শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন’২০২৩ এর ঘোষণা ও প্রস্তাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪৫, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন’২০২৩ এর ঘোষণা ও প্রস্তাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৩ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৩ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন’২০২৩ এর ঘোষণা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ২য় শ্রমিক-কর্মচারী কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে । কনভেনশনে মূল আয়োজক ছিলেন – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি) অন্তর্ভূক্ত ২১ টি শ্রমিক সংগঠন । কনভেনশন সফল করতে ৫ টি সাব-কমিটি নিরলস ভাবে কাজ করে এবং আপনাদের সার্বিক সহযোগীতায় সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি’র মহাসচিব- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে কনভেনশনের মর্যাদা ও গুরুত্বকে শ্রমিক শ্রেনীর মাঝে আরো বেশি গুরুত্ব বৃদ্ধি করে শ্রমিক শ্রেণীকে আরো আশাবাদী করেছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

৩০ সেপ্টেম্বর কনভেনশন ও আজকের এই সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত মাঝের সময়ে বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সরকার নির্লজ্জ ভাবে শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনায় লিপ্ত হয়েছে। যেমনঃ-

 শ্রমিক কর্মচারীদের দাবীর বিষয়ে ত্রীপক্ষীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে শ্রম আইনের সংশোধনী মন্ত্রীপরিষদ অনুমোদন করেছে। যা আইএলও রোড ম্যাপের সাথে অসংগতি পূর্ণ। শ্রমিক দল ও এসএসপি এতদ্ববিষয়ে ক্ষুদ্ধ। ৪৫ টি জাতীয় ফেডারেশনকে অন্ধকারে রেখে এই আইন সংশোধন শ্রমিক শ্রেণীকে অবজ্ঞা করার শামিল।

 মালিক শ্রেণী শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে মানুষ হিসেবে মনে করে না। তারা সর্বদাই শ্রমিকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল ও সেবাদাস মনে করে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবীকৃত নূন্যতম ২৫ হাজার টাকা মজুরীর পরিবর্তে মালিক পক্ষ থেকে ১০ হাজার ৪ শত টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, এ প্রস্তাব বাজার দরের সাথে শ্রমিকদের প্রতি অত্যান্ত নিষ্ঠুর ও প্রতারনা বলে আমরা মনে করি ।

 সরকারও মালিকদের পক্ষে নগ্ন ভাবে কাজ করছে। যার প্রমান, জনাব ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গত পে-স্কেল কমিটি জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের সময় প্রথম শ্রেণীর একজন কর্মকর্তার সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপনের নিমিত্বে তৈরি করা হয়েছিল বলে ঘোষণা করেছিলেন। যা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর সকল কর্মচারীদের প্রতি অবমাননাকর ও চরম বৈষম্য মূলক । রাস্ট্রীয় ভাবে এই বৈষম্য কোনো অবস্থাতেই চলতে দেওয়া যায় না।

 সড়ক পরিবহন সেক্টরের বিরুদ্ধে সরকার ও আওয়ামীলীগ একসাথে দমন মূলক নীতি অনুসরন করছে। পরিবহন সেক্টরকে সেবামূলক খাত হিসাবে পরিচালনার জন্য শ্রমিক কর্মচারী কনভেনশনে গৃহিত দাবীসমূহ মেনে চলার জন্য দাবী জানাচ্ছি।

 অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল’২০২৩ শ্রমিকদের অধিকারের উপর শেষ আঘাত হেনেছে।শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি উত্থাপন, ধর্মঘট করার অধিকার, আইএলও স্বীকৃত ও বাংলাদেশের সাংবিধান শ্রম আইনে বিদ্যমান আছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি উত্থাপন ও দরকাষাকষি সম্পূরক। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল’২০২৩, দাবি উত্থাপন, ধর্মঘট করার অধিকার, ও দর কষাকষির সকল পথকে রুদ্ধ করে দেবে, যা শ্রমিক সমাজ কখনই মেনে নিবে না ।

 দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্হিতির আলোকে চলমান ১ দফার আন্দোলনের প্রতি আমরা সর্বাত্বক সমর্থন ঘোষনা করছি। সকল শ্রমিক কর্মচারীদের আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদল ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূতীতে সক্রিয় ভাবে শ্রমিক কর্মচারীদের অংশ গ্রহনের জন্য উদাত্ব আহব্বান জানাচ্ছি।

 নিরপেক্ষ ভোটের অধিকার, আইনের শাসন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবী এখন শ্রমিক কর্মচারীদেরও দাবী।

 চলমান ভোট, ভাত ও গনতন্ত্রের আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি শেষে আগামীতে জনগনের দ্বারা নির্বাচিত জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারীদের সকল দাবী পূরন করা হবে।

এমতাবস্থায় দ্রব্য মূল্য, মজুরী কমিশন, জাতীয় বেতন স্কেল, নূন্যতম মজুরী, শ্রম পরিস্থিতি, সর্বগ্রাসী দূর্নীতি ও চলমান ১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে “শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন’২০২৩” এর ঘোষণা ও প্রস্তাবনা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি ।

৩০ সেপ্টেম্বর’ ২০২৩’শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন এর ঘোষনা যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি-অগ্রগতির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ঐ দেশের শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। ইউএনডিপির এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর কথা।

হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মক্ষম মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। কোনো দেশে যদি ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কর্মক্ষম থাকে, তাহলে সে দেশকে ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ডের মধ্যে ধরা হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড বা সংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসের সুবিধা ভোগ করছে। কারণ, জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ শ্রম ঘনত্বই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। যদিও দেশের বেশিরভাগ মানুষই শেখ হাসিনা সরকারের এ তথ্য বিশ্বাস করে না। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বহু গবেষকও মনে করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি কিংবা তারও কিছু বেশি। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও প্রায় ১২ কোটি।

কর্মক্ষম এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে সবাইকে সম্পদে পরিণত করা প্রয়োজন। কোনো রাষ্ট্রে শ্রমিকের মর্যাদা না থাকলে সে রাষ্ট্র কখনোই উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। গরিব, শ্রমিক ও মজুরের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া কখনো কল্যাণকামী ও গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব নয়। অতীত থেকে আজ পর্যন্ত যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটের অধিকার আদায়ে এ দেশের মেহনতী মানুষ সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করে আসছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকসহ প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ মানবসম্পদ বিভিন্ন ধরনের শ্রমের সঙ্গে জড়িত। সংস্থাটির তথ্য বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের সংখ্যা ৭০ লাখ, যারা মূলত সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় নিয়মিত শ্রম দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে রয়েছে পাট, চিনি, কাগজ, বস্ত্র, টেক্সটাইল, রেল পরিবহন, ট্যানারি, চা, নৌযান ইত্যাদি। তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকের সংখ্যা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বিবিএসের তথ্য মতে, এ খাতে ৬ কোটি ৬৫ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তারা মূলত গার্মেন্টস, বেসরকারি সড়ক ও নৌ পরিবহন, গৃহশ্রমিক, নির্মাণ, কৃষি, চালকল, হকার, কুলি-মজুর, সিকিউরিটি গার্ড, পাঠাও-উবার চালক, রিকশা-ভ্যান, ইজি বাইক, চাতাল,ঘাট শ্রমিক, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ফিশিং, শিপব্রেকিং, দর্জি, পাদুকা, বিড়ি শিল্প, মাটিকাটা, বালি, পাথর ও কয়লা খনিসহ নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে শ্রম দিয়ে থাকেন।

এত বিশালসংখ্যক এ শ্রমিকের নেই কোনো স্বীকৃতি, নেই আলাদা কোনো পরিচয়পত্র। অথচ তাদের ঘামেই সচল রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা। হিসাব অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে এসব শ্রমিকের অথচ এ শ্রমিকরা জীবনধারণের ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত। এসব শ্রমিক-কর্মচারীকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের নিজস্ব দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের শামিল হওয়া দরকার। কারণ শ্রমিকের অধিকার ও গনতান্ত্রিক অধিকার অভিন্ন। উল্লেখ্য বাংলাদেশের অসংগঠিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন এখন সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অতিমাত্রায় শোষণ আর নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের রক্ষা ও ভবিষ্যতে তাদের জন্য একটা কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। যুগ যুগ ধরে এমন ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই শ্রমিকদের মুক্তি ও দাবি আদায়ের পথকে মসৃণ করেছে। শিল্প বিপ্লব থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লব ও রুশ বিপ্লবও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেক্ষিত থেকে সংগঠিত হয়েছিল। যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ে যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু বাংলাদেশ কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো দেশ-জাতি নয়, সমগ্র মানব সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে শ্রমিকদের রক্তে, ঘামে ও শ্রমে। আধুনিক সভ্যতা রচিত হয়েছে তাদেরই রক্তরঞ্জিত পথ বেয়ে। এজন্যই শ্রমিকদের বলা হয় সভ্যতা নির্মাণের কারিগর।

আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশ হয়ে ওঠার যে গল্প, বেড়ে ওঠার যে ঐতিহাসিক পরম্পরা, তার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে অসংখ্য শ্রমজীবী আর মেহনতি মানুষের আত্মত্যাগ।

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন অথবা রাষ্ট্রের যে কোনো গণতান্ত্রিক বিনির্মাণে শ্রমিকদের রক্তই ঝরেছে সবচেয়ে বেশি।

গাড়ির চাকা ঘোরে শ্রমিকদের হাতে-পায়ে। কলকারখানা সচল থাকে শ্রমিকদের মাধ্যমে। কৃষি থেকে শিল্প, উৎপাদন থেকে উন্নয়ন- সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। অথচ রাষ্ট্র কাঠামোতে শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতিত-নিপীড়িত। এমনকি ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত শ্রমিকরা। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার-পরিজন নিয়ে করুণ মানবেতর জীবনযাপন করেন তারা।

এ অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষেই (৩০ সেপ্টেম্বর’ ২০২৩’ শনিবার) শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন। রাষ্ট্রের মূলধারায় শ্রমিক কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করাই এ কনভেনশনের চুড়ান্ত লক্ষ।

শ্রমিক কর্মচারী

জাতীয় কনভেনশন ২০২৩

এর প্রস্তাবনাঃ

১. বাংলাদেশের সব ধরনের শ্রমিক কর্মচারীর সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বাজারদর ও জীবনধারনের ব্যয় অনুযায়ী প্রতিটি সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য বাঁচার মত নূন্যতম মুজুরী/মুজুরী কমিশন/পে কমিশন গঠন করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় নূন্যতম মুজুরী ঘোষনা করতে হবে । শ্রমিকদের জন্য ছুটি, কর্মঘন্টা ও ভাতাসহ সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক-কর্মচারী জাতীয় কনভেনশনের অঙ্গীকার বাঁচারমত মজুরী, ভোটাধিকার এবং গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করা, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গনতান্ত্রিক শ্রম আইন ও অন্যায়ভাবে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে উত্থাপিত নূন্যতম ২৫০০০(পচিঁশ হাজার) টাকা মুজুরীর দাবী গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। চা শ্রমিক থেকে শুরু করে হোটেল, দোকান, নিরাপত্তাকর্মী, গৃহকর্মী, হকার, কুলি-মজুর খেতমুজুর কিংবা এ ধরনের সব শ্রমিকের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। চা শ্রমিকদের জন্য দৈনিক নূন্যতম ৫০০ (পাঁচ’শ) টাকা মুজুরী নির্ধারন করতে হবে।

৩. শ্রমআইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে হবে। আগামীতে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩, শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) এর শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী সকল কালা কানুন বাতিল করে যুগ-উপযোগী করতে হবে। ভবিষ্যতে শ্রমিকদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৪. শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য শ্রমিক-মালিক এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বীমাসহ বিশেষ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে।

৫. সড়ক ও নৌ পরিবহন সেক্টরঃ

• সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগ পত্র আইনের জটিলতা ও অসুবিধা দূর করতে সরকারী উদ্যোগে একটি কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি চালু করতে হবে।

• সড়ক পরিবহন সেক্টরের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য পরিবহন শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

• দূর পাল্লার চালক/শ্রমিকদের বিশ্রামের জন্য প্রতিটি টার্মিনালে আবাসন সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

• দূর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য চালক/শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ন স্থানে জরুরী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

• সড়ক পরিবহন সেক্টরে সকল ধরনের দখল-বেদখল, গুন্ডাবাজী ও অবৈধ চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে।

• বেসরকারী সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মচারীদের সহায়তার জন্য জাতীয় সংসদে পাশকৃত “শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইনে” প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা সহজ পদ্ধতিতে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

• সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জারিকৃত সকল নির্যাতন মূলক কালা কানুন বাতিল করতে হবে।

• সড়ক ও নৌ পরিবহন শ্রমিকসহ অন্যান্য সকল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হবে।

• নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরী গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিতে হবে।

৬. শ্রমজীবী অন্তঃসত্ত্বা নারী, অসুস্থ শ্রমিক, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক এবং বেকার শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। মাতৃকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূর করতে হবে।

৭. প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে আলাদা আইডি কার্ড। এটা তাদের হেলথ ও রেশন কার্ড গণ্য করে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করতে হবে।

৮. অপ্রচলিত খাতের শ্রমিকদের, প্রচলিত খাতের শ্রমিকদের মতো আনুপাতিক হারে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৯. অসংগঠিত/অনিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শ্রমদপ্তর কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন ও আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

১০. প্রত্যেক রেজিস্টার্ড শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজের সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ন্যূনতম হারে হলেও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে সম্মানজনক ভাতা প্রদান করতে হবে।

১১. কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারকে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরন ও পুনর্বাসন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারে কর্মক্ষম কেউ থাকলে তাকে ঐ প্রতিষ্ঠানে পোষ্য কোটায় কাজের সুযোগ দিতে হবে।

• সকল সেক্টরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য পৌষ্য কোটা চালু করতে হবে।

• সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমাতে হবে এবং শতভাগ পেনশন প্রথা চালু করতে হবে।

• সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাইরে বিভিন্ন দপ্তর/পরিদপ্তর/অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতি দিতে হবে ।

১২. শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্য থেকে সেক্টর অনুযায়ী নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধিদের রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামত প্রদান ও অংশগ্রহনের সুযোগ রাখতে হবে ।

১৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে শ্রমিক- কর্মচারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।

১৪. শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক ইস্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের অগ্রাধিকার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভাতা প্রদান করতে হবে। দরকার হলে বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকারকে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।

১৫. শ্রমিকদের ওপর হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের নিত্যনৈমেত্তিক চাঁদা আদায়ের সিন্ডিকেটকে ভেঙ্গে দিতে হবে এবং শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধের জন্য ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশী ব্যবস্থা বিলোপ করতে হবে।

১৬. জাতিসংঘ(ইউএন) এর সার্বজনিন মানবাধিকার ঘোষণা/আইএলও কিংবা অন্যান্য শ্রমিক অধিকার সংশ্লিষ্ট কনভেনশনে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

১৭. দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবনযাত্রার ব্যায়ভারের সাথে সংগতি রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ্য ভাতাসহ প্রতি দুই বছর পর পর মুজুরী পূনঃর্নিধারন করতে হবে। বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারি তদারকি জোরদার করতে হবে।

• সরকারী বেসরকারী সকল সেক্টরের শ্রমিক- কর্মচারীদের জন্য ঝুকি ভাতা চালু করতে হবে।

• বন্ডেড প্রথা, দাদন প্রথা ও শিশুশ্রম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে ।

১৮. শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী জাতীয় পে-কমিশন/ জাতীয় মজুরী কমিশন গঠন করতে হবে এবং কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৯. পাট, বস্ত্র ও চিনিকলসহ সকল বন্ধ শিল্প কল কারখানা চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে।

২০. খাতভিত্তিক শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, এবং সকল সরকারি/আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আউট সোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে ।

২১. সরকারি নীতিমালা, বাজেট প্রণয়ন কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২২. বাংলাদেশে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রবাসী শ্রমিকরা নানা ধরনের হয়রানি-নির্যাতনের শিকার। এসব হয়রানি-নির্যাতন বন্ধ করে তাদের কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও কল্যাণ তহবিলকে সহজলভ্য করতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী যোদ্ধা হিসেবে সম্মানসূচক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

২৩. শ্রমিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, নির্যাতিত শ্রমিক-কর্মচারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং যৌক্তিক ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান- তারেক রহমান, মহাসচিব- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্য’র সভাপতি- মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ জাতীয় পর্যায়ের সকল রাজনৈতিক নেতাদের নামে হয়রানীর উদ্দেশ্যে রুজু করা ষড়যন্ত্রমূলক সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

২৪. কৃষি ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মক্ষেত্রের প্রসার ঘটাতে হবে। সেসব ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২৫. শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ আর কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাস্তবতা বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও পরিধি বাড়াতে হবে।

২৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিমারি কিংবা করোনার মতো মহামারিকালে শ্রমিক- কর্মচারীদের প্রণোদনা দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্লাইমেট(জলবায়ু) উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নদীভাঙা মানুষদের জেগে ওঠা চরাঞ্চল বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসন করতে হবে।

২৭. ইনফরমাল বা অপ্রচলিত খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনমান সম্পূর্ণভাবে মালিকদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে মালিকরা আইনকানুনের তোয়াক্কা করেন না। ভবিষ্যতে সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে এ অবস্থার পরিবর্তনে যথাযথ দ্বায়িত্ব নিতে হবে। শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার পরিপন্থী সকল কালাকানুন বাতিল করতে হবে।

২৮. জিডিপির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গৃহস্থালি, গৃহ-পরিচারিকা, গার্মেন্টস, কৃষি খাত, চাতাল, নির্মাণ খাত, হাঁস-মুরগি প্রতিপালনসহ ৫৮ শতাংশ খাতে নারীরা নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মজুরি প্রাপ্তি বা অন্যান্য সুরক্ষা প্রাপ্তিতে নারীরা চরমভাবে বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার। রাষ্ট্রীয়ভাবে নীতি নির্ধারণে নারীকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নারীর শ্রম, মেধা ও কষ্টসহিষ্ণুতাকে যৌক্তিক ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করতে হবে। নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা ডেটাবেজ রাখতে হবে।

২৯. রাষ্ট্রীয়ভাবে শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য আলাদা একটা ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। ডেটাবেজ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে যে কোনো বিপদে-আপদে তাদের সহায়তা করতে হবে।

৩০. প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ নতুন শ্রমিক এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হচ্ছে নারী শ্রমিক। কিন্তু আনুপাতিক হারে বাড়ছে না তাদের কর্মক্ষেত্র। এই শ্রমিক আধিক্যের কারণে কমমূল্যে তাদের লুফে নিচ্ছেন মালিকরা, ফলে কমে যাচ্ছে শ্রমের মূল্য। ভবিষ্যতে সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতৃত্বে শ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৩১. শ্রমিক বাঁচলেই শিল্প বাঁচবে, কৃষি বাঁচবে। গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতির চাকা। যার মধ্য দিয়ে বাঁচবে দেশ ও জনগণ। “শ্রমিক- কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন-২০২৩” এর অঙ্গিকার গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার ১ দফা আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি শেষে জনগনের দ্বারা নির্বাচিত জনগনের সরকার ক্ষমতায়নের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত সকল দাবী পূরণ করে মেহনতি মানুষের ভালোভাবে বাঁচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

দুনিয়ার মজদুর এক হও।

এ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস

প্রধান সমন্বয়ক,

শ্রমিক কর্মচারী জাতীয় কনভেনশন ২০২৩’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ