সরকার পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম গণমিছিল কর্মসূচির পর উজ্জীবিত বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪২, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম গণমিছিল কর্মসূচির পর উজ্জীবিত বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ৩:২১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ৩:২১ পূর্বাহ্ণ

 

সরকার পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম গণমিছিল কর্মসূচির পর উজ্জীবিত বিএনপি। দেশজুড়ে গণসমাবেশের পর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ধরনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে কৌশলী বিএনপির হাইকমান্ড। যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ১১ জানুয়ারি ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে চার ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে মাঝের সময়টাকে কাজে লাগাতে জেলা পর্যায়ে যাবেন দলের সিনিয়র নেতারা। তারা সেখানে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও পেশাজীবীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এভাবে বিএনপি ঘোষিত সরকার পতনের লক্ষ্যে ১০ দফা এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার পক্ষে জনমত তৈরি করবেন।

এ ছাড়া একই দাবিতে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সমন্বয়ে যুগপতের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিলে আশাবাদী বিএনপি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী গণমিছিলে জনসম্পৃক্ততা ও নেতাকর্মীদের ঢল সবাইকে আশান্বিত করেছে। এই ধারা অব্যাহত রেখে আগামীতে এক দফা আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে আরও মিত্র বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বলেন, আমরা ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবিসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের পক্ষে ১০ দফা ঘোষণা করেছি। ইতোমধ্যে আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিলে অনেক সমমনা দল ও জোট সমর্থন জানিয়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। কারণ ক্ষমতাসীন সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, লুটপাট, নির্যাতন, গণতন্ত্র হরণ আর মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে এদেশের মানুষ কখনো ভালোভাবে নেয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের গণঅবস্থান কর্মসূচিও হবে শান্তিপূর্ণ। আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যারা আসেনি তারাও বিএনপি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, বিগত ১০টি বিভাগীয় গণসমাবেশ ও যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ গণমিছিলের পর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সারাদেশে অব্যাহত হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে রাজপথের কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়ছেই। তৃণমূলে নেতাকর্মীদের এ মনোবল অটুট রাখতে নানাবিধ কৌশল নিয়েছে দলটি। একদিকে রাজপথে সক্রিয় অবস্থানকে মূল্যায়নের আশ্বাস, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে আজীবন থাকার ঘোষণায় আরও বেশি তৎপর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহসম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রত্যেক নেতাকর্মী মামলা-হামলায় জর্জরিত। কর্মসূচিতে সক্রিয় না থাকলেও মামলা থেকে রেহাই নেই। ঘরে থাকলেও গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে, কারাগারে যেতে হচ্ছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বিএনপির আগের কর্মসূচির চেয়ে গণমিছিল সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন স্পট ও সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রত্যেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এবার অনেক বয়স্ক ও সিনিয়র নেতাকেও নির্দিষ্ট রুটে মিছিল নিয়ে যেতে হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতির কারণে তৃণমূল কর্মীরাও কর্মসূচির শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে জুলাই মাসের শেষ থেকে দেশজুড়ে জেলা ও মহানগরে রাজপথের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপি। এরপর ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে একই দাবিতে বিভিন্ন থানায় ১৬টি সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতেও বাধা, হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ১০ সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে ১২ অক্টোবর থেকে গণসমাবেশ শুরু করে দলটি। সর্বশেষ ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরও ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি ঘোষণা করে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে গণমিছিলের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে ওই দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকার কর্মসূচি ৩০ ডিসেম্বর করা হয়।

১০ দফা দাবি আদায়ে প্রথম কর্মসূচিতে রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে বিএনপি ও সমমনা দল এবং জোটগুলো। গত ৩০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিএনপি ছাড়াও সাত দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং এলডিপি ও জামায়াতে ইসলামী এদিন গণমিছিলের আয়োজন করে। রাজধানীর সাত স্পটে এসব দল ও জোটের উদ্যোগে পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিএনপির গণমিছিল নিয়ে শুধু দলের নেতাকর্মী নয় অন্যান্য দলের কর্মীরাও উচ্ছ্বসিত। স্মরণকালের এত বড় মিছিল তারা নিজেরাও দেখেননি বলে জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্মরণকালে সবচেয়ে বড় ও শান্তিপূর্ণ গণমিছিল হয়েছে। এটা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

১১ জানুয়ারি গণঅবস্থান কর্মসূচি

যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি হিসেবে ১১ জানুয়ারি ১০ সাংগঠনিক বিভাগে সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। ওইদিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হবে। একই দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি হবে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতা ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। এ ছাড়া ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় বন্দি খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, প্রীতম দাসসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে আগামী ১১ জানুয়ারি ১০ বিভাগে প্রতিবাদী গণঅবস্থান করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১১ জানুয়ারি বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি হবে জানিয়ে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এ বিষয়ে আজ সভা আছে বলে তিনি জানান।

গণফোরামের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক

এদিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে গণফোরামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা। গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, আবদুল হাসিব চৌধুরী ও আইয়ুব খান ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

পরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আশা করছি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এই সরকারের পতন করে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেব। এই সরকারের উচ্ছিষ্ট ভোগী যেসব দল রয়েছে, তারা ব্যতীত সব দল এই সরকারের পরিবর্তন চায়। একটি নিরপেক্ষ সরকার চেয়ে যার মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরে আসবে এবং যার ভোট সে দিতে পারবে। সে ব্যাপারে আমরা ঐকমত্য হয়েছি।

গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আজ থেকে চলমান আন্দোলনের শরিক হলাম। একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমগ্র জাতিকে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।


 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ