বিএনপিতে অন্তকলহ সরব জামায়াত-এনসিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন সময়ে জটিল রাজনীতির সমীকরণে মৌলভীবাজার-৪ আসন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করে দিয়েছেন। ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৫ জনসংখ্যার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি। ভোটারদের বড় একটি অংশ চা বাগানের শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষই ভোটব্যাংক। নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে তাদের ওপর। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ওই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয়। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত না হলেও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসীন মিয়া মধু নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মনে করা হয়, দুই ধারায় বিভক্ত বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রহমানের কমলগঞ্জ উপজেলায় বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। আর মহসীন মিয়া মধুর শ্রীমঙ্গল উপজেলায়।
এদিকে, সিলেট মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এডভোকেট মো. আব্দুর রবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি তরফদার। এছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির (এসসিপি) সিলেট বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রীতম দাশ নির্বাচনী আলোচনার রয়েছেন। চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. সালেহ্ আহমদ সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তোফায়েল লিটন চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শেখ নূরে আলম হামিদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কমলগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মাওলানা জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুল মুহিত হাসান ও ইসলামী ঐক্যজোটের মো. আনোয়ার হোসাইন প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে সাবেক এমপি উপাধক্ষ্য ড. মো. আব্দুস শহীদের টানা ৩৫ বছরের সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। ৫ মামলায় তিনি এখন জেলে রয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতবিহীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন দুই উপজেলার ভোটাররা। একইভাবে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পর নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থান। ফলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি দলটি। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ কামাল হোসেন বলেন, জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করার দিকে এখন আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি আরও কিছুদিন পর পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, নবম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আমাকে হারানো হয়। শত শত মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। ২০১৪ সালে বিশেষ আইনে গ্রেপ্তার করে আমাকে ১৪ মাস জেলে রাখা হয়। ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ চৌধুরী মারা গেলেও জানাজায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি। সবকিছুর পরও আমি দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। এবারও দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। মো. মহসীন মিয়া মধু বলেন, ২০০১ সালে আমি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলাম। রাজনীতির ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। জেল খেটেছি, তবুও জনসেবার কাজে নিয়োজিত আছি। দলের দুঃসময়ে তারেক রহমানের আহ্বানে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে এবং আমি মনোনীত হলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।
অপরদিকে, জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট মো. আব্দুর রব বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। বৈষম্যহীন সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। জামায়াত অতীতে যেমন মানুষের পাশে ছিল। এবারও আমরা জনগণের সেবায় কাজ করবো। বিশ্বাস করি, মানুষ এবার আমাদের ওপর আস্থা রাখবে। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা প্রীতম দাশ বলেন, আমরা এখনো সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে নামিনি। তবে নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম ও কর্মসূচি পালন করছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা মাঠে প্রচারণা শুরু করবো।
জনতার আওয়াজ/আ আ