হজের খুতবায় মুসলিমদের ঐক্য, সংহতি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০৯, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হজের খুতবায় মুসলিমদের ঐক্য, সংহতি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফার ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে খুতবা পাঠ শুরু করেন মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। মক্কার মসজিদে নামিরা থেকে প্রদত্ত এই খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

হজের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ধৈর্য ও তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, হজ কেবল একটি ইবাদত নয়; এটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার এক অনন্য প্রতীক।

খুতবায় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নানা সংকট ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মুসলিম উম্মাহকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, পারস্পরিক ঐক্য অটুট রাখতে হবে এবং মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে। তার ভাষণে আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে।

সমবেত লাখো মানুষের উদ্দেশে ইমাম বলেন, “হে মানুষ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তাকওয়াই হলো এমন একটি গুণ, যার মাধ্যমে মানুষ পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আখিরাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো একত্ববাদ বা তৌহিদের ওপর অটল বিশ্বাস রাখা এবং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা।

খুতবায় হাজিদের সততা ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি সবাইকে মিথ্যাচার, গিবত ও অন্যায় আচরণ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইবাদতের পবিত্রতা বজায় রেখে হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।

এ সময় মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও উন্নতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্যও দোয়া করা হয়। মোনাজাতে শেখ হুদাইফি বলেন, “হে আল্লাহ, হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন। তাদের জন্য হজের সব কার্যক্রম সহজ করে দিন এবং নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তৌফিক দান করুন।”

খুতবা শেষ হওয়ার পর হাজিরা মসজিদে নামিরা-তে একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা পালনের উদ্দেশ্যে তারা মিনার পথে যাত্রা করবেন।

ইসলামের ইতিহাসে মসজিদে নামিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। কারণ, এখানেই বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন, যা মুসলিম বিশ্বে আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ