৯৬-র আন্দোলন করলে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে : মেজর ইব্রাহিম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪৫, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

৯৬-র আন্দোলন করলে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে : মেজর ইব্রাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০২২ ৫:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০২২ ৫:৩১ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়রাম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (বীর প্রতীক) বলেছেন, বর্তমান সরকার ও সরকারের লোকেরা বলছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। ১৯৯৬ এর আন্দোলনে বিএনপি তত্বাবধায়ক সরকার দিতে বাধ্য হয়েছে। সেই সময়ের মতো পুনরায় আন্দোলন করতে পারলে পুনরায় তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সমমনা রাজনৈতিক দলসমূহ আয়োজিত ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন। ১৯৯৪ সালে জামায়াত যদি তত্বাবধায়ক আন্দোলন না করতো তাহলে আওয়ামী লীগ এই আন্দোলন করতো কি-না জানিনা। তারা হয়তো সুদূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে এটি করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা না করে তত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবির সাথে একমত ছিল না। যার ফল সেই ব্যবস্থাকে সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। একলা চলো নীতি কখনো সফলতা আনেনা।

মেজর ইব্রাহিম বলেন, দেশের অর্জন উন্নয়ন অবনতির জন্য কোন রাজনৈতিক দল এককভাবে দায়ী নয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ২০২২ সালে এসেও দেশে কোন ক্ষতি হলে তা সকলেরই ক্ষতি হবে। দেশের সম্পদ দেশের ১৮ কোটি জনগণের। ১৮ কোটি জনগণের ক্ষতি করার অধিকার সরকারের নেই। দেশের অর্জনকে রক্ষা করার জন্য দরকার সরকারের পরিবর্তন। সাংবিধানিকভাবে ও আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন হলে ভালো। যখন এভাবে সম্ভব হয়নি তখন অসাংবিধানিকভাবেই হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা আমরা ভালো জানি। আমদানি সরকার ও ধারণা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাই আলোচনা ও সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে শান্তিপূর্ণ নিয়মে সরকার পরিবর্তন করা যায়। এভাবে না হলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা কোনভাবেই কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়। তা হবে সাধারণ মানুষের জন্য আরও কষ্ট ও অশান্তির।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অনেকেই জীবন দিয়েছেন তাদের রক্ত যদি বৃথা যায় তাহলে আমাদের সেই জীবন দেয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। আমরা সফল রক্ত দেয়ার পক্ষপাতি। আমরা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকান্ড পুনরাবৃত্তি যেমন চাইনা, তেমনি একটি সরকারকে দীর্ঘ সময়ের জন্যও চাইনা।

দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, আমি রাজনীতিতে চারটি বিষয়কে খুব প্রাধান্য দেই- ন্যায়, নীতি, নৈতিকতা ও ঐক্য। ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা না করলে কিছুই হবে না। আমরা হতাশ হবো না, আমি আশা করি সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খুব ভালো কিন্তু একজন সৎ নেতার অভাব। সাধারণ মানুষ খুব অনেস্ট কিন্তু রাজনীতিবিদরা নয়। সাধারণ মানুষ যেমন ভালো তাদের যারা নেতৃত্ব দেয় তারা যদি ভালো হতো তাহলে দেশ অনেক ভালো হতো। আমাদের ইউনিটি ছাড়া কোন উপায় নাই। আমার বক্তব্য একটাই ইউনিটি, ইউনিটি এবং ইউনিটি।

মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, সব জায়গা থেকেই এখন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হচ্ছে। এখন পুরা জাতি দ্বিধায় বিভক্ত। আজকে দেশের যে ভয়াবহ অবস্থা তা সম্পর্কে প্রত্যেকটা মানুষই অবগত। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই-ইলাহী নিজে বলেছে দিনের বেলা ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। শিল্প কলকারখানার মালিকরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস না থাকার বিষয়ে সরকারকে তাদের হতাশার কথা বলেছে।

রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র হচ্ছে কিন্তু সেটা যেখানে অবস্থিত তার জায়গা মুসলিম লীগ দিয়েছিল। জাতীয় সংসদ ভবন ও মুসলিম লীগ করেছিল। একটি জাতীয় ঐক্যের জন্য রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন দরকার। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব’রা উদ্যোগ নিবেন এবং আমরা তার সাথে থাকবো।

এ সময় বক্তারা বলেন, সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া হিসেবে প্রমাণ করতে বর্তমান সরকার নানা ষড়যন্ত্র করে চলছে। দেশের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা যখন বলে প্রতিবেশি দেশ আমাদেরকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করবে। এটি নির্ঘাত রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল। দেশের দায়িত্ববান ব্যক্তিরা যখন বলে দেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হবে কিংবা আগামী বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে এই বক্তব্য দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের শামিল।

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। একাদশ সংসদ নির্বাচন যেভাবে দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসন দিয়ে ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে, এর পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক দলসমূহ বর্তমান সরকারের অধীনে ভবিষ্যতে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলেও বক্তারা জানান।

সমমনা রাজনৈতিক দলসমূহের সমন্বয়ক আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’র চেয়ারম্যান কে. এম আবু তাহের, তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জাতীয় লীগের নেতা শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, ছারছিনার পীর মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, সাংবাদিক নেতা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ