ভোটের আগে সিলেটে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ চান খন্দকার মুক্তাদির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:২৬, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভোটের আগে সিলেটে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ চান খন্দকার মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ৩:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ৩:০২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নিজ নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: খবরের কাগজ সাংবাদিক প্রশিক্ষণ
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সিলেটে ভোটের আগে ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা জরুরি বলে জানিয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর যে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, তা সব রাজনৈতিক কর্মীর জন্য উদ্বেগের। অতীতে বিএনপি সরকার সন্ত্রাস দমনে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযান পরিচালনা করেছিল। অতীতে সবগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে অতীতের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।’

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে খন্দকার মুক্তাদির তার নির্বাচনি কার্যালয়ে সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দেশজুড়ে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট নামে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

খন্দকার মুক্তাদির সার্বিক পরিস্থিতিতে সেই অভিযানটি সফল হয়েছিল জানিয়ে বক্তৃতায় বলেন, ‘বিগত দেড় দশক দেশের মানুষ স্বাভাবিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। পর পর তিনবার দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো আজব নির্বাচন হয়েছে। এবার মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে সরকারের টপ প্রায়োরিটি হওয়া উচিত।’

বিএনপি সব সময় আইনের শাসনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মুক্তাদির আরও বলেন, ‘অতীতে বিএনপির শাসনামলে কেউই অপরাধ করে দলীয় পরিচয়ে পার পায়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নির্বাচিত হলে তার কর্মপরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। সিলেটের উন্নয়নের বিষয়ে তার প্রত্যাশা ও পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভাব। পাথর কোয়ারি, ব্রিক ফিল্ড ও পরিবহন খাত ছাড়া সিলেটে বড় কোনো কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র নেই। এ কারণে সিলেটের তরুণরা বিদেশমুখী হয়ে রয়েছেন। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারি নীতি সহায়তায় সিলেটে নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করা হবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে বীজ ও সার প্রদান, কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘কৃষিমাধ্যমে এক ফসলি জমি দুই ফসলিতে উন্নীত হয়েছিল। ফলে সিলেটে উৎপাদন বেড়েছিল। হাজার হাজার একর অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছিল। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সিলেটের কৃষি খাতের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিলেটের কৃষির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।’

সিলেটের নাগরিক সমস্যাগুলো ‘প্রকাশ্য ও চিহ্নিত’ উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেট নগরবাসীর সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নগরীর যেসব স্থানে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে, সেসব স্থানের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে নদীভাঙন সমস্যা নিরসন করা হবে।’

সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর। সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ