শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

আদালত প্রতিবেদক
ছবি সংগৃহীত
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন তাকে ২ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও তিন নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে অস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নাম, ঠিকানা ও মামলার তদন্তে সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতকদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেপ্তার ও মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে পলাতকদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেপ্তার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে আসামির রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকাল পাঁচটা থেকে পাঁচটা চল্লিশ মিনিটের মধ্যে আজিমপুর সরকারি মধ্য কলোনি আজিমপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন দুই নম্বর গেটের পাশে ২০ তলা ভবনের ৭ নম্বর বিল্ডিং এর উত্তর পাশের রাস্তায় বৈষম্য বিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরস্ত্র জনতার উপর দেশীয় ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থলে আশরাফুল ওরফে ফাহিম শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনরত অবস্থায় বাম চোখে ভেদ করে চোখের রেটিনার পেছনে একটি গুলিবিদ্ধ হয় যা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ এখনও বের করতে পারেননি। মুখের ডান চিবুকে ১ টি, ডান হাতের কনুইতে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০টি গুলিবিদ্ধ হয়। রক্তে রঞ্জিত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত বছরের ১৭ জুলাই আশরাফুল ওরফে ফাহিম বাদী হয়ে আদালতে নালিশী (সিআর) মামলা করেন। পরবর্তীতে লালবাগ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে গণ্য হয়।
মামলায় শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শিরীন শারমিন চৌধুরী, শেখ রেহানা, সাবেক মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের, হাজী দেলোয়ার হোসেন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম মাসুদ, লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হেলাল উদ্দিন সহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮০-৯০ জন পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ এবং ছাত্রলীগ সহ আরও ১১৫-১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অন্যান্য আসামিদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুপুর আনুমানিক ২ ঘটিকায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
সোমবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ধানমণ্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ।
জনতার আওয়াজ/আ আ