ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধশত আইনজীবী মনোনয়ন প্রত্যাশী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ১, ২০২৫ ১:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ১, ২০২৫ ১:২৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে চান সুপ্রিমকোর্টের অন্তত অর্ধশত আইনজীবী। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মনোনয়নপ্রত্যাশী আইনজীবী নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী থাকায় তারা কেন্দ্রেও জোর লবিং করছেন। তবে অনেকেরই মনোনয়ন পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তারা কেন্দ্রের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েই মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজন আইনজীবী রয়েছেন, যারা সুপ্রিমকোর্টে আইন পেশায় সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় রাজনীতিতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করার মতো। আলাপকালে আইনজীবীরা জানান, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা জনগণের সুখ-দুঃখে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান। সেবার ব্রত নিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান মানুষের সুখ-দুঃখে।
বিএনপি থেকে যেসব আইনজীবী প্রার্থী হতে চান : বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন-জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিমকোর্ট শাখার সাবেক যুগ্মসম্পাদক মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিমকোর্ট ইউনিটের সেক্রেটারি গাজী তৌহিদুর ইসলাম, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন : বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির তিনবারের সভাপতি। তাকে ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমি পরাজিত হই। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান : রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি ঘনঘন সফর করছেন নিজ এলাকায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন এ আইনজীবী। আসাদুজ্জামান এর আগেও এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের নির্বাচনেও তিনি এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন প্রায় নিশ্চিত বলা যায়।
ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন : সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হতে কাজ শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল : বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে তিনি এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত সিনেট সদস্য তিনি। ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনেক আগে থেকে এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার উদ্যোগে নির্বাচনি এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়া নিজ উদ্যোগে অনেক রোগীর চোখের ছানি অপারেশন এবং এলাকায় বহু কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন।
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া : ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিমকোর্ট শাখার সাবেক এই যুগ্মসম্পাদক বরিশাল বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এলাকায় বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি রাজনীতি বলতে বুঝি সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা।
ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম : ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) থেকে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক। নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় সরব রয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : বিএনপির আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন চাচ্ছেন। তিনি অনেকদিন ধরেই এলাকায় কাজ করছেন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত মুখ। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ‘টকশোতে’ তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। বিএনপির দুর্দিনেও দলের পক্ষে নির্ভয়ে কাজ করেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এই সংসদ-সদস্য এবার আশা করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন : পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়ার একাংশ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে দলের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। নাজিবুর রহমান মোমেন লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিয়ে ২০১০ সালে ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ : ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার বিভাগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি আইন পেশা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সমান সক্রিয়। দলের প্রচার বিভাগ সামলাচ্ছেন তিনি। এর ফাঁকেও প্রায়ই নিজ এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন এই জামায়াত নেতা।
মোহাম্মাদ শিশির মনির : সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মাদ শিশির মনির। ইতোমতে তিনি তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এলাকায় বেশ সাড়া পড়েছে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল। শিশির মনির বলেন, দিরাই-শাল্লায় উন্নয়নের নামে বিগত দিনে অনেক লুটপাট হয়েছে। এখানকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি নতুন এক দিরাই-শাল্লা উপহার দিতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতেই জাতীয় সংসদে যেতে চাই।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার আরমান বিন কাসেম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ সাইফুর রহমান, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া গণফোরাম থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ