আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিগত ১৫ বছরের মিনিমাইজ এখন প্রমানিত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১২, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিগত ১৫ বছরের মিনিমাইজ এখন প্রমানিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ৪, ২০২৫ ১১:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ৪, ২০২৫ ১১:০২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ফেনী পৌরসভার আওয়ামী ক্যাডার চিহ্নিত খুনি পালিয়ে যাওয়া কাউন্সেলর নিজাম হাজারীর বর্ডিগার্ড শাহাবুদ্দিন তসলিমের অসামপ্ত কাজের দায়িত্ব নিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল।

ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি ৪নং ওয়ার্ডের সুফিয়া- নুরীয়া মাদ্রাসা সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৩ সালে কাজটি শুরু হলেও ৫ আগস্টের পর স্থানীয় কাউন্সিলর পালিয়ে যাওয়ায় কাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আগস্টের বন্যায় ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় নির্মাণাধীন এই সড়ক। হাতবদল হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সড়কটির কাজ শুরু করেছেন জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল। শিডিউল অনুযায়ী কাজের ঘোষনা দেন তিনি।

জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেনী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে সুফিয়া- নুরীয়া মাদ্রাসা সড়কের ৬৯৩ মিটার সংস্কারের জন্য প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মের্সাস আনোয়ার হোসেন এন্টারপ্রাইজের নামে কাজটি ভাগিয়ে নেন ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন। আংশিক কাজ করে তিনি ১৮ লাখ ৫০ হাজার বিল উত্তোলন করে নিয়ে যান। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৮টি হত্যাসহ ১২টি মামলার আসামি হওয়ায় পালিয়ে যান কাউন্সিলর। বন্ধ হয়ে যায় সড়কের কাজ। দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর পুনঃটেণ্ডারের উদ্যোগ নেন পৌর প্রশাসন। পুনঃটেন্ডার ছাড়াই কাজটি ফের শুরু করেন জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল। কাজের তদারকি জন্য তিনি জেলা স্বেচ্ছসেবকদলের সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই চুট্টুকে দায়িত্ব দেন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজটি ফের শুরু করেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ি ফজলুল করিম জানান, পৌরসভার মধ্যে ৪ নং ওয়ার্ড অবহেলিত। এখানকার বরাদ্দ অন্য ওয়ার্ডে কাজ হয়। ফকির বাড়ির ড্রেনের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কথা শুনেছি কিন্তু ২ টাকার কাজও হয় নি। মাদরাসা সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙা ছিল। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে অনিয়ম আর অনিয়ম চলছে। রাস্তাটি নিচু ছিল, বন্যায় আরও নিচু হয়েছে, এ অবস্থায় কার্পেটিং করলে বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকবে, ছয় মাসও টিকবেনা।

এছাড়াও স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান , নিম্মমানের সব নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, এ রোড বেশিদিন থাকবেনা।

জামাল উদ্দিন ছুট্টু বলেন, কাজের আগেই অর্ধেক টাকা নিয়ে কাউন্সিলর শাহাবুদ্দিন পালিয়েছে। জুয়েল ভাই কেবল রাস্তাটির কার্পেটিং এর দায়িত্ব পেয়েছেন।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাজটি আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর সাহাবুদ্দিন শুরু করেছিলেন। তিনি পালিয়ে যাওয়ায় কাজটি বন্ধ ছিল। আবার কারা কিভাবে শুরু করেছে, তা জানিনা। তবে স্থানীয়দের দুর্ভোগ হচ্ছে, তাই দ্রুত কাজটি শেষ হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, আমার দায়িত্ব মেঘাডমের ওপর কার্পেটিং (সিলকোড) করে দেয়া। শিডিউল অনুযায়ী ৩৫ সে.মি. কার্পেটিং হবে। আগের অভিযোগের বিষয়ে আমি জানিনা।

পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বরাত দিযে উপ সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, রাস্তাটি টেন্ডার অনুযায়ী সংস্কার শুরু হয়েছিল। তবে বন্যার কারনে কাজটি বন্ধ ছিল।২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত রাস্তাটির ২৪ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়। এ সড়কের কাজে ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উক্ত বরাদ্দে দুই ফুট উচু করা সম্ভব নয় । টেন্ডারেও উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠান পালায়নি, যারা কাজ করতো তারা পালিয়েছে, নতুন লোক কাজটি শুরু করেছে। পৌরসভা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই চিনে, ঠিকাদার কাকে দিয়ে- কিভাবে কাজ শেষ করবে, সেটা তার ব্যপার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ