সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় জবানবন্দি দিলেন সাবেক ও বর্তমান ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামিদের ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন- শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বর্তমান সংসদের সরকারদলীয় হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। তারা জানান, শুরুতে দায়ের করা এজাহারে তাদের নাম ছিল না; পরবর্তীতে সম্পূরক অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই জবানবন্দিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।’
এ সব তথ্য জানিয়ে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, মামলার রায় প্রদানের আগে ৩৪২ ধারায় আদালতে আসামি পরীক্ষা করা হয়। এতে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ অন্য আসামিরা স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন আরও জানান, মামলায় উপস্থাপিত ৬৭ জন সাক্ষীর কেউই আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। এ কারণে তারা আশা করছেন, পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পাবেন। ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
এদিকে আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘এই মামলার কারণে তিনি ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করেন।’
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে এসে হাজির হন। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতা-কর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। এই মামলার শুনানির জন্য আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। পরে মামলার শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ