেন না। যদিও নিজে প্রার্থী না হলেও এলাকায় অবস্থান ধরে রাখতে অনেক জায়গায় ছেলে কিংবা পরিবারের কাউকে ভোটে দাঁড় করিয়েছেন অথবা ভোট করানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। তবে দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় কাউন্সিলর পদে কেন্দ্রের নির্দেশনা মানছেন না স্থানীয় নেতারা।

গাজীপুরে এরই মধ্যে বিএনপির পদধারী ৩০ নেতা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ফয়সাল আহমেদ সরকার। তিনি গাজীপুর মহানগর শ্রমিক দলের বর্তমান আহ্বায়ক। অন্য সিটিতেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে পদধারী অনেক নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করেছেন, অনেকে শেষ মুহূর্তে সংগ্রহ করবেন।

তবে এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে বিএনপি। আগামীতে এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে যে কোনো মূল্যে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাইকমান্ড। তাই দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট করলে কাউকেই দলের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া হবে না, সেটা মেয়র কিংবা কাউন্সিলর—যে পদেই হোক না কেন। এর অংশ হিসেবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গাজীপুর সিটিতে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করায় ৩০ জনের মধ্যে ১৯ জনকে এরই মধ্যে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। বাকিদেরও শিগগির শোকজ করা হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। সেক্ষেত্রে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কিংবা দলের সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, তারা ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করে দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছেন। সুতরাং এটা সম্পূর্ণরূপে শৃঙ্খলাবিরোধী। তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে শোকজ করা হয়েছে। এখন উত্তর পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত পরশুদিন (বুধবার) ১৯ জনকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও যাদের তথ্য পাওয়া যাবে, তাদেরও শোকজ করা হবে। জানা গেছে, ১২ মের মধ্যে তাদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তপশিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ৮ মে এবং ভোট গ্রহণ হবে ২৫ মে। খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে, ২৫ মের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে এবং ভোট গ্রহণ হবে ১২ জুন। রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৩ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, বাছাই ২৫ মে ও ১ জুনের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ভোট গ্রহণ হবে ২১ জুন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচটির মধ্যে শুধু সিলেট সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কাউন্সিলর পদে বিএনপির স্থানীয় নেতারা নির্বাচন করেছিলেন এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা বিএনপির কাউন্সিলরও নির্বাচিত হন। পরে তাদের অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটির ভোটের সবকটিতেই মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

জানা গেছে, গাজীপুর সিটিতে হাসান উদ্দিন সরকার ভোট না করলেও অবস্থান ধরে রাখতে কৌশলের অংশ হিসেবে তার ভাতিজা সরকার শাহ্ নূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। রনির বাবা নুরুল ইসলাম সরকার কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা ছিলেন। রনি টঙ্গী থানা বিএনপির ৩ নম্বর সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। গাজীপুরে সরকার পরিবারকেই কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনীতি অনেকটাই আবর্তিত হয়। বিশেষ করে টঙ্গী এলাকায় এ পরিবারের বিরাট প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৩০ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন মূল দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তাদের মধ্যে বাসন মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মুসা চৌধুরী), সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হান্নান মিয়া হান্নু, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সদস্য জি এস মনির, গাছা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহফুজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সদস্য ফিরোজা বেগম, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলম, টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি হাসিনা মমতাজ, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সদস্য আনোয়ার সরকার, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন মিলন, পুবাইল মেট্রো থানা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বিকি, মোহাম্মদ শফিউদ্দিন আহমেদ ও মেট্রো পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শফিউদ্দিন আহমেদ অন্যতম।

রাজশাহীতে গতবারের বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবার নির্বাচন করবেন না। তবে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাহিদ হাসান নির্বাচন করতে পারেন বলে গুঞ্জন আছে। যদিও তিনি ছয় বছর ধরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো পদে নেই।

সাহিদ হাসান জানান, অনেকে তাকে প্রার্থী হতে বলেছেন, তিনি এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সময়মতো অবস্থান খোলাসা করবেন। তবে রাজশাহী বিএনপির অনেকের দাবি, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারই তাকে নির্বাচনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এদিকে কাউন্সিলর পদে এরই মধ্যে দলের অর্ধশত নেতা মনোনয়নপত্র তুলেছেন।

সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তিনি ২০ মে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন। তবে বিএনপির দাবি, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ওইদিন তিনি নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেবেন। তবে কাউন্সিলর পদে সিলেট বিএনপির একটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না-ও মানতে পারে। এমন শতাধিক নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বরিশালে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মজিবুর রহমান সরোয়ার ভোট করবেন না। তবে বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল আহসান রূপম স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। তিনি এরই মধ্যে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। আহসান হাবিব কামাল বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কামাল গত বছর মারা গেলেও বরিশালে এ পরিবারের প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহানুভূতি রয়েছে। সেই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান তার ছেলে রূপম। বরিশালে কাউন্সিলর পদে পদধারী কেউ এখনো মনোনয়নপত্র কেনেননি। তবে অনেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

খুলনা সিটিতে বিগত নির্বাচনে মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে কাউন্সিলর পদে দলের অনেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তালিকায় জোরালোভাবে বর্তমান তিনজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর রয়েছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ