আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনে পরিণত করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:২৪, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনে পরিণত করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

 

চলমান দফাভিত্তিক আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনে পরিণত করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে সখ্য গড়ে বাড়ানো হচ্ছে মিত্রের সংখ্যা। সেইসঙ্গে সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ বা নতুন কমিটি দরকার, সেগুলোর কাজ শেষ করা হবে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান তথা এপ্রিলের মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শেষ করতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ ও বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরাতেও কার্যক্রম চলছে বলে বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নির্বাহী কমিটির একটি সম্পাদকীয় পদ পূরণ করা হয় গত রোববার।

বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জোটকে সঙ্গে নিয়ে ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম ধাপের কর্মসূচি হিসেবে শান্তিপূর্ণ গণমিছিল হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল সারা দেশের ১০টি বিভাগীয় শহরে ৪ ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। তবে বিএনপির এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে ক্ষমতাসীনদের কার্যক্রমের ওপর। সরকার দাবি না মানলে সব দল ও জোটকে সঙ্গে নিয়ে এক দফার কঠোর আন্দোলনে নামবে বিএনপি।

দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যায়, দুঃশাসন, বিরোধীদের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন ও হামলা-মামলা সীমা ছাড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংস। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ। ফলে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে আর সময় দেওয়া যায় না। এমতাবস্থায় অতি দ্রুত সরকার পতনের লক্ষ্যে এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। সেই আন্দোলন আসন্ন রমজানের আগেই কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তা না হলে রমজানের মধ্যে দল গোছানো শেষে রোজার পরই আন্দোলন নতুন মাত্রায় উপনীত হবে। বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি যে কোনো সময় নির্বাচন হলে সে বিষয়েও তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যুগপৎ আন্দোলন সফলের লক্ষ্যে গঠিত একাধিক জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জানান, বিএনপি তাদের কাছে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে মতামত নিয়েছেন। বিএনপির নেতৃবৃন্দ আসন্ন রমজানের আগেই সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছেন। তবে সেটি পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোজার পরই বড় ধরনের লাগাতার কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আর এ দাবি আদায়ে রাজপথের শক্ত আন্দোলন দরকার, যেটাকে টার্গেট করে বিএনপি তার সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সবাইকে নিয়ে দলের সেই লক্ষ্য অর্জন করতে তারা বদ্ধপরিকর। যারা দলে নেই তারাও আসবেন।

পূরণ হচ্ছে নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ

জানা যায়, চূড়ান্ত আন্দোলনকে সামনে রেখেই সারা দেশে তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তেমনি নির্বাচনের সময়েও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল মিলবে। ফলে সারা দেশের জেলা, মহানগরের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ হচ্ছে। বিএনপির দপ্তর থেকে এরই মধ্যে শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে দলের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে। এর পরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খোঁজ নিয়ে এসব পদে যোগ্য ও ত্যাগীদের পদায়ন শুরু করেছেন। নির্বাহী কমিটির যেসব পদ শূন্য রয়েছে সেগুলোতে নতুন মুখ আসছে এবং আসবে। এসব ক্ষেত্রে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার রাতে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুলকে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন বিএনপি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রকিবুল ইসলাম বকুল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

জানা গেছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৫টি শূন্য পদ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। সাতটি যুগ্ম মহাসচিব পদের মধ্যে কয়েকটিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে, যেখানে পদোন্নতি ও নতুনদের স্থান দেওয়া হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুজন যুগ্ম মহাসচিব, যুববিষয়ক সম্পাদক পদে নতুন মুখ দেখা যাবে। এ ছাড়া সম্পাদকীয়, সহ-সম্পাদকীয় ও নির্বাহী কমিটির বেশিরভাগ পদে নতুনদের স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

বহিষ্কৃতদের দলে ফেরানোর উদ্যোগ

নানা কারণে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে দল থেকে বহিষ্কৃত অসংখ্য নেতা, যাদের মধ্যে এমনও আছেন যারা স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে খুবই প্রভাবশালী। এমন যোগ্য ও ত্যাগীদের দলে ফেরানোর কার্যক্রম চলমান আছে বিএনপিতে। যারা দলে ফিরতে আবেদন করেছেন তাদের বেশিরভাগকে ফেরানো হয়েছে। এখনো যারা বহিষ্কৃত ও নিষ্ক্রিয়, তাদের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে এবং দলে ফেরাতে বিএনপির হাইকমান্ড ইতিবাচক। গত এক যুগে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের নামের তালিকা তৈরি করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে আগেই। তালিকায় বহিষ্কৃত নেতার নাম, পদবি, ঠিকানা, বহিষ্কারের কারণ ও প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশকারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নানা কারণে রাগ-ক্ষোভ ও অভিমানে যেসব নেতা নিষ্ক্রিয় এবং কথিত সংস্কারপন্থি নেতাদেরও তালিকা করা হয়েছে। তাদেরকেও দলে সক্রিয় করা চিন্তা আছে বিএনপির।

দলের নির্বাহী কমিটির কী অবস্থা

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর ৬ আগস্ট বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯ পদের মধ্যে শূন্য ৫টি। ভাইস চেয়ারম্যানের ১১টি, উপদেষ্টা ১৪টি, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক ৭টি, পদোন্নতি ও পদত্যাগের কারণে ৯টিসহ মোট ৭০টি পদ শূন্য। এরই মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি নতুনভাবে দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যতম অঙ্গ সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল এবং ওলামা দলের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের আংশিক কমিটির পর গত ১১ সেপ্টেম্বর ৩০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের দলিল পাঠানো হয়েছে তারেক রহমানের কাছে। এ কমিটি ভেঙেও দেওয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটি হয়, যা মেয়াদোত্তীর্ণ।

যুবদল

২০২২ সালের ২৭ মে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে অনেক আগেই। তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা।

স্বেচ্ছাসেবক দল

২০২২ বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলেও গত ৩ জানুয়ারি রাতে সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

মহিলা দল

২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আর কাউন্সিল করতে পারেননি। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সংগঠনটির ২৬৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ।

শ্রমিক দল

২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিল হয়। এই কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায়। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ুন কবির, কাজী আমীর খসরু, আবুল খায়ের খাজা, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নতুন কমিটিতে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

তাঁতী দল

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব ১২৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, যা মেয়াদোত্তীর্ণ।

মৎস্যজীবী দল

২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে ১৫৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আব্দুর রহিম বলেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় জনশক্তি ক্ষয় হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ