গানে ও ছন্দে ঋতুরাজ বসন্ত-বন্দনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের বসন্ত-বন্দনা অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। ছবি: খবরের কাগজ
বসন্ত মানেই রঙের উৎসব। বসন্ত মানেই প্রাণের স্পন্দন। আর সেই স্পন্দন যদি মিশে যায় রবীন্দ্রনাথের সুরে ও ছন্দে। তবে তা হয়ে ওঠে অনন্য।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসৃষ্টির ‘বসন্ত’ পর্যায়কে উপজীব্য করে মঞ্চস্থ হলো গান ও নৃত্যের অপূর্ব কোলাজ।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজক জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘কবি’ চরিত্রের পরিবেশনা দিয়ে। ‘আমরা বাস্তুছাড়ার দল’ গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পর্দা ওঠে, এতে কণ্ঠ দেন অরুণাভ দে, আনন্দি ঘোষ ও দেবস্মিতা কুণ্ডু। তাদের সুরের সঙ্গে তাল মেলায় ‘ভাবনা’ নৃত্যদলের শিল্পীরা। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন বসন্তের পরিচরগণ এবং বনভূমিরূপী শিল্পীরা। রাজিন মুস্তাফা ও শাহরিয়ার হাবিবের কণ্ঠে ‘বাকি আমি রাখব না কিছুই’ গানটির সঙ্গে ‘ধৃতি নর্তনালয়’-এর নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
প্রকৃতির বিচিত্র অনুষঙ্গকে গানের সুরে ফুটিয়ে তোলা হয় এই আয়োজনে। আম্রকুঞ্জের কথা স্মরণে রেখে গীত হয় ‘ফল ফলাবার আশা আমি মনেই রাখি নি রে’। করবী ও বেণুবনের স্নিগ্ধতা ফুটে ওঠে সুমা রায় এবং শারমিন সাথি ইসলামের কণ্ঠে। বিশেষ করে ‘দখিন হাওয়া, জাগো জাগো’ গানটির অপ্রচলিত সুরের সঙ্গে সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈর নৃত্য ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। ‘নৃত্যনন্দন’-এর শিল্পীরাও তাদের নিপুণ ছন্দে বসন্তের এই আবহকে পূর্ণতা দান করেন।
শুক্লা পাল সেতুর কণ্ঠে ‘সে কী ভাবে গোপন রবে’ এবং সম্মেলক কণ্ঠে ‘ও আমার চাঁদের আলো’ গানের সঙ্গে নেচেছেন সামিনা হোসেন প্রেমা ও ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা। সেমন্তী মঞ্জরীর কণ্ঠে ‘কে দেবে চাঁদ তোমায় দোলা’ গানের সঙ্গে শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাচ এবং অসীম দত্তের ‘শুকনো পাতা কে যে ছড়ায়’ গানে পলাশ কুমার দের পরিবেশনা ছিল চিত্তাকর্ষক। হামীম আহমেদ ও নিলয়ের কণ্ঠে ‘ভাঙল হাসির বাঁধ’ এবং মিতালী সরকারের কণ্ঠে ‘তোমার বাস কোথা যে পথিক’ বসন্তের ব্যাকুলতাকে ফুটিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ঋতুরাজের বিদায়ী সুর বেজে ওঠে। বুলবুল ইসলামের কণ্ঠে ‘এখন আমার সময় হলো’ এবং দীপ্র নিশান্তের ‘এবেলা ডাক পড়েছে কোন্খানে’ গানগুলো এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা তৈরি করে। ঝুমকোলতার আকুতি ফুটে ওঠে তানিয়া মান্নানের ‘না, যেয়ো না, যেয়ো নাকো’ গানে। সবশেষে ‘আজ খেলাভাঙার খেলা খেলবি আয়’ এবং ‘ওরে পথিক, ওরে প্রেমিক’ সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বসন্ত উৎসব।
পুরো আয়োজনে ভাবনা নৃত্যদল, ধৃতি নর্তনালয় এবং নৃত্যনন্দনের সম্মিলিত প্রয়াস রবীন্দ্র-বসন্তকে জীবন্ত করে তুলেছিল মঞ্চে।
জনতার আওয়াজ/আ আ