সময় নির্ধারণ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, আলোচনার ‘মুড’ হারালেন আব্দুল্লাহ তাহের! - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:১৯, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সময় নির্ধারণ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, আলোচনার ‘মুড’ হারালেন আব্দুল্লাহ তাহের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বক্তব্যের ক্রম ও সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহেরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত বক্তা তালিকায় পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য না দেওয়ার ঘোষণাও দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আলোচনার শুরুতে সরকারি দলের চিফ হুইপ বক্তব্যের সময় বণ্টন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারি দলের পক্ষ থেকে দুই সদস্য ও দুই মন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচ বা ছয়জন বক্তা থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করে তিনি সময় বণ্টনের বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।

এ সময় স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণা করলে চিফ হুইপ দাঁড়িয়ে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বক্তব্য দেবেন না; তিনি বিরোধীদলীয় নেতার আগে কথা বলবেন। আর অর্থমন্ত্রী সবশেষে বক্তব্য দিয়ে পুরো আলোচনা উপসংহারে আনবেন।

এরপর স্পিকার বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহেরের নাম ঘোষণা করে তাকে সাত মিনিট সময় দেন। অসুস্থতার কারণে বসে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি পেয়ে তিনি স্পিকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি তো এই সংসদের একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। কিন্তু একটু আগে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্পিকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর সিট থেকে দাঁড়িয়ে আবার সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমি আজ কোনও বক্তব্য রাখব না।’

এর জবাবে স্পিকার বলেন, বক্তব্য দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ সদস্যের নিজস্ব বিষয়। তবে সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ বক্তাদের ক্রমে কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করতে পারেন। তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

পরে আবার মাইক পেয়ে আবু তাহের বলেন, ‘এই চেয়ারটা স্পিকারের। এখানে যে প্রক্রিয়াটি হয়েছে, সেটির সম্পূর্ণ দায় আপনার। যদি আগে কোনও ঘোষণা না দেওয়া হতো, তাহলে আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপনি এটা অনুমোদন দিয়ে আপনার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।’

তিনি ভারতের পার্লামেন্টের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, স্পিকারের ভূমিকা সবসময় নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। একজনের নাম ঘোষণার পর তা পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদে বক্তাদের ক্রম নির্ধারণের ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে। তবে এতে কোনও নিয়মভঙ্গ হয়নি। তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার নির্ধারিত ক্রম ভাঙা হয়নি। উভয় দলের মধ্যে এখনও সহযোগিতার পরিবেশ রয়েছে।’

ভারতের সংসদের উদাহরণের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, সংসদ নেতার কিছু বিশেষাধিকার থাকে। সে কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় বা অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

পরে তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। আমি মনে করি, এ ধরনের ছোটখাটো বিষয় পাশ কাটিয়ে মূল আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে জাতি উপকৃত হবে।’

স্পিকারের ব্যাখ্যা ও অনুরোধের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা আবার বক্তব্য দিতে সম্মত হন। তবে তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু অনুরোধ করেছেন, আমি আপনার অনুরোধ রাখব। তবে আলোচনা করার যে মুড আমার ছিল, সত্যি বলতে আমি সেটা হারিয়ে ফেলেছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ