৩ দিনের অবরোধ শুরু আজ থেকেঅবরুদ্ধ নয়াপল্টন; নেতারা নেই প্রকাশ্যে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:২১, বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৩ দিনের অবরোধ শুরু আজ থেকেঅবরুদ্ধ নয়াপল্টন; নেতারা নেই প্রকাশ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৩ ৮:২০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৩ ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধ। সারা দেশে রেল, নৌ ও সড়ক পথে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ‘সর্বাত্মকভাবে’ এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সমমনা জোট ও দলগুলো।
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে পুলিশি হামলা, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি।

গতকাল সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘সর্বাত্মকভাবে’ অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা হবে সর্বাত্মক অবরোধ। সর্বাত্মক বলতে রাজধানীর সাথে জেলার যে পথগুলোতে সংযোগ রয়েছে, জেলার সাথে উপজেলা বা উপজেলার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের যে পথগুলোতে সংযোগ রয়েছে সেই মেইন পথগুলোতে অবরোধ হবে। রেলপথগুলোতে অবরোধ হবে, নৌপথগুলোতে অবরোধ হবে। তিনি বলেন, এই তিন দিনের অবরোধে আওতামুক্ত থাকবে সংবাদপত্রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবহনের গাড়ি।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, কঠোর কর্তৃত্ববাদের প্রভু শেখ হাসিনা এখন গোটা দেশকে পরাধীন করেছে। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জনগণ দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ। আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম কখনো পরাজিত হয় না। চক্রান্তকারী নিষ্ঠুর আওয়ামী সরকারের পতন অত্যাসন্ন। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন মামলা-হামলা-গ্রেফতার দিয়ে কখনোই থামানো যাবে না।

পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও টার্গেট কিলিং : রিজভী বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে আওয়ামী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অনেক দৃশ্যের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে, এর বিভিন্ন ফুটেজ নানাভাবে দেখা যাচ্ছে। সায়েদাবাদ থেকে লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশ প্রটেকশনে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের গেটে আক্রমণ ও ভাঙচুর করতে দেখা যায়। এটা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে এবং হাতে লাঠি নিয়ে প্রধান বিচারপতি বাসভবনের গেটে ভাঙচুর করছে। এদের সাথেই কিন্তু পুলিশ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো বের হচ্ছে।

তিনি বলেন, আরেক উদ্বেগজনক ঘটনা হচ্ছে, আবার সেই পুরনো টার্গেট কিলিং করা হচ্ছে। রাজশাহীতে দুই ডাক্তার- একজন এমবিবিএস ডাক্তার, আরেকজন পল্লী চিকিৎসক, দুইজন এক রাতেই নিহত হয়েছে। তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের এলাকার নেতা। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কুমিল্লা জেলার মোকাম ইউনিয়নের নেতা জাকির হোসেনকে পুলিশ ধাওয়া করে, এই ধাওয়ার মুখে সে পড়ে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে। এগুলো সব টার্গেটেড বিষয় বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।

রিজভী বলেন, নিপীড়ন-নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় একদিকে মিথ্যা মামলার হিড়িক, আরেক দিকে পাইকারি হারে গ্রেফতার। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার। অন্য দিকে সাজা দেয়ার হিড়িক চলছে। গত জাতীয় নির্বাচনের ঢাকা-১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিসহ ১০ জনকে এক ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড ও আরেক ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণফোরাম-পিপলস পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, লেবার পার্টি, এনডিএমসহ সরকার পদত্যাগের যুগপৎ আন্দোলনের সাথে যুক্ত দলগুলো অবরোধ কর্মসূচি করবে।
সরকার পদত্যাগের এক দফার দাবিতে বিএনপি যুগপৎভাবে বিভিন্ন দল ও জোটকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করে গত ১২ জুলাই। এর পর থেকে টানা তিন মাসে তারা ঢাকাসহ সারা দেশে রোড মার্চ, পদযাত্রা, গণমিছিল, কালো পতাকা মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, সমাবেশ-বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি করে। এরপর গত ২৮ জুলাই তারা ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরদিন ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি করেছে। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনসহ ৯টি স্থানে মহাসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপিসহ সমমনারা। কিন্তু বিএনপির সমাবেশ শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি অ্যাকশনে তা পণ্ড হয়ে যায়।

নয়াপল্টন অবরুদ্ধ : এ দিকে নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয় এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। গতকাল কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায, ‘ডু-নট ক্রস ক্রাইম সিন’ লেখা হলুদ ট্যাপে দিয়ে কার্যালয় তিন দিক ঘিরে রাখা হয়েছে। দুই প্রান্তে এক স্তরের পুলিশ অস্ত্র হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট তালা লাগানো। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির অফিস এখন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে। এখানে তারা তদন্ত কাজ করছেন।

এ দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লাইট পোস্টগুলোতে নতুন করে আরো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে মই দিয়ে নতুন ক্যামারা স্থাপন করছেন টেকনিশিয়ানরা। গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর গভীর রাতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে সিআইডি তদন্তকাজ শুরু করে। গত রোববার ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে সরজমিনে তদন্ত এসে ১১টি আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। ক্রাইম সিন ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, তারা আলামতগুলো পরীক্ষা করতে কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছে। কার্যালয়টি বন্ধ হয়ে পড়ায় নেতাকর্মীদের এই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় বেশির ভাগ নেতাই আত্মগোপনে চলে গেছেন।
বিএনপি মহাসচিবকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে রোববার রাতে হাজির করা হলে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com