রাসেল গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতেই আছে অবিলম্বে তাকে ফেরত দিন: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০২৪ ২:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০২৪ ২:০৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
অবিলম্বে ছাত্রদল নেতা আতিকুর রহমান রাসেলকে এই মুহূর্তে তার পরিবারের কাছে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘আতিকুর রহমান রাসেলকে ফেরত না দিলে অন্যথায় এর কঠিন পরিণতি সরকারকে বহন করতে হবে। আমরা সবাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আতিকুর রহমান রাসেল সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছেই সে আছে কিন্তু তাকে হস্তান্তর করা হচ্ছে না আমি অবিলম্বে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন,’গত ১ জুলাই সোমবার তাকে গোয়েন্দা পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। ৮দিন অতিবাহিত হলেও এখনো তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি বা আদালতে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে পরিবার, তার বাবা, তার মা, তার আত্মীয়স্বজন ও দলের নেতাকর্মীর প্রত্যেকে গভীর উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বাবা-মায়ের যে আকুতি তা ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে তুলে নিয়ে গেছে তা অনেকে দেখেছেন এবং সে গোয়েন্দা হেফাজতে রয়েছে।
এই ঘটনা অত্যান্ত মর্মান্তিক ও মর্মস্পর্শী উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এই ধরনের তরুণদেরকে নিরুদ্দেশ করে দেয়া হচ্ছে কারণ তারা মানুষের পক্ষে কথা বলে, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে, গণতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দেয়। তাদের স্লোগান স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আতিকুর রহমান রাসেলদের মতো তরুণদের নিরুদ্দেশ করে দেয়া হচ্ছে, নিখোঁজ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় অতিক্রম করছে। মানুষের অধিকারগুলো দখলদার সরকার একের পর এক হরণ করেছে। মানুষ অধিকার বঞ্চিত, গণতন্ত্রে মানুষের যে অধিকারগুলো স্বীকৃত সে অধিকারগুলোকে মানুষ যাতে প্রয়োগ করতে না পারে তার জন্য রাষ্ট্রশক্তিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শেখ হাসিনা ইচ্ছে পূরণ করতে পারেন। এই বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে কেউ যেন কথা না বলতে পারে। তার বিরুদ্ধে কেউ যেন মিছিল না করতে পারে। এদেশে কেউ যেন সমাবেশ না করতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান কাটাছেঁড়া করার পরেও গণতন্ত্রের যে অধিকারগুলো আছে সেই অধিকারগুলো সরকারি যন্ত্র দিয়ে নানাভাবে দমন করছে। এই দমন পৈশাচিক, এই দমন নিষ্ঠুর, এই দমন রক্তাক্ত।
রিজভী বলেন, যতো দিন যাচ্ছে ততো একের পর এক সরকারের কুকীর্তি বেরিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা যাদেরকে দিয়ে বিরোধী দমন করেছেন তারা এদেশের জনগণের সম্পদ-অর্থ লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে এবং দেশের মধ্যেও অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। নবাবদেরও এতো সম্পদ ছিলো না। লুটপাট আর দূর্নীতির কারণে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, রাজকোষ শূণ্য হয়ে গেছে। দেশটা তিনমাস যে চলবে সেই প্রয়োজনীয় অর্থ এখন ব্যাংকে নেই। যারা ঋণখেলাপি হয়েছেন এক লক্ষ বিরানব্বই হাজার কোটি টাকার তাদেরকে নিয়ম করে সুদ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। যারা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে তারা সকলেই ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ লোক।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আরও বলেন, ‘বিএনপি কোন ভুল পথে হাঁটছে না আওয়ামী লীগ ভুল পথে হাঁটছে আওয়ামী লীগ গুম খুনের পন্থা অবলম্বন করেছে। আজকে আতিকুর রহমান রাসেলরা নেই এটা কি সরল সোজা পথ? এটাতো সরল সোজা পথ নয় এটাই হচ্ছে খারাপ পথ এটা হচ্ছে ভয়ংকর ভুল পথ এবং যে পথ দিয়ে আওয়ামী লীগ হাঁটছে সেই পথ হচ্ছে রক্তাক্ত পথ তারা যে দিক দিয়ে যায় রক্ত ঝরাতে ঝরাতে যায় এই পথই তাদের সর্বনাশ ডেকে আনবে
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ