সরকার পতনের কয়েকটা দিন আছে এখন কিন্তু মাসও নেই : মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১৪, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার পতনের কয়েকটা দিন আছে এখন কিন্তু মাসও নেই : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২০, ২০২৩ ৩:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২০, ২০২৩ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
সরকার পতনের কয়েকটা দিন আছে এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কয়েকটা দিন আছে। এখন কিন্তু মাসও নেই। সেই দিনগুলোতে বুকের মধ্যে সমস্ত সাহস নিয়ে এগোতে হবে। এই ১৫ বছরে আমার হাজারো নেতাকর্মী মেরে ফেলেছে। গুম করেছে। আমাদের ৫০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সরকারি হিসাবে গতকালও ৭৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কৃষি উপকরণ ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি: সরকারের অব্যবস্থাপনা- কৃষক এবং জনগণের নাভিশ্বাস’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে একটা জিনিস আশা জোগাবে, সাহস জোগাবে, দেশের সকল মানুষ এক হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়েছে। বাম ডান সবাই একটা কথাই বলছে, এই সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। হতে পারে না।

‘বিএনপি সন্ত্রাসী দল’ -প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‌‘এখন নতুন সুর শুরু করেছেন বিএনপি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি সন্ত্রাসী দল হলে আপনারা কি? আপনারা তো সন্ত্রাসের বাবা।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে পুরোপুরি সন্ত্রাসের রাজত্ব বানিয়ে দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্র্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নজিরবিহীন। সব দেশেই কিছু কিছু দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যেটা বেড়েছে এটা অবিশ্বাস্য। এর পেছনের মূল কারণ জবাবদিহিহীন সরকার। তাকে কোথাও কোন জবাবদিহি করতে হয় না। ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই করতে পারছে। তাদের দুঃশাসন দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এখন একেবারে মৃত্যবরণ করার মতো অবস্থা হয়ে গেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রজেক্ট অনেক করা হচ্ছে। প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য চুরি করা। এমন চুরি যেটা এক কোটি টাকায় হবে সেটা তিন কোটি টাকা। যেটা ১০ কোটি টাকায় হবে সেটা ২০ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মকর্তা যারা আছেন বেশিরভাগই অসুখি নন বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সবাই (সরকরি কর্মকর্তা) কম না কম প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত। প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত থাকলে পয়সা আসে। অবস্থা এখন এমন সাধারণ মানুষ ডিম কিনতে পারছে না। ডাল কিনতে পারছে না, শাক কিনতে পারছে না কিন্তু নির্বাচনে ঘুষ দেওয়ার জন্য ইউএনও এবং ডিসিদের জন্য ৩৬৫ কোটি টাকা দিয়ে নতুন গাড়ি কেনা হচ্ছে। তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে আলাদা করে। শোনা যাচ্ছে ইতোমধ্যে যারা ডিসি এসপি যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন তাদের কাছে টাকা পৌছে গেছে।

গত ১৫ বছরে এই দেশকে লুটের রাজ্য বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, এটা বর্ণনা করার ভাষা নেই যে কি হারে এরা (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ) লুট করেছে। যে লুটের পরিণতি মানুষের ওপর পড়ছে। প্রতিটি পয়সা আমাদের পকেট থেকে নিয়ে নিচ্ছে। ভ্যান ইনকাম টেক্স, ঋণ করেছে। তার ভারও আমাদের ওপর এসে পড়বে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারকে সরানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‌আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। জনগণের ন্যূনতম অধিকার ফেরত পেতে চাই। দুর্নীতি লুটপাট মগের মুল্লুক এই প্রক্রিয়ায় সবাই জড়িত হয়ে গেছে। সেই মগের মুল্লুক থেকে তো এরা সহজে বের হতে চায় না।

আমাদের কাছে বন্দুক নেই, সবাইক বেরিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণভাবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করছে। আমাদের তো উপায় নেই, আমরা খালি হাতে আছি। আমাদের হাতে তো বন্দুক পিস্তল নেই যে আপনাকে ভয় দেখাব, গ্রেফতার করে নিয়ে আসবো। আপনাকে আমি ডিবিতে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার নির্যাতন করবো। সেই ক্ষমতা তো আমার নেই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমার একটাই ক্ষমতা আছে। মানুষকে সংগঠিত করা, মানুষকে বলা এই অবস্থা থেকে বেরোতে চাইলে মুক্তি পেতে চাইলে কোনো উপায় নেই রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হবে। এই রাস্তায় বেরিয়ে আসাই তো বড় কথা। আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় কি করছে। আপনাকেও রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হবে। সকলকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, খাদ্যদ্রব্য, মানুষের জীবনের মূল্য সবকিছু নির্ভর করছে এই সরকারকে সরানোর উপর। এই সরকারকে সরাতে না পারলে আপনার কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ‘খালেদা জিয়াকে তো ইচ্ছে করে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। তাকে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন কমিশন বানিয়েছে, যার কোনো কিছু ঠিক নেই। তারা বলছে, ‘যদি পরিবেশ অনুকূলে হয়’ তাহলে পরিবেশ অনুকূলে নয়! এখনো অনুকূল হয়নি।” সরকারকে শেষ বারের মতো অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে পদত্যাগ করুন। মানে মানে শান্তিতে আপনারা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারে হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যান। দেশের মানুষকে বাঁচতে দেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুঃশাসন করছে। লুটপাট আর অর্থ পাচার করছে। একজন এমপি ৬৮২ কোটি টাকা ডিল করেছেন। এ নিয়ে দুদক বা কেউ কিছু ব্যবস্থা নেয়নি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। এর পরিবর্তন চাই। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরে যাক। সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুক।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাজমেরি এস এ ইসলাম ও আব্দুস সালাম প্রমুখ। ময়মনসিংহের বাংলাদশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক গোলম হাফিজ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ