বিয়ে বাড়িতে বর চলে এসেছে, রান্না হয়নি: সরকারের সংস্কার প্রসঙ্গে রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১০:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১০:২২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিয়ে বাড়িতে বর চলে এসেছে, কনে সাজানো-গোছানো, অথচ রান্না হয়নি—নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সরকারের এমন অবস্থার সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কবে সংস্কার করবেন, কীভাবে করবেন—এই নিয়ে কোনো স্পষ্ট কথা নেই। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্যমত কবে হবে, সেটাও বলেন না। বিয়ে বাড়িতে বর চলে এসেছে, বউও সাজানো, কিন্তু খাবার এখনো রান্না হয়নি—এই রান্না কবে হবে আর বিয়ে কবে হবে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শনিবার (১৭ মে) বিকেলে নরসিংদীর হাতিরদিয়া ছাদত আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যে ভোটের জন্য এত রক্তপাত, যে ভোটের জন্য ক্রসফায়ারে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, নিরুদ্দেশ হয়েছেন—সেই কাঙ্ক্ষিত ভোট আমরা তো এখনো পেলাম না। আমরা সেই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন তো পেলাম না। এই ভোটের জন্যই তো এত লড়াই, এত সংগ্রাম। জনগণ তার ইচ্ছামতো যাকে ইচ্ছা, তাকে প্রতিনিধি করবে, যাকে ইচ্ছা, তাকে সরকারে বসাবে।
বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন তোলেন, জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সেই ভোটাধিকার কেন এখনো ফিরছে না?
সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সংস্কার তো ৪০০ বছরের একটা বটগাছের মতো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। পদ্মা নদীর পানির মতো, মেঘনা নদীর পানির মতো, বঙ্গোপসাগরের স্রোতের মতো সংস্কার এগিয়ে চলে যুগে যুগে, সময়ে সময়ে। জনগণের যে প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী সংস্কার এগিয়ে যায়।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকলে যে কাজগুলো করতে পারত, তারা কিন্তু সেটা করতে পারছে না। শেয়ারবাজারে অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে, কোরবানির আগে মসলার দাম বেড়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সেই ত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত জমির ওপর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো সেই প্রত্যাশিত গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিগত ১৫ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ার এবং বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেউ গুম ও নিরুদ্দেশ হয়েছেন, যাদেরকে এখনো পাওয়া যায়নি। চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, ইলিয়াস আলীসহ বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মায়ের কোল থেকে র্যাব ও পুলিশ বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এখনো তাদের হদিস আমরা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য বিএনপি বারবার কথা বলে গেছে। যে গণতন্ত্রে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত থাকে, সে জনগণের ক্ষমতা শেখ হাসিনা ভোররাতে ডাকাতের মতো কেড়ে নিয়ে তার অবৈধ রাজসিংহাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে ১৫ বছর বিএনপি ত্যাগ স্বীকার করে ক্ষেত্র তৈরি করেছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা সেই ক্ষেত্রের মধ্য থেকে শেখ হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, ইকবাল হোসেন শ্যামল, রাশেদ ইকবাল খান প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ